শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সপ্তাহ ৩৭: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

৩৭তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

গর্ভের শিশু
এ সপ্তাহে আপনার গর্ভের শিশুটির আকার হবে একটি চালকুমড়ার সমান এবং এখন থেকে প্রতিদিন সে আধা আউন্স করে বাড়বে। শিশুটি এখন সফলভাবে শ্বাস গ্রহণ ও নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারবে। যদিও তার ফুসফুস এখন যথেষ্ট পরিপক্ব, তারপরও শিশুটি আরও ক’দিন মায়ের পেটে থাকলে তার শ্বাসযন্ত্রটির পরিপূর্ণ বিকাশ সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

যে নরম চুলের স্তর (Lanugo) এতদিন শিশুটির দেহ আবৃত করে রেখেছিলো, তা এখন প্রায় মিলিয়েই যাবে বলা যায়। দেহের ত্বককে সুরক্ষিত করে রাখা সাদা, পিচ্ছিল পদার্থটিও (Vernix Caseosa) আস্তে আস্তে পরিষ্কার হয়ে যেতে থাকবে। তবে জন্মের সময় শিশুটির গায়ে এই পদার্থ কিছুটা লেগে থাকবে।

এ সপ্তাহে শিশুটি প্রথমবারের মতো অন্ত্রের (intestine) ক্রিয়া হিসেবে মল ত্যাগ করবে। গর্ভের শিশুর এই মলকে বলা হয় মেকোনিয়াম (Meconium) । এটা একধরনের গাঢ় সবুজ বর্ণের আঠালো পদার্থ যা শিশুটি ভূমিষ্ঠ হবার পরবর্তী ২/৩ দিন পর্যন্ত মল হিসেবে বের হয়। পেটে থাকা অবস্থায় শিশুটি মুখ দিয়ে যা যা গ্রহণ করবে ( যেমন, অ্যামনিওটিক তরল, লানুগো, মিউকাস ইত্যাদি) তার সবকিছু মিলিয়েই এই মেকোনিয়াম তৈরি হয়। মেকোনিয়াম যদি অ্যামনিওটিক তরলে মিশে যায় এবং সেখান থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যদি শিশুর ফুসফুসে গিয়ে ঢোকে তাতে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় Meconium Aspiration Syndrome । মায়ের প্রসব বেদনাকালীন জটিলতার কারণে শিশু যখন নাজুক অবস্থায় থাকে সাধারণত তখন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরকম হলে ডাক্তার তৎক্ষণাৎ জরুরি ভিত্তিতে সন্তান প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

গর্ভবতী মা
যদি আপনি প্রথমবারের মতো গর্ভধারণ করে থাকেন, তাহলে ৩৭ তম সপ্তাহে এসে আপনি একটু হলেও আরাম বোধ করবেন। কারণ এতদিনে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হবার জন্য একেবারে প্রস্তুত হয়ে গেছে এবং নিচের দিকে নেমে এসেছে। তবে, শিশুটির নিম্মমুখী অবস্থানের কারণে এখন আপনার তলপেটের ওপর চাপ বাড়বে। যদি এটা আপনার প্রথম গর্ভধারণ না হয় তাহলে শিশুটি আরও কয়েকদিন পর নিচের দিকে নামবে।

পরিপাক তন্ত্রের (Digestive system) ওপর চাপ বাড়ার কারণে আপনার বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা আরও অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। বুক জ্বালাপোড়ার সাথে সাথে আপনার সঙ্কোচনের মতো অনুভূতিও হতে পারে। আপনার যদি মনে হয় যে প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেছে, তাহলে নিশ্চিত হবার জন্য ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন। যেহেতু শিশুটি এখন শ্রোণীচক্রের (pelvis) একদম ওপরে অবস্থান করছে, আবারো আপানর মুত্রথলির (bladder) ওপর চাপ বাড়বে এবং প্রচণ্ড চাপের কারণে মুত্রথলি এখন খুব বেশি পরিমাণ প্রস্রাব ধরে রাখতে পারবে না। ফলে, এখন একটু পর পরই আপনাকে বাথরুমে যেতে হবে।

কিছু পরামর্শ
” আমি বিছানার কাভারের নিচে একটা ম্যাট্রেস (Mattress) দিয়ে রেখেছিলাম, যাতে ঘুমানোর সময় পানি ভাঙলে অন্তত বিছানা নষ্ট না হয়। কি হয়েছিলো ভাবুন তো! সত্যি সত্যিই রাতে ঘুমের মধ্যেই আমার পানি ভাঙ্গে! ” – দিবা

যেসব বিষয়ে ভাবতে হবে
বাচ্চার কান্না থামাবেন কিভাবে? বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য কি করতে পারেন? আপনি কি জানেন, বাচ্চা হবার পরের এক বছরে একজন মায়ের প্রায় ৭০০ ঘণ্টার ঘুম জমে যায়? সন্তান হবার পর নিদ্রাহীনতা নিয়ে আরও পড়ুন .

আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন।

Leave a Reply

Close Menu