শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় কেন মাথা ব্যাথা হয়?
গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যাথা উপশমের কিছু প্রাকৃতিক উপায়

গর্ভাবস্থায় অধিকাংশ সময়েই নারীদের কাছে বিভিন্ন ধরনের ব্যাথার কথা শোনা যায়। এসকল ব্যাথা মাতৃত্বকালীন সময়কে আরও কঠিন করে তোলে।এধরনের একটি উপসর্গ হলো মাথা ব্যাথা। গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহে মাথা ব্যাথা বাড়তে পারে, কিন্তু শেষ ৬ মাসে মাথা ব্যাথা উপশম হতে পারে বা একেবারে নাও হতে পারে । এতে বাচ্চার কোন ক্ষতি হয় না।যদি গর্ভাবস্থায় মা মাথা ব্যাথায় আক্রান্ত হয় তবে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কেননা এই সময় অনেক ওষুধ চাইলেও সেবন করা যাবে না।

 

গর্ভাবস্থায় কেন মাথা ব্যাথা হয়?
হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে মাথা ব্যাথা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। রক্তচাপের পরিবর্তনের কারণে দুশ্চিন্তা সহ মাথা ব্যাথা হতে পারে। যদি আগে থেকে মাথা ব্যাথা বা মাইগ্রেন থাকে, তাহলে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায় এই ধরণের মাথা ব্যাথা বেড়ে যেতে পারে। আবার, বহু নারীর ক্ষেত্রে মাথা ব্যাথা অনেক কমে যেতে দেখা যায় এবং গর্ভবতী থাকাকালে মাথা ব্যাথা কম অনুভব করেছেন বলে জানান।

ক্লান্তি, ক্ষুধা, পানিশূন্যতা, চাপ, সতেজ বাতাসের অভাবে এবং ব্যায়াম ইত্যাদি মাথা ব্যাথা হওয়া ও তার তীব্রতাকে প্রভাবিত করে। যদি ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করেন, তাহলে ক্যাফেইন-ত্যাগ এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে যার মধ্যে মাথা ব্যথাও একটি লক্ষণ।

চোখ ও গালের হাড়ের মধ্যবর্তী অস্থির পিছনে উপস্থিত সাইনাসের বদ্ধতার কারণেও মাথা ব্যাথা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মাঝে মধ্যে চোখের উপর এবং চোখের আকারের উপর চাপের পরিবর্তনের কারণে দৃষ্টিশক্তিতে প্রভাব পড়তে পারে। এ চাপের কারনে চোখে ও এর আশেপাশে এবং সাধারণভাবে মাথায় ব্যাথা অনুভূত হয়।

গর্ভাবস্থার পরবর্তী পর্যায়ে মাথা ব্যাথা সাধারণত হয় না এবং এ থেকেও আরো জটিল সমস্যা যেমন উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। শেষ ৩ মাসে মাথায় ব্যাথা অনুভূত হলে, বিশেষ করে ব্যাথা মাথার সামনের দিকে থাকলে এবং এর সাথে আলোর ঝলকানি বা অসুস্থতা জড়িত থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে দেখা করুন।এগুলো প্রি-এক্লাম্পশিয়ার লক্ষন হতে পারে।

মাথা ব্যাথার রকমফের
টেনশন-হেডেক বা টেনশনজনিত মাথাব্যথা
নানা রকম মাথাব্যথার ভিড়ে টেনশন-হেডেক বা টেনশনজনিত মাথাব্যাথা সবার ওপরে। ভারী ভারী একটানা একধরনের ব্যাথা মাথার দুই দিকে থাকে। মৃদু থেকে বেশি। মনে হয় মাথা দু’হাত দিয়ে চেপে ধরেছে। অথবা মাথার চার দিকে একটি ব্যান্ড বেঁধে দিয়েছে কেউ। ব্যাথা ছড়িয়ে পড়ে ঘাড়ে। মেজাজ হয় খিটখিটে। ইচ্ছে করে কেউ কথা না বলুক। এ ধরনের মাথাব্যাথা সাধারণত দিনের শেষে হয়। ১-২ ঘণ্টা থাকে। বিশ্রাম নিলেই কমে যায়।

