গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ বস্তু যা আপনি লাভ করেছেন তা হল ইসলাম। ইসলাম থেকে ফেরানোর জন্য আপনার বিরুদ্ধে যতই চেষ্টা চালানো হোক, আপনি তা পরিত্যাগ করবেন না এবং তাতে কোন ধরণের অবহেলার পরিচয় দিবেন না। ইসলাম দ্বারাই আপনি সম্মানিত হোন।

ইসলামের বিশুদ্ধতা

ইসলামের বিশুদ্ধতা বা সৌন্দর্যকে মুসলমানদের ত্রুটির মাধ্যমে মূল্যায়ন করবেন না। কেননা হতে পারে মুসলিম ব্যক্তি ভুল করছে বা কুরআনের শিক্ষা বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে।

মুসলমানদেরকে ভালবাসা, তাদেরকে সহযোগিতা করা ইসলাম শক্তিশালী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ্‌ বলেন, নিশ্চয় মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। (সূরা হুজুরাত ১০)

• ইসলামের উপর দৃঢ়তা লাভ করতে চাইলে এগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করুন:

১)  বেশী বেশী ইসলামের জ্ঞান অর্জন করুন। কুরআন বুঝার চেষ্টা করুন। ধর্মের যে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে দ্বিধা করবেন না।

২) রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ছাহাবায়ে কেরাম এবং ইসলামী নেতৃবৃন্দের জীবনী পাঠ করুন।

৩) সময়মত ছালাত আদায় করুন। (পুরুষ ব্যক্তি প্রতিটি ছালাত মসজিদে আদায় করবে এবং জুমআর খুতবা ও ছালাতে উপস্থিত হবে।)

৪) সৎ মুসলমানকে সঙ্গী নির্বাচন করুন। তার সাথে বন্ধুত্ব করুন।

৫) আরবী ভাষা শিক্ষার চেষ্টা করুন। কেননা আরবী কুরআনের ভাষা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ভাষা। এর মাধ্যমে ভালভাবে ইসলাম বুঝা যায়।

অন্যকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করে তুলুন

  • ১) ইসলামের বিধি-বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে। ইসলামের প্রতি আপনার অকৃত্রিম ভালবাসা ও তার নির্দেশাবলী বাস্তবায়নের জন্য প্রতিযোগিতা করার মাধ্যমে।
  • ২) অন্যের প্রতি আপনার সৎ আচরণের মাধ্যমে। নিজ কর্মের প্রতি দৃঢ়তার মাধ্যমে। যাতে করে অন্যরা অনুভব করতে পারে ইসলামের প্রভাব আপনার জীবনে কত গভীর।

আপনার মাধ্যমে যারা হেদায়াত লাভ করবে তাদের নেক কর্মের অনুরূপ আপনি প্রতিদান পাবেন। প্রথমে নিজ পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবকে উত্তম পন্থায় ইসলামের পথে আহ্বান করুন। উপযুক্ত কোন বই বা ক্যাসেট তাকে উপহার দিন। আল্লাহ্‌র আনুকুল্য (তাওফীক) পাওয়ার জন্য ও অন্যদের ইসলাম গ্রহণ করার জন্য সর্বদা দুআ করুন।

না জেনে ইসলামের কোন বিষয়ে আপনি কথা বলবেন না। এমনিভাবে জ্ঞান এবং আমানতে বিশ্বস্থ এমন নির্ভরযোগ্য আলেম ছাড়া কারো কাছে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন না।

কাফেরদের ধর্মীয় ঈদ উৎসবে কখনো অংশ গ্রহণ করবেন না। কেননা আপনি মুসলিম। আপনিই শুধু সত্য ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত। বছরে মুসলমানদের খুশির দিন শুধুমাত্র দুটি। ঈদুল ফিতর (চন্দ্র বর্ষের দশম মাসের প্রথম তারিখ) এবং ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ (চন্দ্র বর্ষের দ্বাদশ মাসের দশ তারিখ।)

যে কোন সৎ কাজের সময় আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি এবং প্রতিদান লাভের নিয়ত (উদ্দেশ্য) করুন।

সর্ববিষয়ে আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন। স্মরণ করুন আপনি সর্বদা তাঁরই নিকট অভাবী। আল্লাহ্‌র প্রতিটি অনুগ্রহে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

মনে রাখুন আল্লাহ্‌ আপনার প্রত্যেক অবস্থা ও কর্ম সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন ও অবলোকন করেন। তিনি আপনার উপর ক্ষমতাবান। কোন কিছুই তাঁকে অপারগ করতে পারে না।

ভুল হয়ে গেলেই আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করুন। ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আমার পাপ অনেক তাই তওবা করলে কাজ হবে না- এরূপ কথা বলবেন না। কেননা আল্লাহ্‌র দয়া সুপ্রশস্থ।

সাফল্য চান? ধৈর্য্য Aej¤^b করুন। কেননা পরকালে জাহান্নামের রাস্তা খুবই সহজ। সবাই তাতে যেতে পারে। কিন্তু জান্নাত মুল্যবান বস্তু। জান্নাতে পৌঁছতে চাইলে অবশ্যই ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে এবং নিজ প্রবৃত্তিকে নিবৃত করতে হবে। ধর্মীয় কারণে কেউ আপনাকে কষ্ট দিলে বা আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলে জেনে রাখুন আপনার পূর্বে এধরণের ঘটনার সম্মুখিন হয়েছেন নবীগণ ও সৎ ব্যক্তিগণ। তাঁরা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য্য ধারণ করেছেন। তাঁরা আল্লাহ্‌র শাস্তি ও মানুষের কষ্টকে বরাবর মনে করেননি।


সোশ্যেল মিডিয়া ও জরুরী লিংক

facebook | X | youtube | Books pdf

Upodesh

Leave a Reply