সূরা ফাতিহা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য – Sura Fatiha Somporke Bistarito Tottho
সূরা ফাতিহা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য – আল-কুরআনের প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূরা হলো সূরা ফাতিহা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অন্যতম মূল বিষয়। এটি পুরো কুরআনের মূল সারসংক্ষেপ এবং এটিকে কুরআনের ‘দরজা’ বা সূচনা বলা হয়। নিচে সূরা ফাতিহা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. সূরা ফাতিহা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য – (সাধারণ পরিচিতি)
- নাম: আল-ফাতিহা (আরবি: الفاتحة)। ‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ হলো— ‘উদ্বোধক’, ‘সূচনা’ বা ‘প্রস্তাবনা’। যেহেতু এই সূরা দিয়ে সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন শুরু হয়েছে, তাই এর এই নামকরণ করা হয়েছে।
- অন্যান্য নাম: এই সূরার আরও বেশ কিছু নাম রয়েছে, যেমন:
- উম্মুল কুরআন (কুরআনের জননী)
- উম্মুল কিতাব (কিতাবের মূল ভিত্তি)
- আস-সাবউল মাসানি (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত)
- শাফিয়া (আরোগ্যকারী)
- রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক বা নিরাময়কারী)
- অবতরণ স্থল: মাক্কী (বেশিরভাগ মুফাসসিরের মতে এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, তবে কিছু বর্ণনা অনুযায়ী এটি মদিনায়ও অবতীর্ণ হতে পারে)।
- আয়াত সংখ্যা: ৭টি।
- রুকু সংখ্যা: ১টি।
- প্যারা/যুজ: ১ম পারা (শুরুতেই)।
২. আরবি পাঠ ও উচ্চারণ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
১. الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
২. الرَّহْمَٰنِ الرَّحِيمِ
৩. مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
৪. إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
৫. اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
৬. صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।
১. আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।
২. আররহমানির রাহিম।
৩. মালিকি ইয়াউমিদ্দিন।
৪. ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন।
৫. ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম।
৬. সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লিন।
৩. বাংলা অনুবাদ (অর্থ)
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু।
১. সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
২. যিনি পরম দয়ালু, অসীম দয়ালু।
৩. যিনি বিচারদিনের মালিক।
৪. আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
৫. আমাদের সরল পথ দেখাও—
৬. সে সমস্ত লোকের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন;
৭. তাদের পথ নয়, যাদের ওপর আপনার গজব نازিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (আমিন)
৪. সংক্ষিপ্ত তাফসির ও ভাবার্থ
- ১ম থেকে ৩য় আয়াত (প্রশংসা ও গুণগান): এই আয়াতগুলোতে বান্দা তার রবের বড়ত্ব, দয়া এবং পরকালের ক্ষমতার কথা স্বীকার করে আল্লাহর প্রশংসা করে।
- ৪র্থ আয়াত (একত্ববাদ ও নির্ভরতা): “আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই”—এটি পুরো দ্বীনের মূল নির্যাস। এখানে শিরক থেকে মুক্ত হয়ে খাঁটি তাওহীদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- ৫ম থেকে ৭ম আয়াত (দোয়া ও প্রার্থনা): বান্দা আল্লাহর কাছে হেদায়েত (সঠিক পথ) ভিক্ষা চাচ্ছে। নবী-সিদ্দীক ও সৎকর্মশীলদের দেখানো পথে চলার তৌফিক চাচ্ছে এবং অভিশপ্ত (ইহুদি) ও পথভ্রষ্টদের (খ্রিস্টান বা گمراہ) পথ থেকে দূরে থাকার জন্য প্রার্থনা করছে।
৫. ফযিলত ও গুরুত্ব
- নামাজের অপরিহার্য অংশ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার নামাজই হয় না।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। অর্থাৎ, ফরজ বা নফল যেকোনো নামাজের প্রতি রাকাতেই সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব।
- শ্রেষ্ঠ সূরা: নবীজি (সা.) হযরত আবু সাঈদ ইব্নুল মুআল্লা (রা.) কে বলেছেন, কুরআন মাজিদের সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ সূরা হলো এটি।
- আরোগ্য ও বরকত: এই সূরাটিকে ‘শিফা’ বা আরোগ্যকারী হিসেবেও পড়া হয়। যেকোনো রোগ বা বিপদে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে এটি পাঠ করা সুন্নাহসম্মত।