ক্রনিক টেনশন-হেডেক প্রতিদিন হতে পারে। অবেগজনিত চাপ বড় কারণ। ধরুন, কারো কর্মক্ষেত্রে সমস্যা অথবা বাড়িতে মিলমিশের অভাব কিংবা ঋণের টাকার চাপ ইত্যাদি সব মানসিক চাপ- এ ধরনের মাথাব্যথার জন্য দায়ী। তাই যারা এ ধরনের মাথাব্যথায় আক্রান্ত তারা তাদের টেনশনের কারণ চিহ্নিত করুন। সমস্যাটিকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সমাধানের পরিকল্পনা হাতে নিন। প্রয়োজনে সাইকোথেরাপিস্ট দেখান। এ ধরনের টেনশন জনিত মাথাব্যাথা গর্ভাবস্থায় আরও বেড়ে যেতে পারে।

মাইগ্রেন
মারাত্মক এবং উগ্র মাথাব্যাথা হলো মাইগ্রেন। মাইগ্রেন অনেক সময় বংশগত। মহিলাদের মধ্যে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। মাথার এক পাশে ব্যাথা শুরু হয়ে থাকে। মাথার এক পাশে ব্যাথা শুরু হয়ে তা অন্য পাশে ছড়িয়ে পড়ে। ধরুন, মাথার বাম পাশে ব্যথার শুরু। তারপর কপালে ছড়িয়ে মাথার তালুতে যেয়ে ব্যাথা ডান পাশে চলে যাবে। কখনো তা পুরো মাথায়ও ছড়াতে পারে। মাথার শিরায় দপদপ করা, আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হওয়া, সেই সাথে বমির ভাব, কখনো কখনো বমি হয়ে যাওয়া, শ্রবণে গণ্ডগোল, কথা জড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি মাইগ্রেনের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।

সাধারণ মাইগ্রেনের ব্যাথা ২-৩-৪ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। তবে তিন-চার দিন পর্যন্তও মাথাব্যাথা স্থায়ী হতে পারে। তবে বমি হলে ব্যথার উপশম হয়। মাইগ্রেনের আক্রমণের আগেই তার পূর্বাভাস পাওয়া যায়। যেমন- দৃষ্টিতে বিভ্রম, যার ফালে উজ্জ্বল আলোক কণা অথবা আঁকাবাঁকা আলোক রেখা দু’চোখেই দেখা দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুখ, হাত ও পা দুর্বলতায় কাঁপে এবং অবশ হতে শুরু করে। এ সবের সাথে থাকে বিভ্রান্তি এবং গা ঝিমঝিম করা। কথাও কিছুটা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এসব বিভিন্ন উপসর্গ শরীরের একাংশ থেকে বিভিন্নাংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ সময় বেশি যেহেতু আলো সহ্য করতে পারে না, তাই আলো নিভিয়ে বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন। এখানে মনে রাখা দরকার, মাইগ্রেন তাদেরই বেশি হয় যারা কঠোর পরিশ্রম করেন। অত্যধিক কাজের ফলে বা অনুভূতি সংক্রান্ত পীড়নে তাদের মাথাব্যাথা হয়। তাই যারা মাইগ্রেনের রোগী তারা অত্যধিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলুন। আবেগতাড়িত নানা সমস্যা থেকে দূরে থাকুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। প্রচুর পানি পান করুন। ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন। মধপান, ধূমপান, পনির, চকলেট ইত্যাদি যাতে ফিনাইলইথাইল-অ্যামিন থাকে তা এড়িয়ে চলুন; কারণ, এর কারণে মাইগ্রেন বাড়তে পারে।

