শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

১৩তম এবং ১৪তম সপ্তাহ : কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু
কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ
১৩তম এবং ১৪ তম সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।


বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

১৩তম ও ১৪তম সপ্তাহে আপনার শিশুর মাথা তার শরীরের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে আরও বড় হচ্ছে । এই সপ্তাহগুলিতে, আপনার শিশুর অন্ত্র তার নাভিরজ্জু ভিতরে ক্রমবর্ধমান হচ্ছে এবং তার কিডনি প্রস্রাব উৎপাদন, যা আপনার শিশু তার চারপাশের অ্যামনিয়োটিক তরলের মধ্যে মুক্ত করছে – এই প্রক্রিয়া সে তার ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে পর্যন্ত বজায় রাখবে ।

আপনার শিশুর হাসি – কান্নার জন্য, কথা বলার জন্য অতি প্রয়োজনীয় স্বরতন্ত্রীর গঠন হতে শুরু করেছে । যদিও আপনার শিশুর চক্ষুতারা তৈরী হয়ে গেছে কিন্তু সেগুলি এখনও বন্ধ কারণ তার চোখের পাতা বন্ধ থাকায় জন্য তাদের বিকাশ অব্যাহত এবং সুরক্ষিত থাকে । শিশুর মস্তিষ্কের বৃদ্ধির ফলে, তার মুখের পেশীগুলি তার মুখের একের পর এক অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করছে । এই দুই সপ্তাহে আপনার শিশুর দৈর্ঘ্য ৩-৩.৫ ইঞ্চি হয় এবং তার ওজন ৪২-৪২.৫ গ্রাম হয়।

সপ্তাহ ১৩
আপনার শিশু এখন দ্রুত বেড়ে চলেছে । তার চোখ যথাস্থানে আসতে শুরু করেছে এবং গোড়ালি ও কবজির গঠন আরম্ভ হয়ে গেছে ।যদিও মাথা এখনও সামঞ্জস্যহীনভাবে বড়, তবুও সেটা তার শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আকার গঠন করতে শুরু করেছে । তার দৈর্ঘ্য এখন প্রায় ৩ ইঞ্চি আর ওজন প্রায় ৪২ গ্রাম ।

ত্রয়োদশ সপ্তাহের জন্য পরামর্শ
আপনার জরায়ু এখন অনেকটা বড় হয়ে গেছে এবং সেটি এখন আপনার শ্রোণীচক্র থেকে বড় আকারের হয়ে গেছে এবং একটি নরম, মসৃণ বলের মত আপনার পেটের মধ্যে উর্ধ্বগামী হতে আরম্ভ করেছে । যদি আপনি মর্ণিং সিকনেসের কারণে এখনও কোনো ওজন অর্জন না করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য সুখবর কারণ আপনি এখন থেকে ভাল বোধ করতে শুরু করবেন । প্রেগনেন্সি হরমোন আপনার ত্বক এবং চুলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং আপনি তৈলাক্ত্য এবং দাগযুক্ত বা চকচকে এবং উজ্জ্বল ত্বক ও চুলের অধিকারী হতে পারেন । এখন আপনার অমরা সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়ে গেলেও সেটি আপনার গর্ভাবস্থার পুরো সময়কাল ধরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে । আপনার শিশুর নাভিরজ্জু এখন আপনার অমরার সাথে সংযুক্ত হবে যার মাধ্যমে আপনার শিশু পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পাবে । শুধু তাই নয় এটি সমস্ত বর্জ্য পদার্থ যেমন কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিত্রাণ করতে সাহায্য করবে এবং আপনার শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপাদনও করবে ।

