শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

২৮ এবং ২৯তম সপ্তাহঃ কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

২৮তম এবং ২৯তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

এই দুই সপ্তাহে, আপনার শিশুর ওজন ১.০২ – ১.১৩ কেজির মধ্যে হয় এবং তার মাথা থেকে তার গোড়ালির পরিমাপ ১৪.৫-১৫ ইঞ্চি হয়। সে এখন চোখ পিট্ পিট্ করতে পারে। তার দৃষ্টিশক্তি বিকাশের সাথে সাথে সে আপনার গর্ভের মধ্য দিয়ে পরিস্রুত আলো দেখতেও সক্ষম হতে পারে। তার মস্তিষ্কে এখন কোটি কোটি নিউরনের বিকাশ ঘটবে এবং বাইরের জগতের প্রস্তুতির জন্য শরীরে আরও চর্বি যোগ হবে। শিশুর পেশী এবং ফুসফুস সম্পূর্ণাঙ্গ হতে থাকবে এবং তার মাথা তার উন্নয়নশীল মস্তিষ্ককে জায়গা করে দেওয়ের জন্য আকারে বড় হয়ে উঠবে।

অষ্টাবিংশ সপ্তাহ
অষ্টাবিংশ সপ্তাহে শিশুর মস্তিষ্কের তরঙ্গ রেপিড আই মুভমেন্ট (REM) স্লিপ দেখাবে যার মানে এই যে এখন আপনার শিশুর হয়ত স্বপ্ন দেখতে পারছে। তার নেত্রচ্ছদ আলগা হতে শুরু করেছে এবং শিশুর ফুসফুসের শাখাবিন্যাস হতে শুরু করেছে। আপনার বাচ্চা এখন ঘ্রাণ নিতে ও আস্বাদন করতে সক্ষম এবং তার চোখও জল উৎপাদন করতে পারছে। শিশুর হাড় যদিও এখনও নরম তবে তার বিকাশ এখন প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে। শিশুর ওজনও এখন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এখন আপনার সন্তানের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও যকৃতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেহতন্ত্রের শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনগুলি সম্পন্ন হতে শুরু করেছে। তার শরীরে চর্বির স্তর জমতে শুরু করেছে। তার শরীরের এখন চর্বির পরিমাণ প্রায় ২-৩% । শিশুর চোষা এবং গিলতে পারার দক্ষতাও ধীরে ধীরে আরো উন্নত হচ্ছে।

অষ্টাবিংশ সপ্তাহের জন্য পরামর্শ
আপনার জরায়ু এখন প্রায় আপনার নাভি উপরে প্রসারিত হয়ে গেছে। এই মাসে শিশু যতো বাড়তে থাকবে আপনি ততো পায়ে খিল ধরা, পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া, ঘুমোতে অসুবিধা হওয়া, শ্বাসকষ্ট, তলপেটে ব্যথা, জবরজঙ্গতা ইত্যাদি অনুভব করতে পারেন। আপনার বেড়ে উঠতে থাকা শিশুর মাথা এবং আপনার বিস্তৃত জরায়ু আপনার মেরুদণ্ড নিচের অংশে সায়াটিকা নার্ভের উপর চাপ ফেলতে পারে। এবং যদি সেটা ঘটে তবে আপনি এক তীব্র ও তীক্ষ্ণ ব্যথা, রণন বা অসাড়তা অনুভব করবেন যা আপনার নিতম্ব থেকে শুরু হয়ে আপনার পায়ের পেছন দিক অব্দি ছড়িয়ে পড়তে পারে যাকে এককথায় সায়াটিকা বলে পরিচিত। এই বেদনা কখনো কখনো তীব্র হতে পারে, এবং যদিও এটি আপনার শিশুর অবস্থান বদল হলে একটু কমতে পারে, তবে যতদিন না আপনি সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন ততোদিন আপনাকে এই ব্যথা সহ্য করতে হবে। একটা হিটিং প্যাড, একটু উষ্ণ জলে স্নান, বা বিছানায় কোন ধরনের বিশ্রাম সামগ্রী এই অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অষ্টাবিংশ সপ্তাহের জন্য যত্ন
যদিও এইসময় আপনার স্তন ফোলা বা ডেলা বাধাঁ স্বাভাবিক কিন্তু তাও সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। আপনার পরবর্তী চেকআপের সময় স্তন পরীক্ষার জন্য আপনার চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন। এখন আপনার শিশু তার শরীরে সবচায়ে বেশী পরিমাণে আয়রণ সঞ্চয় করবে তাই আপনাকে এখন চিকেন, মটরশুটি, শাক, টোফু, গরুর মাংসের মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

ঊনত্রিংশ সপ্তাহ
আপনার শিশুর চোখের রং এখন প্রায় সবসময় নীল এবং সে জরায়ুজ প্রাচীরের মধ্য দিয়ে উজ্জ্বল সূর্যালোক ও কৃত্রিম আলো আলাদা করতে পারবে। এই সময় তার ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই সপ্তাহ ও ভূমিষ্ঠ হওয়ার মাঝের সময়ের মধ্যে শিশুর মস্তিষ্কের ওজন ৪০০-৫০০% বৃদ্ধি পাবে।

ঊনত্রিংশ সপ্তাহের জন্য পরামর্শ
গর্ভাবস্থার ২৯তম সপ্তাহে, আপনার পেট সম্ভবত এতো বড় হয়ে যাবে যে আপনি দাঁড়িয়ে থাকাকালীন আপনার পা দেখতে পাবেন না। তার মানে এই হতে পারে যে আপনি ৪০% গর্ভবতী মায়েদের মতোই ভ্যেরিকোজ় ভেইন অনুভব করছেন । রক্তনালীসমূহের এই স্ফীতি খুব কমই উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কোন কোন গর্ভবতী মায়েরা এটির ব্যথায় কষ্ট পান তাই এর প্রতিরোধ করতে আপনি সারাদিন একাটানা বসা বা দাঁড়ান থেকে নিজেকে ব্যাহত রাখুন।

ঊনত্রিংশ সপ্তাহের জন্য যত্ন
২৮ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পর শিশু ক’বার লাথি মারছে সেটা গুনতে শুরু করুন। মনে রাখবেন ২ ঘন্টার মধ্যে যদি শিশু ১০বারের কম লাথি মারে তাহলে অবিলম্বে আপনাকে আপনার চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

আল্লাহই ভাল জানেন; | তথ্যসূত্রঃ WebMD

Leave a Reply

Close Menu