কুরআনকে মাহযুরা করবে কারা? – Quranke Mahjura Korbe Kara?
কুরআনকে মাহযুরা করবে কারা? কুরআনকে ‘মাহযুরা’ (পরিত্যক্ত বা অবহেলিত) করবেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নিজ সম্প্রদায় বা জাতি—এই বিষয়টি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফুরকান (আয়াত ৩০) -এ উল্লেখ করা হয়েছে।
কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর দরবারে এই অভিযোগ করবেন বলে আয়াতে জানানো হয়েছে:
“এবং রাসুল বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জাতি তো এই কুরআনকে পরিত্যক্ত গণ্য করেছিল।’”
কুরআনকে মাহযুরা করবে কারা? জেনে নিন পরকালের ভয়াবহ এই পরিণতি থেকে বাঁচার উপায়
কুরআনকে ‘মাহযুরা’ বা পরিত্যাগ করার ধরন (ইমাম ইবনুল কাইয়িম ও মুফাসসিরদের মতে):
- শ্রবণ ও বিশ্বাস না করা: কুরআন তিলাওয়াতকালে ইচ্ছা করে হৈ-হল্লা করা বা মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং এর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন না করা।
- আমল ত্যাগ করা: শুধু তিলাওয়াত করা, কিন্তু কুরআনের হালাল-হারাম ও নির্দেশ অনুযায়ী ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবন পরিচালনা না করা।
- বিচার ও শাসনকার্য না মানা: জীবন বা রাষ্ট্রের আইন-কানুন ও বিচারব্যবস্থায় কুরআনের ফয়সালা না মেনে অন্য আইনকে প্রাধান্য দেওয়া।
- চিন্তা-গবেষণা (তাদ্দেব) না করা: কুরআন অর্থ বুঝে না পড়া এবং এর পেছনের গভীর শিক্ষা ও তাফসির অনুধাবন করার চেষ্টা না করা।
- চিকিৎসা বা শেফা না খোঁজা: অন্তরের রোগ, হতাশা ও মানসিক সংকটে কুরআন থেকে আরোগ্য বা নির্দেশনা না খুঁজে অন্যকিছুর ওপর নির্ভর করা।
১. শ্রবণ ও বিশ্বাস না করা
কুরআন তিলাওয়াতকালে ইচ্ছা করে হৈ-হল্লা করা, কথা বলা বা মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং এর প্রতিটি বিধান ও বার্তাকে পূর্ণ অন্তরে বিশ্বাস না করা কুরআনকে অবমূল্যায়ন করার শামिल। অথচ কুরআন শোনার সময় চুপ থাকা এবং মনোযোগ দেওয়া আল্লাহর নির্দেশ।
২. আমল ও বাস্তবায়ন ত্যাগ করা
অনেকেই কুরআন তিলাওয়াত করেন, সওয়াবও হাসিল করেন; কিন্তু নিজ ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কুরআনের হালাল-হারাম ও নির্দেশমালা মেনে চলেন না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে প্রবৃত্তি বা মানবীয় আইনকে প্রাধান্য দেওয়াও একপ্রকার কুরআনকে পরিত্যাগ করা।
৩. বিচার ও শাসনকার্য না মানা
সামাজিক জীবন, বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন পরিচালনার ক্ষেত্রে কুরআনের ফয়সালা বা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না মেনে অন্য কোনো মানবসৃষ্ট মতবাদ বা আইনকে বড় করে দেখা বা প্রাধান্য দেওয়া।
৪. চিন্তা-গবেষণা (তাদ্দেব) না করা
কুরআনুল কারীম কেবল অন্ধভাবে তিলাওয়াত করার জন্য অবতীর্ণ হয়নি; বরং এর অর্থ, অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এবং গভীর শিক্ষা অনুধাবন করার জন্য তা নাযিল হয়েছে। কুরআন বুঝে না পড়া এবং এর তাফসির ও পেছনের শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করার চেষ্টা না করাও কুরআনকে ‘মাহযুরা’ করার অন্তর্ভুক্ত।
৫. শেফা বা আধ্যাত্মিক চিকিৎসা না খোঁজা
আল্লাহ তাআলা কুরআনকে মানুষের অন্তরের রোগ, মানসিক হতাশা, অজ্ঞতা ও আত্মিক সংকটের ‘শেফা’ বা আরোগ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু মানুষের জীবনের কোনো হতাশা বা সংকটে কুরআন থেকে সমাধান বা সান্ত্বনা না খুঁজে সম্পূর্ণ অন্যকিছুর ওপর নির্ভর করা বা কুরআনকে অবহেলা করাও এর একটি দিক।
উপসংহার: কুরআনকে কেবল তেলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, এর অর্থ অনুধাবন করে ব্যক্তিগত ও বাস্তব জীবনে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করাই হলো কুরআনকে আঁকড়ে ধরা। অন্যথায় কিয়ামতের দিন নবীজির অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।
আপনি চাইলে এই কনটেন্টটি কপি করে বা আপনার মতো একটু পরিমার্জন করে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস পোস্টের মূল বডিতে যুক্ত করতে পারেন।
কুরআনকে মাহযুরা করবে কারা?

কুরআনকে মাহযুরা করবে কারা
- PDF বই ডাউনলোড করতে ভিসিট করুন সালফিবিডি
- আমাদের সাইটকে উন্নত করতে আমাদের সাথে দাওয়াতি কাজে যুক্ত হবে যোগাযোগ করুন!