শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সপ্তাহ ৩৯: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

৩৯তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

গর্ভের শিশু
যদিও আমরা বার বারই বলে যাচ্ছি যে শেষ দিকে এসে আপনার জরায়ুতে আর জায়গা অবশিষ্ট থাকবেনা, আপনার শিশুটি তবুও এর মধ্যেই বাড়তে বাড়তে এ সপ্তাহ নাগাদ একটা বড়সড় তরমুজের সমান হয়ে যাবে। শিশুটির ফুসফুসের সীমানায় এখন সারফাকটেন্ট (surfactant) পূর্ণ থাকবে। এই পদার্থটি নবজাতক শিশুকে জন্মের পড় শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ফুসফুসকে প্রশস্ত হতে সাহায্য করবে।

শিশুটি এখন আগের চেয়ে অনেক সবল হবে এবং তার হাড়ও এতদিনে শক্ত (ossified ) হয়ে যাবে। জন্মের পর শিশুটি যখন তার ছোট্ট মুঠি দিয়ে আপনার একটা আঙ্গুল ধরে রাখবে এবং সহজে ছাড়বে না, তখনই আপনি তার শক্তি টের পেয়ে যাবেন। মস্তিষ্ক এখনো নতুন নতুন স্নায়বিক সংযোগ (neural connection) ঘটাতে থাকবে, এবং জন্মের কয়েক মাস পর্যন্তও এটা চলতেই থাকবে।

সব ঠিক থাকলে এ সপ্তাহের শেষ নাগাদই শিশুটি আপনার কোল জুড়ে থাকবে। কিংবা আপনাকে হয়তো আরেকটু সময় অপেক্ষা করতে হবে। মাত্র ৫% ক্ষেত্রে একদম সম্ভাব্য তারিখেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।

গর্ভবতী মা
এখন সবাই একবার করে হলেও আপনার পেট ধরে বাচ্চার অস্তিত্ব বুঝতে চাইবে আর এই প্রশ্নও আপনাকে বার বার শুনতে হবে যে ‘বাচ্চা কবে হচ্ছে?’ । এই পর্যায়ে এসে যে কোনো সময়ই আপনার বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয়ে যেতে পারে। আর আপনার পেঙ্গুইনের মতো হাঁটা দেখে আশেপাশের মানুষ তো ‘ এভাবে না’ ‘ওভাবে না’ এসব বলতেই থাকবে।

ঘরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত হেঁটে আসতেই যদি মনে হয় দম ফেটে যাচ্ছে, তাতে আতঙ্কিত হবার কিছুই নেই। আপনার বিশাল জরায়ু এখন জায়গার অভাবে শ্বাসঝিল্লীতে (diaphram) চাপ দেবে, ফলে অল্পতেই আপনি হাঁপিয়ে উঠবেন আর দম বন্ধ হবার মতো অনুভূতি হবে।

জরায়ুর পেশী সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে মানেই যে এটা প্রসব যন্ত্রণা শুরু নয়, সে পার্থক্যটা বুঝতে হবে। আপনার পেটের সামনে থেকে শুরু হয়ে পেছন পর্যন্ত গিয়ে যদি সঙ্কোচনের মতো মৃদু ব্যথা শেষ হয়,তার মানে এটা প্রসব যন্ত্রণা নয়। আপনি যে ভঙ্গিতে বসে থাকবেন বা শুয়ে থাকবেন তা পাল্টে ভিন্ন কোনো ভঙ্গি করে নিলেই হয়তো আরাম পাবেন। এবং আসল প্রসব যন্ত্রণা শুরু হবার আগের এই সঙ্কোচন কিন্তু নিয়মমাফিক কোনো সময় ধরে হবে না। কিন্তু যখন সত্যি সত্যি আপনার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হবে তখন একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর এই সঙ্কোচন হবে, কিছুক্ষণ থাকবে, তারপর আবার মিলিয়ে যাবে। এই অবস্থা থেকে আস্তে আস্তে সঙ্কোচনের মাত্রা এবং স্থায়িত্ব বাড়তে থাকবে এবং একসময় আসল প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়ে যাবে।

বেশিরভাগ ডাক্তারই ঐচ্ছিকভাবে প্রসব বেদনা ( induced labour) শুরু হবার জন্য ইনজেকশন দেবার আগে ১০/১৪ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। যদি এটা আপনার প্রথম সন্তান হয় তাহলে হয়তো প্রসবযন্ত্রণা দীর্ঘায়িত এবং শ্লথ গতির হবে। এ পর্যায়ে এসে আপনি নিশ্চয়ই যৌন মিলনের কথা ভাববেনই না। কিন্তু প্রসব যন্ত্রণাকে তরান্বিত করার জন্য এটাও একটা উপায় হতে পারে।

কিছু পরামর্শ
“দুপুরে লম্বা সময় ঘুমালে রাতে ঘুম না হওয়ার সমস্যা আরও প্রকট হয়ে যেতো। সে কারণে দিনে আমি ৩০-৪৫ মিনিটের বেশি ঘুমাতাম না। উল্টো, দুপুরের পরে আমি একটু সময়ের জন্য হাঁটতে বের হতাম।” – অজ্ঞাতনামা

যেসব বিষয়ে ভাবতে হবে
আকিকা বা বাচ্চার নাম রাখার অনুষ্ঠান কি? কোন অসুস্থতাগুলো সহজে গর্ভের শিশুকে প্রভাবিত করতে পারে? বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কোন ওষুধগুলো খাওয়া যাবে, আর কোনগুলো খাওয়া যাবে না? যমজ বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়াবেন কীভাবে? বুকের দুধ খাওয়ালে খালি যে বাচ্চারই উপকার হয় তা নয়, মায়ের শরীরেও এর অনেক উপকারী প্রভাব পড়ে। বুকের দুধ খাওয়ানো কীভাবে মায়ের উপকার করে?

আল্লাহই ভাল জানেন

Leave a Reply

Close Menu