জানাযার ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার বিধান কি?
সূরা ফাতিহা পাঠ ছালাতের একটি রুকন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়ে না, তার ছালাত হয় না।[1]
এক্ষেত্রে জানাযার ছালাত এবং অন্য ছালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা জানাযাও এক প্রকার ছালাত। সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ ঘোষণা, ‘যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়বে না, তার ছালাত হবে না’ জানাযার ছালাতকেও অন্তর্ভুক্ত করবে।
- ইমাম বুখারী উবাদাহ ইবনে ছামিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেন, ‘আযান’ অধ্যায়, হা/৭৫৬; মুসলিম, ‘ছালাত’ অধ্যায়, হা/৩৯৪। ↩︎
- শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন রহ.
জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের বিষয়ে ইসলামি আলেম ও ফিকহবিদদের মধ্যে দুটি প্রধান মতামত রয়েছে
প্রথম মত (পড়া আবশ্যক বা উত্তম)
- ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) এবং আহলে হাদিস বা সালাফি গবেষকদের মতে, জানাযার সালাতেও সূরা ফাতিহা পড়া জরুরি বা ওয়াজিব।
- তাদের দলিল হলো সাধারণ হাদিস, যেখানে বলা হয়েছে যে সূরা ফাতিহা ছাড়া কোনো সালাত হয় না। বিখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়ার বর্ণনা রয়েছে।
দ্বিতীয় মত (পড়া জরুরি নয় বা মাকরূহ/নিয়মবহির্ভূত)
- হানাফি ও মালেকি মাজহাব এবং অধিকাংশ প্রবীণ তাবেয়ীর মতে, জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়তে হয় না।
- তাদের মতে, জানাযা হলো মূলত মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, সানা (প্রশংসা) ও দরূদ পাঠের জায়গা, এখানে নিয়মিত কিরাত বা সূরা মেলানোর বিধান নেই। তারা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ও অন্যান্য সাহাবীদের আমলকে এর ভিত্তি হিসেবে ধরে থাকেন
