শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সপ্তাহ ৩৫: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

৩৫তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

গর্ভের শিশু
আপনার শিশুটির আকার এখন বড়সড় একটি নারিকেলের সমান। এই সপ্তাহ থেকে জন্মের আগ পর্যন্ত তার ওজন বাড়তে থাকবে , কিন্ত লম্বায় সে আর বাড়বে না ।

তার ইন্দ্রিয়সমূহ এখন আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রতিদিনই তার নতুন নতুন নিউরনাল ( neuronal ) সংযোগ তৈরি হতে থাকবে, সুতরাং এখন থেকে omega-3 fatty acid গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে । বাদাম, মাছের তেল ইত্যাদি খাবারে এই ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। যেহেতু পেটে এখন জায়গা কম তাই শিশুটি এখন আর তেমন গড়াগড়ি দিয়ে নড়বে না। কিন্তু আপনার যদি মনে হয় শিশুটির নড়াচড়া খুবই কম বা একেবারেই নেই তাহলে সাথে সাথে ডাক্তারকে জানান । আপনার শিশুর হাড়গুলোও আরও মজবুত হইয়ে উঠবে, যদিও প্রসব প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য শিশুটির মাথার খুলির হাড়সমূহ এখনো নরম আর অসংযুক্ত থাকবে ।

গর্ভবতী মা
আপনার এখন সুস্থির হয়ে থাকবার সময় হবে , কারন অতিরিক্ত ওজন আপনাকে ক্লান্ত করে দিবে আর পিঠের ব্যথা পরিস্থিতিকে আরও খারাপই করবে কেবল । এখন আপনার জরায়ুতে থেকে থেকে যে সঙ্কোচন হবে সেটা প্রসব যন্ত্রণার কোনো উপসর্গ নয় , বরং আসল প্রসব যন্ত্রণার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য জরায়ুর মহড়া মাত্র !

আপনার প্রসব পরিকল্পনা ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে যাওয়া উচিত । প্রসবের সময় আপনি কি কি চান , কীভাবে এবং কোথায় প্রসব করাতে চান সেটা তো অবশ্যই ঠিক করে ফেলা জরুরী । যদি আপনার আরও সন্তান থাকে, তাহলে আপনি না থাকা অবস্থায় তার / তাদের দেখাশুনার জন্য কে থাকবে সেটাও ঠিক করে ফেলতে হবে। হাসপাতালে যাবার জন্য ব্যাগ গুছাতে শুরু করে দিন যাতে করে যে কোনো সময়ই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়ে গেলে সাথে সাথে কেবল ব্যাগটা তুলে নিয়ে যেতে পারেন ।

এই অবস্থায় এসে গর্ভাবস্থাকে একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে ভাবা সত্যই কঠিন । আপনি প্রচণ্ড ক্লান্ত, দম বন্ধ হয়ে যাবার মতো অবস্থা আপনার , যেভাবেই বসেন বা দাঁড়ান না কেন আরাম পান না । কিন্তু এগুলোকেই আপনার অনাগত শিশুর সাথে আপনার বন্ধনের একটা পূর্বসূত্র হিসেবে দেখতে চেষ্টা করুন না ! এই শিশুটিই একদিন যখন কৈশোরে পা দেবে , তাকে তো নাগালেই পাবেন না !

দিন যতই কাছে আসবে Varicose veins ততই প্রকট হতে থাকবে। অনেক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা পরিহার করুন এবং পা ক্রস করে বসবেন না ।

কিছু পরামর্শ
“আমি ভেবেছিলাম আমার বাচ্চাটা যথেষ্ট নড়াচড়া করছেনা। কিন্তু ডাক্তার আমাকে নিশ্চিত করলেন যে বাচ্চাটি যেহেতু আকারে এখন অনেক বড়ো, তার এখন আগের মতো নড়াচড়া করার জায়গা কম। কিন্তু তিনি আমাকে এটাও বললেন যে যখনই বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করবো তখনই যেনো চিহ্নিত করে রাখি।” – রুমা ।

কম্যুনিটি
মায়া কম্যুনিটিতে অন্য গর্ভবতী মায়েরা কি ভাবছেন জেনে নিন ।

মায়া আপা
“ আমার নবজাতকটিকে কতবার খাওয়াতে হবে ?”

আপনার প্রশ্নটিও করুন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মায়া আপার কাছ থেকে জবাব পেয়ে যান ।

যেসব বিষয় ভাবতে হবে
যদি সন্তান প্রসবের সময় বাচ্চাটি নিজে নিজে বের না হতে পারে, তাহলে হয়তো কারো সাহায্যের প্রয়োজন হবে (Assisted Delivery)। ফরসেপ ও ভ্যাকুয়াম ডেলিভারি (Forceps or vacuum Delivery) কি? শিশুর জন্মের পরে আপনার হাতে পড়ার মতো যথেষ্ট সময় হয়তো থাকবে না, তাই এখনি এসব বিষয়ে ভেবে রাখতে পারেন। নবজাতকের প্রথম কয়েকদিনের জন্য যা যা আপনার জানা প্রয়োজন তার সবই এখানে পাবেন।
আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন।

Leave a Reply

Close Menu