শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সপ্তাহ ৩৩: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

৩৩তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

গর্ভকালীন এ সপ্তাহে আপনি এখন আপনার চলাফেরা আরো ধীর-স্থির হয়ে যাবে। কারণ, একে তো আপনার অতিরিক্ত ওজন আপনাকে অল্পতেই কাবু করে দেবে, তার ওপর পিঠের ব্যথাও শুরু হতে পারে। কোনোভাবেই আরাম পাওয়াটা একদমই মুশকিল হয়ে যাবে। আপনার হাঁটা দেখলে মনে হতে পারে হাঁসের মতো হেলেদুলে হাঁটছেন। শুধু তাই নয়, শরীরের বিপাক ক্রিয়ার(metabolism) উচ্চ মাত্রার কারণে আপনার এখন অতিরিক্ত গরমও লাগবে। এখন পানি আসার কারণে আপনার হাত, পা ও আঙ্গুলগুলো ফুলে যেতে পারে, সেই সাথে ব্যথাও থাকতে পারে। অনেক মহিলারই এসময় কারপাল টানেল সিন্ড্রোম(carpal tunnel syndrome) হয়। হাতের কার্পাল টানেলে সঙ্কোচনের কারণে যদি প্রচণ্ড ব্যথা ও অবশ হয়ে থাকার মতো অনুভূতি হয়, সেই পরিস্থিতিকে বলা হয় কারপাল টানেল সিন্ড্রোম। স্প্লিন্ট(splint) ব্যবহার করে বা ঘুমানোর সময় হাতের নিচে বালিশ রেখে হাতকে স্থির ও আরামদায়ক অবস্থায় রাখার চেষ্টা করতে পারেন। আরেকটা ছোটো সমস্যা যেটা হতে পারে তা হলো চোখের আকার বদলে যাওয়া। এ সময় কন্টাক্ট লেন্স(contact lens) পরা মুশকিল হয়ে যাবে। আপনার চোখের পাওয়ারেরও তারতম্য হতে পারে। তবে সে কারণে নতুন চশমা নেবার কথা ভাবতে হবে না মোটেই। কারণ, সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পরে আবার এটা ঠিক হয়ে যাবে। প্রচণ্ড মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা কিংবা স্রেফ হরমোনজনিত কারণেই আপনার মাথা ব্যথা প্রকট হয়ে উঠতে পারে। সুস্থির থাকুন, প্রচুর পানি পান করুন এবং যখনই মনে হবে মাথা ব্যথা শুরু হচ্ছে তখনি একটু বিশ্রাম নিয়ে নিন। সামান্য কাশি হলে কিংবা সামান্য ভারী কিছু ওঠানোর সময় প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এই সমস্যা দেখা দেয়। প্রস্রাবের এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রস্রাবের রাস্তা ও মলদ্বারের আশপাশের মাংসপেশির ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যাবে। এখন হয়তো আপনি একটু বেশিই আনমনা থাকবেন এবং জরুরি জিনিসটাও ভুলে যাবেন! এটা কোনো জটিল বৈজ্ঞানিক সমস্যা নয়, বরং গর্ভাবস্থার একটি সাধারণ ঘটনা। আপনি এটা নিয়ে বেশি বেশি চিন্তা করতে থাকলেই আনমনাভাব আরো বাড়তে পারে! ব্রাক্সটন-হিকস কনট্রাকশন প্রেগন্যান্সির সময় খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। জরায়ুর পেশীর সংকোচনের কারণে পেটে চাপ অনুভূত হয়। গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত মাঝে মাঝেই এ রকম হতে পারে। ফলস পেইন বা “ব্রাক্সটন হিক্স” হলো আসল লেবার পেইন হওয়ার আগে ইউটেরাসের প্রস্তুত হওয়ার একটা প্রাকৃতিক প্র্যাকটিস। লাস্ট ট্রাইমেস্টারে ব্রাক্সটন হিক্স অনেকেই ফিল করে আবার কেউ কেউ করে না। কিন্তু সমস্যা হল কোনটা ফলস পেইন আর কোনটা আসল লেবার পেইন তা ফার্স্ট টাইম প্রেগন্যান্ট রা অনেক সময় বুঝতে পারে না।যদি খুব বেশি সমস্যা হয় তা হলে অবশ্যই চিকিত্সককে জানান। গর্ভকালীন এ সময়ের কিছু টিপস যদি হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব করান তবে আগে থেকেই কাপড়-চোপড়, টাকা-পয়সা, সেবাদানকারীর ব্যবস্থা করে রাখুন। প্রসবব্যথা ওঠার আগে প্রয়োজনীয় টেলিফোন নম্বর সংগ্রহে রাখুন। গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ মনে হয়। তাই এ সময় এমন কিছু করুন যেন একঘেয়েমি না লাগে। ভাবতে শুরু করুন আপনার বাচ্চার জন্য আপনি কি কি করতে চান। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করুনআপনার আরও সন্তান থাকলে তাদের সঙ্গে সময় কাটান। একই রক্তের গ্রুপসম্পন্ন বন্ধু বা আত্মীয় ঠিক রাখুন যিনি প্রয়োজনে রক্ত দিতে পারবেন। মায়ের খাবার যাতে স্বাস্থ্যসম্মত ও সুষম হয় সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে নজর রাখতে হবে।এছাড়া মায়ের সারাদিনের খাবার ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিয়ে খাওয়াতে হবে। এতে এসিডিটির ভয় থাকবেনা। মাকে সবসময় পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে সাহস দিতে হবে। কোনভাবেই তাকে ভয়ের কোন কথা বলে ভড়কে দেওয়া যাবেনা।একজন মা ও তার পরিবারের সঠিক প্রস্তুতি ও মানসিক সাহসই একটি সুস্থ, সুন্দর ও সবল শিশুর জন্ম দিতে পারে। গর্ভবতী মা চাকরিজীবী মহিলা হলে, কী ধরনের কাজ এবং কতদিন ঐ কাজ আপনি করতে পারবেন তা নিয়ে আপনার চিকিত্‌সকের সঙ্গে পরামর্শ করুন৷ আপনার স্বাস্থ্য ও গর্ভকালীন আপনার শরীরের অবস্থার ওপর কাজ করা বা না করা নির্ভর করবে৷ এই সময় একবারে বেশি করে না খেয়ে অল্প অল্প করে একটু পর পর খেলে তা গর্ভবতী মায়ের জন্য বেশী উপকারী । এতে মায়ের বিপাক প্রক্রিয়ার উপর বেশী চাপ না পড়ায় তার অভ্যন্তরীন পরিপাক ক্রিয়া সহজেই কাজ করতে পারে । কিন্তু যদি একবারে বেশী পরিমানে খাওয়া হয় তবে তার বিপাক ক্রিয়াকে অনেক চাপ প্রয়োগ করে কাজ করতে হয় এবং এতে শরীরে অধিক পরিমানে তাপ উৎপাদিত হয় । তাই স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য এক সাথে অধিক পরিমানে খাওয়া থেকে বিরত থাকলে তা উপকারী হবে । আল্লাহই ভাল জানেন।

Leave a Reply

Close Menu