সাইনাস
সাইনোসাইটিস থেকে যদি মাথাব্যাথা হয়, তা মৃদু থেকে মোটামুটি তীব্র সাইনাস সংক্রমণের কারণে হতে পারে। ইনফেকশন থাকাকালীন সময়ে এ ব্যাথা থাকবে সাধারণত নাকের দু’পাশে, চোখের ভ্রুর ওপরে এবং চোখের ভেতরে। এ অবস্থায় জ্বর জ্বর ভাব, নাক দিয়ে হালকা বা ঘন পুঁজের মতো পড়া এবং মাথা নাড়লে বা ঝাঁকালে মাথাব্যাথা বাড়তে পারে। নানা ধরনের সাইনোসাইটিসের মধ্যে ফ্রন্টাল সাইনোসাইটিস সাধারণত সকালে বৃদ্ধি পায়। ম্যাক্সিলারি সাইনোসাইটিসের ব্যাথা বিকেলে দেখা দেয়। সাইনোসাইটিস ভালো হয়ে গেলে সাধারণত এই মাথাব্যাথা আর থাকে না।

ক্লাস্টার
এ ধরণের মাথাব্যথাগুলো সাধারণত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটানা এমনকি কয়েক মাস ধরে নিজেদের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে চলতে থাকে। এদের উৎপত্তিও মাথার যেকোন এক পাশ দিয়েই হয়ে থাকে। এই টাইপের মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা না গেলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ মনে করে থাকেন রক্ত প্রবাহের পরিবর্তনের ফলেই এর উৎপত্তি।

গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যাথা উপশমের কিছু প্রাকৃতিক উপায়
আপনার মাথা ব্যাথা কী কারণে শুরু হয় তা বোঝার চেষ্টা করুন। তাহলে তা প্রতিরোধ করাও সহজ হবে। যেমন ধরুন, পানিশূন্যতার কারনে মাথা ব্যাথা হলে তার সমাধান হল প্রচুর পানি পান করা! পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মস্তিস্কে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাবার কারণে মাথা ব্যাথা হয়।অতিরিক্ত চিনি খেলেও মাথা ব্যাথা হতে পারে, তাই সবচেয়ে ভাল হয় নিয়মিত বিরতিতে অল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। চকোলেট, চিজ এবং কৃত্রিম উপায়ে মিষ্টি করা খাবার এড়িয়ে চলুন।

মাথার যে অংশে ব্যাথা সেখানটায় আইস-প্যাক চেপে ধরুন। মাথা দপ দপ করলে এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে ভাল কাজ হয়। অথবা ওই জায়গাটি পেপারমিন্ট অয়েল (peppermint oil) দিয়েও মালিশ করতে পারেন। অল্প একটু আপনার বুড়ো আঙ্গুল ও তর্জনীতে নিয়ে মাথার যেখানে বেশি ব্যাথা সেই জায়গাটিতে হালকা চাপ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মালিশ করুন। এভাবে চাপ দিয়ে ১৫ সেকেন্ড মত মালিশ করার পর ছেড়ে দিন। প্রয়োজনে আবার একই রকম ভাবে মাসাজ করুন।

যখনি সম্ভব পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নিন, প্রয়োজন হলে কাজে বিরতি নিয়ে বিশ্রাম নিন, অথবা সম্ভব হলে কাজ কম পরিমাণে করুন। নিয়মিত বিরতিতে প্রতি রাতে দ্রুত কাজ শেষ করুন, বাসার কাজে অথবা বাচ্চা দেখাশোনায় কারো সাহায্য নিন এবং যখনই পারবেন কাজের বিরতিতে শোয়ার চেষ্টা করুন। নিজের জন্য সময় বের করার চেষ্টা করুন যাতে বিশ্রাম, ব্যায়াম, তাজা বাতাস গ্রহণ এবং প্রচলিত জীবনযাপন পদ্ধতির বাইরে কিছু করার জন্য আপনার সুযোগ থাকে। সাঁতার কাটা, হাঁটা, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে মাথা ব্যাথা কমানো যেতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত খাবার গ্রহণ করুন, যদি একসাথে বেশি পরিমাণ খাবার খেতে না পারেন, তাহলে অল্প পরিমাণে খাদ্য নিয়মিত বিরতিতে গ্রহণ করুন। সুষম খাদ্য গ্রহণের প্রতি বিশেষ নজর দিন, তবে যদি সকাল বেলার অসুস্থতায় (মর্নিং সিকনেস) ভোগেন, তাহলে সুষম খাদ্য গ্রহণ কঠিন হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা হিসেবে সমাধানের জন্য শুকনো ফলের মতো হালকা খাবার সবসময় ব্যাগে রাখুন।


