শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

৩০তম সপ্তাহ: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

৩০তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

৩০-তম সপ্তাহে আপনার শিশুর ওজন ৩ পাউন্ড অর্থাৎ ১.৩৬ কেজি এবং পরিমাপে মোটামুটি ১৭ ইঞ্চি হয়। ইতিমধ্যে আপনার শিশুটি তার পূর্ণ আকৃতি পেয়েছে এবং সে নিজের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে। ভ্রু এবং চোখের পাপড়ি সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছে, এবং মাথার চুল আরো ঘন হচ্ছে। তার হাতদুটো পুরোপুরি গঠিত হয়েছে এবং নখগুলি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতদিনেও আপনার শিশুর মস্তিষ্ক পৃষ্ঠ মসৃণ ছিল – কিন্তু এখন, আপনার ভ্রূণের মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় খাঁজ এবং বিভিন্ন চ্যানেল তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। মস্তিষ্ক এবং নতুন চর্বি কোষ তার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করছে, ল্যানুগো- নরম কোমল কেশ, যা আপনার শিশুর ক্ষুদ্র শরীরকে আবৃত রাখে- তা এখন অদৃশ্য হয়ে যেতে শুরু করেছে(এখন তার এই আবরণের আর প্রয়োজন নেই)। তবে জন্মের সময় আপনার নবজাতকের পিঠ ও কাঁধে কিছু অবাঞ্চিত নরম কোমল কেশ দেখাও যেতে পারে। ৩০-তম সপ্তাহের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো: আপনার শিশুর অস্থি মজ্জা(Bone Marrow) সম্পূর্ণভাবে লাল রক্ত কোষ(Red Blood Cells) উৎপাদন করতে শুরু করেছে। এটি আপনার বাচ্চার গঠনের পূর্ণতার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ কারণ এই ক্ষমতাই তাকে জন্মের পরে সতেজ রাখবে।

৩০-তম সপ্তাহের জন্য পরামর্শ
আপনার জরায়ু আপনার নাভি থেকে প্রায় ৪ ইঞ্চি উপরে অবস্থান করছে, এবং আপনার বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই সত্যি যে এখনো মোটামুটি ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত আপনার বাচ্চা আপনার পাজরে ধাক্কা দিতে থাকবে। এসময় আপনার শ্রোণী ও তলপেটের অস্বস্তি আরো বাড়তে থাকবে। এই সপ্তাহে আপনার ওজন খুব সম্ভব ১ পাউন্ড অর্থাৎ ০.৪৫ কেজি বেড়ে যাবে।

গর্ভধারণের শুরুর দিকের উপস্বর্গগুলিকে হয়তো আপনি ভুলতে বসেছিলেন কিন্তু সেগুলা এখন আপনার বডিতে আবার হানা দিতে পারে, যেমন ধরুন ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ (যেহেতু আপনার বাচ্চার মাথা মূত্রথলির উপর চাপ ফেলছে ), স্তনে ব্যথা অনুভব(যেহেতু স্তন এখন থেকে দুধ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে) , ক্লান্তিবোধ কিংবা বুকজ্বলাভাব। আপনার মনে হতে পারে আপনার বুকের ভেতর সবসময় যেন আগুন জ্বলছে, বদহজম বা পরিপাক শক্তির অভাবই সাধারণত এই সমস্যাটার জন্য দায়ী। এক্ষেত্রে আপনি হজমে অসুবিধাকারী খাবারগুলো যেমন, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার অথবা ভাজি বা গ্রিল কিংবা চকোলেট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে পারেন আর সেই সাথে মনে রাখবেন খাবার সময় বা খাওয়া শেষ করার সাথে সাথে কিছুতেই শোয়া চলবে না।

৩০-তম সপ্তাহের জন্য যত্ন
আপনার ক্রমবর্ধমান বাচ্চাটি আপনার ডায়াফ্রামের বিরুদ্ধে চাপ দিচ্ছে বলে এসময় আপনি কিছুটা রূদ্ধশ্বাস-রূদ্ধশ্বাস অনুভব করতে পারেন। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি এড়াতে আপনার বিছানার মাথার দিকের অংশটা তুলনামূলক উঁচু করে নিতে পারেন কিংবা পিঠের নিচে বালিশ নিয়ে হেলান দিয়ে আধাশোয়া অবস্থায় ঘুমোতে পারেন।

উঁচু হিল পড়া থেকে বিরত থাকুন। আপনার বডিতে মধ্যাকর্ষীয় টানের অবস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের জন্য এসময় আপনার পরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ফ্লাট জুতা/স্যান্ডেল পরে সাবধানতার সাথে পায়ের দিকে খেয়াল করে হাঁটুন।
পেটের আয়তন বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার পেটের চামড়ায় টানটান বা চুলকানি অনুভব হবে। পেটের চামড়া ফেটে যাওয়াতে আপনি এই অসহ্য চুলকানিটা অনুভব করবেন, এই অসহ্যভাব কমাতে প্রতিদিন বিছানায় যাওয়ার পূর্বে পেটে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

অ্যামনিয়োটিক তরল যেটিকে আমরা পানির ব্যাগ বলে থাকি সেটি নির্ধারিত প্রসব প্রসব সময় না হলে ভেঙে যাওয়ার কথা না, কিন্তু যদি সেটা প্রসবের সময় হওয়ার আগেই ভেঙে যায় তাহলে দেরি না করে আপনার ডক্টরকে কল করুন।

আল্লাহই ভাল জানেন | তথ্যসূত্রঃ WebMD,whattoexpect

Leave a Reply

Close Menu