শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

৭ম এবং ৮ম সপ্তাহ: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

সপ্তাহ সাত এবং আটের মধ্যে, আপনার বাচ্চার মাথা গোটা ভ্রুণের প্রায় তিন ভাগের একভাগ সাইজের হয়ে যায় । তার মস্তিষ্ক ও মুখমন্ডল দ্রুত বিকশিত হতে থাকে, এবং নাসারন্ধ্র ও অক্ষিকাচের গঠন হওয়া শুরু হয় । বাহু বা ‘আর্ম বাড’ বৈঠার-আকৃতি ধারণ করে; পুরোবান্থ(Forearm) গঠিত হতে থাকে ।
হাত ও পায়ের আঙ্গুল লিপ্তপদাঙ্গুলি রূপে গঠন হওয়া শুরু করে ।
সপ্তাহ ৭


আপনার শিশু এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এখন তার ‘লিম্ব বাড’ দেখলে বুঝতে পারা যাবে যে সেগুলি পরে হাত ও পায়ের আকার ধারণ করবে । শিশুর শরীরের অনেক অংশের বিকাশ হতে থাকে যেমন, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, অন্ত্র, বৃহদন্ত্রের উপাঙ্গ, মস্তিষ্ক, সুষুম্না, নাক, চোখ, মুখমন্ডল ইত্যাদি ।

আপনাকে দেখে এখনও গর্ভাবতী মনে না হলেও, আপনি এখন আপনার শরীরের পরিবর্তনগুলি অনুভব করতে পারবেন । আপনার মর্নিং সিকনেস এখনও হতে পারে এবং আপনার স্তনে এখনও শিরশিরানি ও হাল্কা ব্যাথা হতে পারে ।

সপ্তম সপ্তাহের জন্য পরামর্শ


কখনোই একদম খালি পেটে থাকবেন না – খালি পেটে বমি বমি ভাব উদ্রেক হবে । হাতের কাছে সবসময় কিছু হাল্কা খাবার রাখুন, এবং দিনে তিনবারের (ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার) বদলে অল্প পরিমাণে বারবার খাবার খান । ব্লাড সুগার লেভেল যাতে ড্রপ না করে তার জন্য কিছু প্রোটিন-যুক্ত খাবার যেমন পণির, চীজ় দিয়ে বিস্কুট খেতে পারেন ।

এইসময় আপনার জরায়ুর উপর শ্লৈষ্মিক পদার্থ পুরু হয়ে একটি রোধনী সৃষ্টি করে যেটা আপনার জরায়ুকে আপনি প্রসব না করা পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখে । প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলার শরীর কিছুটা ভিন্ন গতিতে বদলায় । যদি আপনি আগে একবার সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন তাহলে প্রথমবারের তুলনায় এবার একটু আগে থেকেই আপনাকে দেখলে বোঝা যাবে যে আপনি অন্তঃসত্ত্বা । আপনি ক্লান্ত, খিটখিটে এবং খামখেয়ালী বোধ করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন । উপসর্গের অভাব মানে এই নয় যে আপনার শরীর বা শিশুর বৃদ্ধির মধ্য কোনো গন্ডগোল আছে ।

সপ্তম সপ্তাহের জন্য যত্ন


আপনি যদি চাকুরীজীবি হন তাহলে প্রথম তিনমাসে পার হওয়ার আগেই আপনার কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করে জেনে নিন যে প্রসূতিমায়েরা কতদিনের ছুটি পেতে পারেন এবং তা বৈতনিক, অবৈতনিক বা উভয়ের সংমিশ্রণ হবে কিনা ।

সপ্তাহ ৮


আপনার শিশু এখন তার বিকাশের প্রায় ষষ্ঠ সপ্তাহে পৌঁছে গেছে । এই সপ্তাহটি হল বৃদ্ধির জন্য একটি বড় সময় । আপনার শিশুর নেত্রপল্লবের ভাঁজ ও কানের গঠন শুরু হয়ে গেছে। হাত এবং পায়ের ছোট্ট ছোট্ট আঙ্গুল যা এখন হাঁসের পায়ের মতো দেখতে, সেগুলির বিকাশ হচ্ছে এবং সে আপনার গর্ভে সাঁতারও কাটতে শুরু করেছে ।

অষ্ঠম সপ্তাহের জন্য পরামর্শ


যদি আপনার বমি বমি ভাব (ওরফে মর্নিং সিকনেস) শুরু হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে সেটি সম্ভবত গর্ভধারণের জন্যই হচ্ছে । যদিও গবেষকরা এর সঠিক কারণ এখনও জানেন না, তবে এটা নিশ্চিত যে এই উপসর্গ আপনার উদ্বেলিত হরমোনের কারণেই হচ্ছে ।

এই পর্যায়ে, আপনার শ্রোণীচক্রের দুপাশে তীব্র ব্যথা হওয়াটা একটি সাধারণ ব্যাপার; বিশেষত আপনি যখন বাঁকছেন বা কিছুক্ষণের জন্য বসার পর উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন । যেহেতু আপনার জরায়ু ভারী হয়ে উঠছে, তাই আপনার বৃত্তাকার সন্ধিবন্ধনী, যা এমন পেশী যেগুলি আপনার জরায়ুকে তার নিজের জায়গায় ধরে রাখে, তার উপর চাপ সৃষ্টি করছে । এই সময়ে গোলাপী বা খয়েরী স্রাব হওয়া বিরল নয় । কিন্তু যদি রক্ত উজ্জ্বল লাল, ভারী, বা জমাট বাঁধা হয় তাহলে অবিলম্বে আপনার চিকিৎসককে জানান ।

গর্ভাবস্থায় রক্তপাত হওয়া, বিশেষতঃ
প্রথম তিনমাসের মধ্য, একটি মোটামুটি প্রচলিত ব্যাপার । বস্তুত, গর্ভাবস্থার প্রথম ১৩ সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ২৫% নারী হাল্কা স্পটিং বা ভারী রক্তক্ষরণ অনুভব করেন এবং তাঁদের মধ্যে অর্ধেক বেশী মহিলা পুরোপুরি সুস্থ শিশু জন্ম দিতে সক্ষম হন ।

অষ্টম সপ্তাহের জন্য যত্ন
পরিমাণ মতো পানি খাওয়ার ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন । আপনার শিশু যাতে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে তার জন্য সমস্ত খারাপ অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন । সঙ্গীত মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে, প্রতিদিন এমন গান শুনুন যা আপনার মেজাজ উন্নমিত করতে সাহায্য করবে ।

Leave a Reply

Close Menu