শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সপ্তাহ ৩৬: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

৩৬তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

গর্ভের শিশু
আপনার গর্ভাবস্থায় আরও এক মাস বাকি থাকতেই শিশুটির ওজন হবে প্রায় ৬ পাউন্ডের মতো (একটা বড়সড় হানিডিউ ফলের কথা ভাবুন!) এবং এখন থেকে প্রতিদিনই সে এক আউন্স করে বাড়বে ।

ভারনিক্স (Vernix, শিশুটির ত্বককে আবৃত করে রাখা সাদা , তৈলাক্ত পদার্থ ) এবং লানুগো (lanugo, শিশুটির ত্বকের উপর নরম লোমের স্তর) ইতিমধ্যে মিলিয়ে যেতে শুরু করবে। তার রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ( circulatory system) এবং রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া (immune system) ইতিমধ্যে কাজ শুরু করবে। তবে তার বৃক্ক (kidney) এবং যকৃত (liver) এখনো বহিঃ জগতে কাজ করার উপযোগী হয়ে উঠবে না ।

তার অন্ত্র (intestine) এখন মেকোনিয়াম (meconium) নামে কালচে সবুজ আঠালো পদার্থ তৈরি করবে। জন্মের পর প্রথম কয়েকদিন সে মল হিসেবে এই পদার্থ ত্যাগ করবে । যখন শিশুটি পেটে থাকা অবস্থায় অ্যামনিওটিক তরল গিলে তখনই এই পদার্থ আস্তে আস্তে তৈরি হতে থাকে । প্রসব বেদনার সময় মায়ের যদি সমস্যা হয় তাহলে শিশুটি এই মেকোনিয়াম জরায়ুর ভেতরেই বের করা শুরু করে দিতে পারে। যা অবশ্যই খারাপ লক্ষন। যদি আপনার পানি ভেঙে যায় এবং আপনি দেখেন যে পানির মধ্যে সবজেটে ভাব রয়েছে , তাহলে সাথে সাথে ডাক্তারকে জানাতে হবে।

গর্ভবতী মা
৩৬ সপ্তাহের মাথায় এসে আপনাকে যে কোনো সময় প্রসব যন্ত্রণার জন্য তৈরি থাকতে হবে। ফলে প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বারগুলো (যেমন স্বামী, মা, বোন ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস) হাতের কাছেই আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

পেটের ভেতর প্রচণ্ড চাপের কারনে খাওয়াদাওয়া করাটাই হয়তো আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে । অল্প অল্প করে একাধিকবার খান।

এখন ঘুমানটাও হয়তো অসম্ভব একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। কাত হয়ে শোন আর সব দিকেই বালিশ আর কুশন দিয়ে সাপোর্ট দিয়ে নিন। প্রসবের প্রস্ততি হিসেব এখন থেকেই আপনার শ্রোণীচক্রের সংযুক্তি (pelvic joint) আর পেশিগুলো শিথিল হতে শুরু করবে যার কারনে নিতম্ব আর পায়ের গোড়ালিতে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে।

এসময় Braxton Hicks contraction এর মাত্রা বাড়বে কিন্তু সেটা আসল প্রসব যন্ত্রণার মহড়া মাত্র। এই Braxton Hicks Contraction এবং আসল প্রসব যন্ত্রণার মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে হবে আপনাকে। যদি আপনার যোনিপথ দিয়ে রক্তস্রাব শুরু হয় কিংবা বাচ্চার নাড়াচাড়া থেমে গেছে বলে মনে হয় সাথে সাথে ডাক্তারকে জানাতে হবে।

এই সপ্তাহে শিশুটির জন্ম হয়ে গেলে আপনি একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই পারেন। কারন এখন শিশুটি ভূমিষ্ঠ হলে তার আলাদা কোনো মেডিকেল সাপোর্ট লাগবেনা বললেই চলে।

এখন আপনাকে প্রতি সপ্তাহে একবার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং আপনার রক্তচাপ, ওজন, জরায়ুর উচ্চতা মাপার পাশাপাশি ডাক্তার আপনার মূত্র পরীক্ষা করতে দিতে পারেন।

কিছু পরামর্শ
“প্রসব যন্ত্রণার চিন্তা মাথা থেকে দূর করার জন্যই প্রিয় গানগুলো বার বার শুনতাম। এটা সত্যিই বেশ প্রশান্তি দিতো।” – বিনিতা

কম্যুনিটি
যদি গর্ভাবস্থার পুরোটা সময় আপনার একা একাই সবকিছু সামলে যেতে হয় তাহলে মায়া কম্যুনিটিতে সেসব মায়ের সাথে নিয়মিত কথা বলুন যারা আপনার মতই সময় পার করে মা হচ্ছেন বা হয়েছেন ।

যেসব বিষয় ভাবতে হবে
নবজাতকের জন্য যা যা লাগবে সব আগে প্রস্তুত করে রাখুন ।

আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভাল জানেন

Leave a Reply

Close Menu