শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সপ্তাহ ১ এবং ২: কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

মা ও শিশু
কেমন কাটবে আপনার গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি সপ্তাহ

১ম ও ২য় সপ্তাহ

সন্তান সৎ ও নেক হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই কিছু বিধিমালা মেনে চলা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন ভ্রুণ অবস্থা থেকে মায়ের যাবতীয় আমল ও আখলাক গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, গোনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর বাবার দায়িত্ব হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানের জন্য হালালভাবে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করা।
এ ছাড়া আরও কিছু পালনীয় বিষয় হলো
১. সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।
২. প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা।
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা।
৪. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা।
৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
৬. দান-খয়রাত করা। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।
বিঃ দ্রঃ ছেলে অথবা সবই আল্লাহর দান; আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।” সূরা শুরাঃ ৪২/ ৪৯-৫০

 

সপ্তাহ ১

আপনি এখনও সত্যিই গর্ভবতী হননি; গর্ভাবস্থার গুণতি শুরু হয় আপনার সর্বশেষ ঋতুস্রাবের প্রথম দিন থেকে । সুতরাং গর্ভধারণের সময়সীমা ৪০ সপ্তাহ বলা হলেও, আপনি আসলে মাত্র ৩৮ সপ্তাহ বা ওইরকম সময়ের জন্য আপনার শিশুকে বহন করেন ।
এই সময় আপনার শিশু আপনার কল্পনার একটি ঝলক মাত্র । গর্ভধারণ ঠিক কখন ঘটেছে তা জানতে পারা কঠিন, তাই ডাক্তাররা আপনার সন্তান প্রসবের দিন আপনার সর্বশেষ মাসিক চক্র থেকে গণনা করে ঠিক করেন । আজ্ঞে হ্যাঁ – হিসাব করবার জন্য, আপনি গর্ভধারণ করার আগেই আপনাকে “গর্ভবতী” কল্পনা করে নেওয়া হয় !
আপনার মাসিক শুরুর সময় ওভা নামক প্রায় ২০টি তরল-ভরা গ্রন্থিকোষে ব্যাপৃত হয় । আপনার ঋতুস্রাব যদি প্রত্যেক ২৮ দিন অন্তর হয়, তাহলে প্রতি ১৪ দিন বাদে, আপনি ডিম্বাণু উৎপাদন করেন: এই গ্রন্থিকোষগুলির মধ্যে একটি গ্রন্থিকোষ একটি ডিম মুক্ত করে যেটি আপনার গর্ভনালীতে পৌঁছনোর পর গর্ভাধানের জন্য অপেক্ষা করে – আপনার ঋতুস্রাব শুরুর ১৪ দিন পর থেকে আপনি গর্ভধারণের জন্য সবচেয়ে বেশী উর্বর থাকেন। আপনি গর্ভবতী যদি হতে চান, তাহলে চেষ্টা করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময় । একবার ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর, সেটি জরায়ুর মধ্যে চলে যায়।


খাওয়ার নিয়ম

গর্ভাবস্থায় আপনি যা যা খাচ্ছেন সেগুলি যে আপনার নবজাতকের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে সেটি কোন নতুন খবর নয় । কিন্তু নতুন খবর এই যে আপনি পরবর্তী নয় মাসে কি খাবেন সেটি আগামী বছরগুলিতে আপনার শিশুর পাশাপাশি আপনার নিজের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে ।


প্রথম সপ্তাহের জন্য যত্ন
যদি আপনি ইতিমধ্যে শুরু না করে থাকেন তাহলে, আপনার প্রিনেটাল মাল্টিভিটামিনের সাথে দৈনিক ৪০০ মাইক্রোগ্রাম সবুজ শাকসবজিতে প্রাপ্ত ফলিক অ্যাসিড সেবন করা শুরু করুন (গর্ভাবস্থায় ৬০০ মাইক্রোগ্রাম খান) ।


সপ্তাহ ২

যদিও কিছু মহিলা শপথ করে বলেন যে, তারা গর্ভধারণের মুহূর্তে সচেতন ছিলেন, বেশীর ভাগ মায়েরাই এই ব্যাপারে অনবহিত থাকেন । রোপন, যা গর্ভধারণের পর তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শুরু হয়, সেটা না হওয়া পর্যন্ত প্রথম তিনমাসের হরমোনের আমূল পরিবর্তন ঘটা শুরু হয়না ।
যদি আপনি প্রথমবারেই গর্ভবতী না হন তাহলে হতাশ হবেন না । একজন নারীর প্রতি মাসে তাঁর বয়সের উপর নির্ভর করে, গর্ভবতী হবার ২৫% সম্ভাবনা থাকে, তাই আপনাকে হয়ত একাধিকবার চেষ্টা করার প্রয়োজন হতে পারে ।


দ্বিতীয় সপ্তাহের জন্য পরামর্শ

জেনেটিক রোগ এবং পরিবেশগত বিপদের ঝুঁকি নির্ধারণ করতে এবং সেইসাথে একটি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থা এবং সুস্থ শিশুর জন্য জীবনধারার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিশ্চিত করতে আপনার ধাত্রী/ স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, প্রতিদিন ০.৪ মিলিগ্রাম, বা ৪০০মাইক্রোগ্রাম, ফলিক অ্যাসিড অবশ্যই গ্রহণ করা শুরু করুন । গর্ভধারণের কয়েকমাস আগে থেকে ফলিক অ্যাসিড সেবন করলে নিউরাল টিউবের ত্রুটি যেমন, ‘স্পিনা বাইফিডা’ নাটকীয়ভাবে কমে যেতে দেখা গেছে ।


 

প্রেগনেন্সি টেস্ট

আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী পিরিয়ড মিস্ করার প্রথম দিনেই আপনি যদি প্রেগনেন্সি টেস্ট নেন, সেক্ষেত্রে ১০% সম্ভাবনা থাকে টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ হওয়ার। আপনি যদি ভুল করে বিশ্বাস করে নেন যে আপনি গর্ভবতী নন, তাহলে গর্ভাবস্থায় যে সম্ভাব্য ক্ষতিকারক পদার্থ পরিহার করা উচিৎ, সেগুলি হয়ত নাও পরিহার করতে পারেন । নিরাপত্তার স্বার্থে, ধরে নিন যে আপনি গর্ভবতী এবং এক সপ্তাহ পর আবার পরীক্ষা করুন ।


 

দ্বিতীয় সপ্তাহের জন্য যত্ন

গর্ভধারণের এক-দু’সপ্তাহের মধ্যেই আপনার বক্ষ:স্থল অতিরিক্ত কোমল হয়ে যেতে পারে । ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন হরমোনের স্ফীতির কারণে আপনার স্তন আরো তরল ধরে রাখে এবং ভারী, যন্ত্রণাপূর্ণ বা অনেক বেশী সংবেদনশীল হয়ে যায় ।
অনেক নারীর জীবনে একটি শিশুর জন্ম হল সবথেকে উত্ফুল্লের এক সময়ের । কবে তাকে বাড়ি নিয়ে যাবেন, তার ঘরে কোন রং দেবেন, তার নাম কি রাখবেন – এই সমস্ত কিছুর জন্য অধীরতা বা উত্তেজনা সত্যই অনুভবয়োগ্য ।


তথ্যসূত্রঃ Webmd

This Post Has One Comment

Leave a Reply

Close Menu