শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

১৫তম এবং ১৬তম সপ্তাহ: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু

কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ
১৫তম এবং ১৬তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

এই দুই সপ্তাহে আপনার শিশু তার নাক এবং উচ্চ শ্বাসনালীর সাহায্যে তার ফুসফুসে অ্যামনিয়োটিক তরল ভরে নিচ্ছে যা তার বায়ুথলি বিকাশে সাহায্য করবে । তার পা এখন তার হাতের চেয়ে বেশী লম্বা হয়ে গেছে এবং সে তার সম্স্ত গ্রন্থি এবং দেহের প্রত্যঙ্গ নাড়াতে সক্ষম হয়েছে । যদিও তার চোখের পাতা এখনও বন্ধ কিন্তু সে এখন আলো বা ঔজ্জ্বল্য অনুভূব করতে সক্ষম । তার মাথার খুলি প্রতিমান হতে শুরু করেছে যদিও তার কেশ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব নয় । এমনকি তার পায়ের নখও গজাতে শুরু করেছে । আগামী সপ্তাহগুলিতে আপনার শিশুর তার ওজন বহুগুণে বাড়বে এবং তার দৈর্ঘ্যেও বৃদ্ধি পাবে । পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ সপ্তাহে আপনার ক্রমবর্ধমান শিশুর দৈর্ঘ্য ৪–৪.৫ ইঞ্চি এবং ওজন ৭০.৮–৯৯.২ গ্রাম হবে ।

সপ্তাহ ১৫
আপনার শিশুর শরীর এখন খুব সূক্ষ্ম কেশ দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে যাকে ‘ল্যানুগো’ বলা হয় যা সাধারণত জন্মের পরেই ঝরে যায় । শিশুর ভ্রু এবং মাথায় চুল গজানো শুরু করেছে, হাড় মজবুত হচ্ছে, এমনকি শিশু বুড়ো আঙুল চুষতে শুরু করেছে ।

পঞ্চদশ সপ্তাহের জন্য পরামর্শ
আপনার জরায়ু এখন আপনার নাভির প্রায় ৩–৪ ইঞ্চি নিচে থেকে অনুভূত হতে পারে । আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে কোয়্যাড্রুপল মার্কার স্ক্রীনিং টেস্ট নামক একটি রক্ত পরীক্ষা করার জন্য বলা হতে পারে যার সাহায্যে ডাউন সিন্ড্রোমের নির্ণয় করা যায় । এছাড়াও এখন থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে অ্যামনিয়োসেনটেসিস নামক পরীক্ষার জন্য বলা হতে পারে যা আপনার অ্যামনিয়োটিক তরল আল্ট্রাসাউন্ড–নির্দেশিত সুই দ্বারা প্রত্যাহার করে একটি ছোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় । এখন আপনার নাক থেকে রক্ত পড়া এবং সাইনাসের ব্যথায় ভুগতে হতে পারে । চিন্তা করবেন না, আপনার নাক এবং সাইনাস এই অস্বস্তির কারণ হলো আপনার শরীরে রক্ত প্রবাহের বৃদ্ধি ।

পঞ্চদশ সপ্তাহের জন্য যত্ন
এখন আপনি আপনার বাম পাশে ঘুমোনোর অভ্যাস শুরু করুন – এতে আপনার সঞ্চালন উন্নত হবে । আপনি আপনার পিছনে এবং আপনার পায়ে মধ্যে বালিশ গুঁজে ঘুমোনোর চেষ্টাও করতে পারেন । অনেক ধরণের ‘প্রেগনেন্সি পিলো’ আছে যা আপনার সমগ্র শরীরের ভারবহন করতে সক্ষম । গর্ভাবস্থায় ভাল করে খাওয়াদাওয়া করা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আপনার শিশুকে অত্যাবশ্যক পুষ্টি প্রদান করে এবং আপনাকেও শক্তি দেয় । তাই খাওয়ার সময় মনে রাখবেন আপনি এখন সত্যিই দুইজনের জন্য খাচ্ছেন। একটি সুষম গর্ভাবস্থা জন্য আপনার খাদ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, দুগ্ধ এবং ফল ও সবজি, সেইসাথে প্রচুর পরিমাণে তরল অন্তর্ভুক্ত করুন, এতে আপনার শিশুর পুষ্টি সম্পূর্ণ হবে ।

সপ্তাহ ১৬
আপনার শিশুর লানুগো এখন তার মাথার উপর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে । সে এখন তার হাত ও পা নাড়াতে শুরু করেছে এবং স্নায়ুতন্ত্রও কাজ করছে । আপনার শিশু তার মুখের পেশী নাড়াতে পারছে এবং তার মুখে নানাবিধ অভিব্যক্তি ফুটতে শুরু করেছে, যদিও তাদের উপর এখনই তার কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না । সে এখন তার অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ সঞ্চলনা করতে পারবে এবং পদাঘাত করতেও সক্ষম হবে, যদিও আপনি কিছু বুঝতে পারবেন না ।

ষষ্ঠদশ সপ্তাহের জন্য পরামর্শ
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, আপনি আপনার শিশুর নড়াচড়া বোধ করতে শুরু করবেন । এটা প্রথম প্রথম একটি গ্যাসীয় বুদবুদ বা সূক্ষ্ম দাপাদাপির মতো মনে হবে কিন্তু একবার নিয়মিতভাবে ঘটতে শুরু করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে এটি আপনার শিশুর চালনের জন্যই হচ্ছে । আপনার ক্রমবর্ধমান শিশুর ভারবহন করার জন্য আপনার বর্ধিত রক্তের ভলিউমের ফলে হয়ত আপনার নাক থেকে রক্ত ঝরছে বা আপনার পায়ের শিরা আপাত হয়ে উঠছে কিন্তু ভালো খবর এই যে আপনার জরায়ু এখন ধীরেধীরে স্থান পরিবর্তন করছে বলে আপনাকে বারবার মূত্রত্যাগ নাও করতে হতে পারে । গর্ভাবস্থায় আপনি আপনার ওজন বৃদ্ধি কোনভাবেই নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না এবং আপনাকে আপনার শরীর নতুন আকৃতি আলিঙ্গন করতে হবে এবং প্রতি কিলো ওজন বৃদ্ধি যে আপনার ও আপনার শিশুর ভালো স্বাস্থ্যের প্রতীক সেটা মনে রাখার চেষ্টা করবেন । গর্ভাবস্থায় যতদিন আপনি সঠিক খাওয়া–দাওয়া করছেন এবং নিয়মিত ব্যায়ামকরছেন, জেনে রাখবেন যে পরবর্তিকালে এটা আপনারই উপকার করবে ।

ষষ্ঠদশ সপ্তাহের জন্য যত্ন
আপনার পায়ের শিরা যদি স্ফীত হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে আপনি স্টকিংস পরতে পারেন, আপনার পা যতটা সম্ভব তুলে রাখার চেষ্টা করুন এবং যখনই সম্ভব ব্যায়াম করুন যাতে রক্ত প্রবাহ উন্নত হয় । আপনার দিন শুরু করুন একটি পুষ্টিকর ব্রেকফাস্ট দিয়ে যাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শর্করা, ফাইবার, এবং অল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার আছে । সবজি, গোটা শস্য, চর্বিহীন মাংস, ও কম চর্বির দুগ্ধজাত খাবার খান এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্যাকেটজাত খাবার, এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন ।

তথ্যসূত্রঃ WebMD

Leave a Reply

Close Menu