প্রকার, রং নির্বিশেষে সব ধরণের খাবার গ্রহণ করুন। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণের অনেকগুলো পদ্ধতির মধ্যে এটি অন্যতম সহজ পন্থা। প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করুন এবং ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় এবং অ্যালকোহল কম পরিমাণে গ্রহণ করুন অথবা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করুন। সাইনুসাইটিস এবং এর বদ্ধতায় ভুগলে দুধ জাতীয় দ্রব্য, যেমন পনির, দুধ ও দই গ্রহণের পরিমাণ কমান। কেননা এ জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের কারনে অতিরিক্ত মিউকাস উৎপন্ন হয় যা সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

যদি মাথা ব্যাথা বাড়তে থাকে, তাহলে নিজেকে এতে সমর্পণ করে এবং কোনো কিছু না করে এটি প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন না, কারণ এতে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং মাথা ব্যাথা আরো তীব্র হয়ে যেতে পারে। খোলা বাতাসে ধীরে হাঁটার চেষ্টা করতে পারেন। যদি এতে ফল না মিলে বিছানায় যান এবং ঘুম বা বিশ্রাম নিন।

আপনার অঙ্গভঙ্গীতে প্রভাব ফেলে এবং তার ফলে মাথা ব্যাথা সৃষ্টি করে এমন বিষয়গুলো সনাক্ত করা জরুরি। এটা হতে পারে চেয়ারে বসার অবস্থা, কাজের সময় কম্পিউটার স্ক্রীন ও মাউস ম্যাটের অবস্থান ইত্যাদি। বাসায়, যদি বিছানা থেকে বালিশ উঁচু হয়, তাহলে এর কারনে ঘাড়ে ব্যাথা হতে পারে এবং ফলশ্রুতিতে মাথা ব্যাথা হতে পারে যদি ম্যাট্রেস বা তোষক ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়, তাহলে আপনার পিঠে এর প্রভাব পড়বে। যদিও পিঠে আপনি ব্যাথা অনুভব করবেন না, কারন এ ব্যাথা পিঠের পরিবর্তে ঘাড় ও মাথায় হবে। ম্যাট্রেস বা তোষক উল্টে দেয়া স্বল্প সময়ের জন্য উপকার দিবে।

ঘাড়ের ব্যায়াম (neck stretching) করে দেখতে পারেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাড়ের পেশিতে খিঁচুনির (spasm) কারনে মাথা ব্যাথা করতে পারে। নিচের ব্যায়ামগুলো প্রতিদিন দু’বেলা ২০ মিনিট করে করে দেখুনঃ

থুতনি সামনের দিকে আগানো, উপরে তোলা, এবং পর্যায়ক্রমে দুই কাঁধের দিকে ফেরানো, ইত্যাদির মাধ্যমে ঘাড় নাড়াচাড়া।
দুই কাঁধ উপরে তুলে ধরুন, তারপর কাঁধ উপরে তুলে ধরে রেখে সামনের দিকে নিন, তারপর কাঁধ উপরে তুলে ধরে রেখে পিছনের দিকে নিয়ে যান (shoulder shrugs )।
আপনার হাতের তালু দিয়ে কপালে চাপ দিন এবং ধরে রাখুন; মাথার দু’দিকে হাত দিয়ে চাপ দিন (neck isometrics)।
সিগারেটের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে মাইগ্রেনের ব্যাথার পেছনে। যারা নিয়মিত ধুমপানে আসক্ত এবং তাদের আশে পাশে যারা থাকেন তাদের মাথাব্যাথা বেশি হয় এটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। তাই ধূমপান ও ধূমপায়ী থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