ত্রয়োদশ সপ্তাহের জন্য যত্ন
এখন আপনি আপনার সাথে আপনার স্বামীকে ডাক্তারের কাছে চেকআপ করার সময় নিয়ে গেলে তিনি শিশুর হৃদস্পন্দন শোনার সুযোগ পাবেন । এখন আপনি কম ক্লান্ত বোধ করতে শুরু করবেন । আপনি এখন আপনার শরীরে নতুনভাবে শক্তি সঞ্চালনের জন্য শরীরচর্চা ও নিত্যকর্মকে মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন তবে সেটা অতিমাত্রায় নয় । যদি আপনার এখনও অদ্ভুত-উদ্ভট খাবার খাওয়ার ইচ্ছে না কমে যেয়ে থাকে তাহলে নিজের উপর কঠোর হবেন না । এখন আপনি যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন তমনি মাঝেমধ্যে আপনার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করার জন্য নিজেকে অল্প পরিমাণে ‘জাঙ্ক ফুড’ খাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন । গর্ভাবস্থায় আপনার পেটের উপরের পেশী শিথিল হয়ে যায় যার ফলে পাচক অ্যাসিড অন্ননালী অব্দি ওঠে আসতে পারে এবং আপনার বুকের মধ্যে জ্বলন ঘটাতে পারে । এই অম্বল কম করার জন্য ও ব্যথা কমাতে সুরাপান, ক্যাফিনযুক্ত পানীয়, চকলেট, পুদিনা, লেবু এবং মসলাযুক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার থেকে বিরত থাকুন ।

সপ্তাহ ১৪
আপনার শিশুর কান এখন ঘাড় থেকে মাথার পাশে এসে গেছে এবং ওর ঘাড় লম্বা হতে শুরু করেছে এবং চিবুক সম্মুখদিকে প্রলম্বিত হতে শুরু করেছে। শিশুর মুখের বৈশিষ্ট্য এবং আঙ্গুলের ছাপ অনন্য হয়ে উঠেছে । আপনার শিশু গর্ভের বাইরের উদ্দীপনায় সাড়া দিতে শুরু করেছে । যদি আপনার পেটে এখন বাইরে থেকে খোঁচা মারা হয় তাহলে শিশু মোচড় দেওয়ার চেষ্টা করবে । এখন তার কিডনি কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে এবং তার গ্রস্ত তরল প্রস্রাব হিসেবে অ্যামনিয়োটিক তরলে পুনরায় ফিরে আসবে । যদিও শিশুর কাছে তার নাভিরজ্জুর মাধ্যমে রক্তধারায় মিশ্রিত অক্সিজেন পৌঁছে যাচ্ছে তবুও আপনার শিশু শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে যা তার জন্মগ্রহণের পরে খুবই জরুরী ।

চতুর্দশ সপ্তাহের জন্য পরামর্শ
আপনি সম্ভবত এখন প্রসূতি জামাকাপড় পরা শুরু করে দিয়েছেন এবং আপনার ত্বক ও পেশী আপনার ক্রমবর্ধমান শিশুর সমন্বয়বিধানের জন্য প্রসারিত হতে শুরু করেছে । আপনি আপনার গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই অধিক রক্ত উৎপাদন করতে শুরু করেছিলেন কিন্তু এখন আপনার শরীরে আরও বেশী পরিমাণে রক্ত কোষ ও তরল থাকবে যার ফলে আপনি আপনার অঙ্গের অস্বাভাবিক স্ফীতি লক্ষ্য করতে পারেন ।আপনার হাতের আংটি আঁটো হয়ে যেতে পারে এবং আপনার গোড়ালি আগের থেকে স্ফীত হয়ে উঠতে পারে । এই সময় হিল তোলা জুতো না পরার এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে না থাকার চেষ্টা করবেন । এছাড়া রোজ সহজ ব্যায়াম বা শরীরচর্চার করার চেষ্টা করুন । যদি আপনার মুখ, গোড়ালি বা হাত হঠাৎ করে ফুলে ওঠে তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করুন কারণ সেটা প্রি-একল্যাম্পসিয়ার লক্ষণও হতে পারে ।

চতুর্দশ সপ্তাহের জন্য যত্ন
হালকা ধরণের ব্যায়াম করে, প্রচুর তরল পান করে এবং প্রচুর ফল ও সবজি খেয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে আরাম পাওয়ার চেষ্টা করুন । আপনি এখন ঠান্ডা, ফ্লু এবং অন্যান্য জীবাণুর প্রতি অনেক বেশী স্পর্শকাতর হয়ে পড়বেন । তাই আপনি আপনার হাত সবসময় ধুয়ে নেবেন এবং কারো সাথে পানীয় বা খাবার ভাগ করবেন না । যদি আপনার মনে সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়ে থাকে তাহলে যত শীঘ্র সম্ভব আপনার চিকিৎসকের সাথে দেখা করে তা নিরাময়ের ব্যবস্থা করুন ।

এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেনঃ | তথ্যসূত্রঃ WebMD

Leave a Reply

Close Menu