শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

সিয়াম/ রোযার উৎপত্তি ও প্রকারভেদ

সিয়াম/ রোযা

রোযা বা রোজা (ফার্সি روزہ রুজ়ে), সাউম (আরবি صوم স্বাউম্‌), বা সিয়াম ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়। সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,পাপাচার, কামাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোযা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমযান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, (فرض ফ়ার্দ্ব্‌) যার অর্থ অবশ্য পালনীয়।
যেহেতু কুরআন ও হাদীসের ভাষায় সিয়াম, তাই সিয়াম বলাটাই অতি-উত্তম।

সিয়াম/ রোযার উৎপত্তি

সিয়াম/ রোজা শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিরত থাকা’। আর আরবিতে এর নাম সাওম, বহুবচনে সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,কামাচার, পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা।

রোযার প্রকারভেদ

সিয়াম/ রোজা পাঁচ প্রকার।
ফরজ সিয়াম/ রোজা: যা আবার চার প্রকার-
রমজান মাসের সিয়াম/ রোজা।
কোন কারণ বশত রমজানের সিয়াম/ রোজা ভঙ্গ হয়ে গেলে তার কাযা আদায়ে সিয়াম/ রোজা।
শরীয়তে স্বীকৃত কারণ ব্যতিত রমজানের সিয়াম/ রোজা ছেড়ে দিলে কাফ্ফারা হিসেবে ৬০টি সিয়াম/ রোজা রাখা।
সিয়াম/ রোজার মান্নত করলে তা আদায় করা।
ওয়াজিব সিয়াম/ রোজা: নফল সিয়াম/ রোজা রেখে ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা ওয়াজিব।
সুন্নত সিয়াম/ রোজা: মহরম মাসের নয় এবং দশ তারিখে সিয়াম/ রোজা রাখা।
মোস্তাহাব সিয়াম/ রোজা: প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, এবং ১৫ তারিখে, প্রতি সাপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারে, কোন কোন ইমামের মতে শাওয়াল মাসে পৃথক পৃথক প্রতি সপ্তাহে দুটো করে ছয়টি সিয়াম/ রোজা রাখা মোস্তাহাব। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এক সাথে হোক কিংবা পৃথক পৃথক হোক শাওয়ালের ছয়টি সিয়াম/ রোজা মুস্তাহাব।
নফল সিয়াম/ রোজা: মোস্তাহাব আর নফল খুব কাছাকাছির ইবাদত। সহজ অর্থে নফল হলো যা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত নয় এমন ইবাদত পূণ্যের নিয়তে করা। সিয়াম/ রোজার ক্ষেত্রেও তাই।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Close Menu