টেনশন, দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা এসব মনের ওপরে অনেকটা চাপ ফেলে, যা আমাদের জন্য অনেক ক্ষতিকর। সারাক্ষণ মানসিক অস্থিরতার মাঝে থাকলে মাথা ব্যাথা তো হবেই, এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। দুশ্চিন্তা কমাতে হবে, পেশাগত মানসিক চাপ ঘরে বয়ে আনা যাবে না কখনই। মনকে একটু বিশ্রাম দিন, ঘরে ফিরে মাথা থেকে কাজের কথা সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে একান্ত বা প্রিয়জনের সাথে কিছু সময় কাটান।

গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যাথার জন্য ওষুধ খাওয়া কি নিরাপদ?
গর্ভাবস্থায় সবধরনের ওষুধ খাওয়া যায় না। কিছু কিছু ওষুধ গর্ভের সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর ওষুধের তালিকায় সাধারন বেদনানাশক থেকে শুরু করে বেশ কিছু এন্টিবায়োটিকও রয়েছে। কিছু কিছু ওষুধ গর্ভাবস্থার প্রথম ধাপে নিরাপদ কিন্তু শেষ ধাপে ক্ষতিকর হতে পারে। এমনকি গর্ভাবস্থা সন্দেহ হলেও এই ওষুধ গুলো এড়িয়ে চলা উচিত। আবার কিছু কিছু ওষুধ আছে, সাধারনত গর্ভাবস্থায় দেয়া হয় না, কিন্তু সম্ভাব্য ঝুকির চেয়ে প্রয়োজনীয়তা যখন জরুরী হয়ে পড়ে তখন দেয়া হয়।

গর্ভাবস্থায় কোন ধরনের ব্যাথানাশক ওষুধই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত নয় এমনকি আপনি গর্ভধারণের আগে মাইগ্রেনের কোন ওষুধ খেয়ে থাকলেও গর্ভধারণের পর তা ডাক্তারকে জানিয়ে খাওয়া উচিত।

কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?
যদি আপনি দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে থাকেন এবং এ সময় যদি প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা হয় বা গর্ভাবস্থায় প্রথম বারের মন মাথা ব্যাথা দেখা দেয় তবে তা ডাক্তারকে জানাতে হবে। এর সাথে সাথে দৃষ্টি শক্তির পরিবর্তন, উপরের পেটে তীব্র ব্যাথা, বমি বমি ভাব, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া এবং হাত ও পায়ে পানি আসার লক্ষন থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। এগুলো প্রি-এক্লাম্পশিয়ার লক্ষন হতে পারে। তাই দ্রুত রক্তচাপ ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

যদি হঠাৎ করে প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা হয় যা সহজে সাড়তে চায়না, ব্যাথায় ঘুম ভেঙ্গে যায়, ব্যাথার সাথে জ্বর এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার উপসর্গ থাকে তবে ডাক্তারকে জানাতে হবে। এছারাও যদি মাথা ব্যাথা ক্রমশ বাড়তে থাকে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, কথা জড়িয়ে যায় সে ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

যদি মাথায় কোন আঘাতের কারনে মাথা ব্যাথা হয়, সাইনাসের কোন লক্ষন থাকে এবং কিছু পড়ার সময় বা স্ক্রীনের দিকে তাকানোর সময় মাথা ব্যাথা হয় তবে তা ডাক্তারকে জানাতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Print Friendly, PDF & Email

This Post Has One Comment

  1. 25t0AIZvp9NHyH9LLnRq17t3BgOh3uozmn2rz9Ce3mjgKQxpEku4ZOdCJq2sNxl3KcuIDVgPE

    Hi, very nice website, cheers!
    ——————————————————
    Need cheap and reliable hosting? Our shared plans start at $10 for an year and VPS plans for $6/Mo.
    ——————————————————
    Check here: https://www.good-webhosting.com/

    25t0AIZvp9NHyH9LLnRq17t3BgOh3uozmn2rz9Ce3mjgKQxpEku4ZOdCJq2sNxl3KcuIDVgPE

Leave a Reply

Close Menu