শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সপ্তাহ ৩ ও ৪ কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

মা ও শিশু » কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ
সপ্তাহ ৩ ও ৪
তৃতীয় এবং চতুর্থ সপ্তাহে, ফ্যালোপিয়ান টিউবগুলির একটিতে নিষেক শুরু হয় এবং কোষ বিভাজন দ্রুত গতিতে ঘটতে শুরু করে। নিষিক্ত ডিম্বাণু (ভ্রূণকোষ) জরায়ুর দেওয়ালে রোপিত হয়; ডিম্বকবাহী গর্ভপত্র এবং নাভিতন্ত্রীর গঠন শুরু হয় । এখন যেহেতু আপনার ডিম নিষিক্ত হয়ে গেছে, এটি এবার আপনার জরায়ুর আস্তরণের মধ্যে গেঁথে যাবে । এই প্রক্রিয়াকেই রোপন(implantation) বলা হয়।

সপ্তাহ ৩

যদিও এটি আপনার গর্ভাবস্থার একেবারে গোড়ার দিক তবুও আপনার শরীরে কিছু না কিছু ঘটেই চলেছে! একবার “বিজয়ী” শুক্রাণু ( ২০০ মিলিয়নের মতো প্রতিযোগীর একটি) আপনার ডিম্বাণুতে অনুপ্রবিষ্ট হয়ে গেলে, ডিম্বাণুটি স্থবির হয়ে যায় এবং আর কোন শুক্রাণুকে প্রবেশ করতে দেয়না । দুই সেট কোষকেন্দ্রক একসঙ্গে ডিম্বাণুর ভিতরে একীভূত হয়ে, আপনার শিশুর – এখন একটি ভ্রূণকোষ মাত্র – লিঙ্গ, চোখ ও চুলের রঙ এবং দু’শোর বেশী অন্যান্য জেনেটিকালি নির্ণীত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে ।  

তৃতীয় সপ্তাহের জন্য পরামর্শ

আপনি গর্ভবতী কি না জানার অপেক্ষা করতে পারছেন না ? বাড়িতে একটি হোম প্রেগনেন্সি টেস্ট নিন। এই পরীক্ষাগুলি একটি প্রস্রাব বা ডাক্তারের অফিসে সম্পন্ন রক্ত পরীক্ষার মতোই নির্ভরযোগ্য এবং আপনি অবিলম্বে ফলাফল পেয়ে যাবেন। পরীক্ষার যথাযথতা নিশ্চিত করার জন্য, নির্দেশগুলি যত্নসহকারে পড়ুন এবং নিশ্চিত করুন যে সব সরবরাহ আপনি ব্যবহার করছেন সেগুলি পরিষ্কার ।  

তৃতীয় সপ্তাহের জন্য যত্ন

আপনার শিশুর যত্ন নিশ্চিত করতে : – ধুমপান ত্যাগ করুন । – মদ্যপান করা থেকে বিরত থাকুন । – ওষুধ এড়িয়ে চলুন – বৈধ, অবৈধ, এবং “ভেষজ সম্পূরক বস্তু”-এর লেবেল আঁটা, ত্বকের ক্রীমে (যেমন ব্রণের জন্য ক্রীম) এবং পানীয়ে (ক্যাফিন মত) উপস্থিত ঔষধ । – যদি আপনাকে বর্তমানে কোনো ডাক্তারের নির্দেশিত ঔষধ সেবন করতে হয় অথবা আপনি গর্ভবতী হওয়ার সময়ে কোন ঔষধ সেবন করছিলেন, তবে অবিলম্বে সে সম্পর্কে আপনার চিকিৎসককে বলুন । – প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন গ্রহণ করবেন না – প্রতিদিন পরিমিত ভিটামিন খান অথবা ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ভিটামিন খাবেন। – আপনার যদি কোনো ডাক্তার বা দাঁতের চিকিৎসকের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকে, তাহলে তাদের জানিয়ে রাখুন যে আপনি গর্ভবতী হলেও হতে পারেন । – দৈনন্দিন পাঁচ প্লেট বিভিন্ন রকমের ফল ও সবজি খান । – প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন ।

সপ্তাহ ৪

আপনার জরায়ুর মধ্যে গর্ত করা নিষিক্ত ডিম্বাণুর জন্য আপনার হয়ত কয়েক ফোঁটা রক্ত নির্গত হতে পারে । এইসময়, গর্ভাবস্থার কোন চিহ্ন থাকলেও সেটি যৎসামান্যই লক্ষণীয় হবে । যদি আপনি খুব সংবেদনশীল হন, তাহলে আপনি ক্লান্তি, বমি-বমি ভাব, স্ফীত হত্তয়া, স্তনের কোমলত্ব, আপনার ত্বক ও চুলের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন । আপনি যদি গর্ভধারণের এক সপ্তাহ পর রক্ত পরীক্ষা করেন তাহলে পজিটিভ রেজাল্ট পেতেও পারেন । কিন্তু যদি আপনি এতটা তাড়াতাড়ি বাড়িতে হোম প্রেগনেন্সি টেস্ট করেন, তাহলে জানবেন যে এই পর্যায়ে একটি ভুল নেগেটিভ রেজাল্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে । এই সপ্তাহটিতে আপনি হয়ত আপনার ঋতুস্রাবের আশা করছেন, আর যদি তা না শুরু হয়, তাহলে আপনি গর্ভবতী হওয়ার এটা প্রথম লক্ষণ হতে পারে । এছাড়াও আপনি আপনার জরায়ুতে ভ্রূণ রোপনের ফলে হালকা স্পটিং খেয়াল করতে পারেন । আপনি এখনও কোনো পার্থক্য না বুঝতে পারলেও, আপনার এম্নিয়টিক গহ্বর, যা তরল দ্বারা পূর্ণ হবে, এবং ডিম্বকবাহী গর্ভপত্র, যা আপনার শিশুকে পরিপোষণ করতে অক্সিজেন এবং পুষ্টি বয়ে আনবে, সেগুলির গঠন আপনার জরায়ুতে শুরু হয়ে গেছে ।  

চতুর্থ সপ্তাহের জন্য পরামর্শ

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার, মানে প্রস্তাবিত খাদ্যগোষ্ঠী থেকে বিভিন্ন ধরণের খাদ্য বাছার এবং দিনে কমপক্ষে ছয় থেকে আটবার ৮-আউন্সের গ্লাসে পানি পান করার চেষ্টা করুন । কিন্তু আপনার সত্যিই “দুইজনের জন্য খাবার খাওয়ার” প্রয়োজন নেই; গর্ভাবস্থায় আপনার প্রতিদিন শুধুমাত্র অতিরিক্ত ৩০০ ক্যালোরির প্রয়োজন । তাছাড়া, প্রথম-প্রথম সকালবেলার অসুস্থতার জন্য যদি আপনার খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়, তাহলে চিন্তিত হবেন না । আপনি যদি ইতিমধ্যে ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া শুরু করে থাকেন তাহলে জানবেন আপনার শিশুও সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে ।  

চতুর্থ সপ্তাহের জন্য যত্ন

আপনি গর্ভাবস্থায় কি খাচ্ছেন তা অবশ্যই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনি কোন কিছু খেতে ভয় পাবেন বা অপছন্দের খাবার খেতে বাধ্য হবেন ।
পূর্বের প্রবন্ধঃ সপ্তাহ ১ ও ২ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

≡ সূচিপূত্র – Main Menu ≡


Source: Webmd

Leave a Reply

Close Menu