হজ্জ ও ওমরা

হজ্জ ও ওমরা হজ্ব বা হজ্জ বা হজ ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা।

এটি ইসলাম ধর্মের চতুর্থ স্তম্ভ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ সম্পাদন করা ফরজ বা আবশ্যিক।

আরবি জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজের জন্য নির্ধরিত সময়।

হজ পালনের জন্য বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা নগরী এবং সন্নিহিত মিনা, আরাফাত, মুযদালিফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক। এটি পৃথিবীর বাৎসরিক তীর্থযাত্রা।

শারীরিক ও আর্থিকভাবে হজ পালনে সক্ষম হয়ে ওঠার অবস্থাকে ইস্তিতাহ বলা হয় এবং যে মুসলমান এই শর্ত পূরণ করে তাকে মুস্তি বলা হয়। হজ হ’ল মুসলিম জনগণের সংহতি, এবং আল্লাহর নিকটে তাদের আনুগত্যের প্রদর্শনী।

যিনি হজ সম্পাদনের জন্য গমন করেন তাকে বলা হয় হাজী। হজ শব্দের অর্থ “একটি যাত্রায় অংশ নেওয়া”, যা ভ্রমণের বাহ্যিক কাজ এবং উদ্দেশ্যগুলির অভ্যন্তরীণ কাজ উভয়কেই বোঝায়।

হজ্জ ও ওমরা

ইতিহাস

হজের বর্তমান প্যাটার্নটি মুহাম্মদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তবে কুরআন মতে হজের উপাদানগুলি ইব্রাহিমের আঃ সময়ে পাওয়া যায়।

ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে, ইব্রাহিম আঃ তাঁর স্ত্রী হাজেরা ও তাঁর পুত্র ইসমাইলকে প্রাচীন মক্কার মরুভূমিতে একা রেখে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

জলের সন্ধানে হাজারা মরিয়া হয়ে সাফা ও মারওয়ার দুটি পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌড়েছিল কিন্তু কিছুই পেল না। হতাশায় ফিরে ইসমাইলের দিকে, সে দেখতে পেল যে, শিশুটি তার পা দিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ছে এবং তার পায়ের নীচে একটি জলের ঝর্ণা প্রবাহিত হয়েছে।

পরে ইব্রাহিমকে আঃ কাবা (যা তিনি ইসমাইলের আঃ সহায়তায় করেছিলেন) তৈরি করার এবং লোকদের সেখানে হজ্জ আমন্ত্রণ করার আহ্বান জানান।

কুরআন ২:১২৪–১২৭ এবং ২২:২৭–৩০ আয়াতগুলিতে এই ঘটনাগুলির উল্লেখ রয়েছে।

জিবরাঈল কাবার সাথে সংযু জন্য জান্নাত থেকে হাজরে আসওয়াদ পাথর এনেছিলেন।

মধ্যযুগীয় সময়ে, তীর্থযাত্রীরা সিরিয়া, মিশর এবং ইরাকের বড় শহরগুলিতে মক্কায় যাওয়ার জন্য দলে দলে কয়েক হাজার তীর্থযাত্রীর দল এবং কাফেলায় জড়ো হত,

যা প্রায়শই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হতো।

হজ কাফেলাগুলি, বিশেষত মামলুক সালতানাত এবং এর উত্তরাধিকারী অটোমান সাম্রাজ্যের আবির্ভাবের সাথে সাথে একজন আমির আল-হজ্জের নেতৃত্বে চিকিৎসক এবং সামরিক বাহিনী নিয়ে হজ্জে যেতেন।

ইসলামে হজ্জের গুরুত্ব

আবু হোরায়রা বর্ণিত এক হাদিসে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গোনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে হজ থেকে এমতাবস্খায় ফিরে আসে যেন আজই মায়ের গর্ভ থেকে বের হয়েছে।

অর্থাৎ জন্মের পর শিশু যেমন নিষ্পাপ থাকে, সেও তদ্রূপই হয়ে যায়।”

আরেকটি হাদিসে তিনি বলেছেনঃ

“শয়তান আরাফার দিন হতে অধিক লজ্জিত ও অপদস্থ আর কোনো দিন হয় না, কেননা ওই দিন আল্লাহতায়ালা স্বীয় বান্দার প্রতি অগণিত রহমত বর্ষণ করেন ও অসংখ্য কবিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন।”

তিনি আরো বলেছেনঃ “একটি বিশুদ্ধ ও মকবুল হজ সমগ্র পৃথিবী ও পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুর চেয়ে উত্তম। বেহেস্ত ব্যতীত অন্য কোনো বস্তু তার প্রতিদান হতে পারে না।”

হজ্বের শর্তাদি

হজ্বে গমনের জন্য মুসলমানদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য।

তথ্যসূত্র

পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ দেখতে এখানে ক্লীক করুন!

Leave a Reply