শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সপ্তাহ ৩৮: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

৩৮তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

গর্ভের শিশু
এ সপ্তাহে আপনার গর্ভের শিশুটি একটা মিষ্টিকুমড়ার মতোই বড়সড় হয়ে উঠবে। এখন তার ওজন হবে প্রায় ৬-৯ পাউন্ড আর তার মাথা আর পেটের পরিধিও সমান হবে। অনেক নবজাতকের মাথায়ই জন্মের সময় ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি লম্বা চুল থাকে, আবার অনেক শিশুর মাথায় চুলই থাকে না।

শিশুটির শরীরে এখন চর্বির স্তর পুরু হবে এবং তার ওজনও বাড়তে থাকবে। পেটের ভেতর জায়গা কমে যাবার কারণে এখন আর সে আগের মতো নড়াচড়া করতে পারবে না। তবে আপনার যদি মনে হয় শিশুটি একদমই নড়ছে না, তাহলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

শিশুটি ভূমিষ্ঠ হবার আগে শেষ সপ্তাহগুলোতে তার মাথা শ্রোণীচক্র বরাবর নেমে আসতে পারে এবং এটাকে বলা হয় ‘নিযুক্তি’ ( engaged) । তবে কখনো কখনো প্রসব বেদনা শুরু হবার আগে এই নিযুক্তি ঘটে না।

গর্ভবতী মা
এমন হতে পারে যে এটাই আপনার গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহ! এ সপ্তাহেই ডাক্তারের সাথে শেষবারের মতো আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকবে, যদি না সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে আরেকটু দেরি হয়। ডাক্তারের কাছে যা যা প্রশ্ন করতে চান সব আগেই কাগজে লিখে রাখুন যাতে কোনো একটা প্রশ্ন ভুলে যাবার কারণে বাদ না পড়ে। হাসপাতালে পৌঁছানোর রাস্তাগুলোয় দিনের বিভিন্ন সময় টেস্ট ড্রাইভ দিয়ে আসতে পারেন, যাতে করে আগে থেকেই জানা থাকে কখন কোন রাস্তায় গেলে সময় কম লাগবে, এঁর কোন রাস্তায় একেবারেই যাওয়া যাবে না। যদি এটা আপনার প্রথম গর্ভধারণ হয়, তাহলে সন্তান প্রসবের সময়গুলোতে সাথে থাকার জন্য স্বামী ছাড়াও আরেকজন কাউকে সাথে রাখুন। হয়তো দেখা যাবে আপনার চাইতে আপনার স্বামীই বেশি নার্ভাস হয়ে পড়েছেন। তাকে সামলানোর জন্যও তো কাউকে চাই!

এখন আপনাকে দেখতে যেমন বিশাল লাগবে, তেমনি আপনার নিজেরও নিজেকে বিশালবপু বলে মনে হবে। আপনি চলার সময় সবসময় সামনে এগিয়ে থাকবে আপনার বিশাল ‘গর্ভবতী’ পেট। শোয়ার জন্য একটা আরামদায়ক ভঙ্গী পাওয়া এখন নিতান্তই অসম্ভব ব্যাপার বলে মনে হবে। চিত হয়ে শোয়ার তো কোনো উপায়ই নেই। কারণ সোজা হয়ে শোবার কারণে আপনার প্রধান রক্তনালীগুলোর (vena cava) ওপর ভারী জরায়ুর চাপ পড়বে, তাতে করে দেহের রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হবে।

ইতিমধ্যে আপনার স্তনদ্বয়ে colostrum উৎপাদিত হয়ে যাবে। আপনার স্তনদ্বয় ভারী আর অস্বস্তিদায়ক লাগে ঠিকই, কিন্তু একই সাথে নবজাতকের পুষ্টির যোগানের জন্যও তারা প্রস্তুত হয়ে যাবে। Braxton Hicks Contaction এর স্থায়িত্ব এখন আগের চেয়ে বেশি হবে এবং আপনাকে আরো অস্বস্তিতে ফেলবে। যদি দেখেন যে যোনিপথ দিয়ে মিউকাস প্লাগ ( Mucus Plug, রক্ত ও স্রাবের একটি চাকা) বের হচ্ছে, তাহলে ধরে নিতে পারেন যে প্রসব যন্ত্রণা শুরু হবার পূর্ব লক্ষণ। এসময় আপনি অবশ্যই সুস্থ এবং রোগমুক্ত থাকতে চাইবেন, আর সেজন্য আপনাকে অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। যদি পা ফুলে গোড়ালি আর বিশালকায় হয়ে ওঠা পায়ের পাতা মিশে যায়, তাতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর ডিউরেসিস ( duresis, অতিরিক্ত মূত্র উৎপাদন) আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত ফ্লুয়িড বের করে নেবে।

কিছু পরামর্শ
” জন্মের পর থেকে আমার শিশুর চেহারা অনেক বদলে গেছে। ফলে জন্মের পর পরই সবাই যদি বলতে থাকে ‘ বাচ্চা তো বাবার মতো হয়েছে!’ তাতে আপনার দুঃখ পাবার কিছু নেই। কারণ বড় হবার পর তার চেহারা আপনার মতো হয়ে যেতে পারে! আমার সন্তানের ক্ষেত্রে অন্তত তাই হয়েছে।” – তাসফিয়া

যেসব বিষয়ে ভাবতে হবে
অভিভাবকেরা কোন প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি করেন? আর কোন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিগুলোতে আপনার বাচ্চাকে অবশ্যই নিয়ে যাবেন? এখনও যদি বাচ্চার কোনো নাম ঠিক না করেন তাহলে আমাদের নামের তালিকা থেকে একটি নাম বাছাই করে নিতে পারেন। আপন যে মাতৃসদনে সন্তান প্রসবের জন্য যাবেন, সেখানে নবজাতকের পরিচর্যার সব সুবিধা আছে কি না জেনে নিয়েছেন তো?

আল্লাহই ভাল জানেন

Leave a Reply

Close Menu