ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ

ইসলাম ধর্মে পাঁচটি স্তম্ভ আছে এই পাঁচটি বিষয়ের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। একই সাথে প্রথম তিনটির উপর আমল করা সকল মুসলমানের জন্য ফরজ এবং শেষ দুটি সামর্থ্য অনুযায়ী আদায় করা ফরজ বা অবশ্য পালনীয় কাজ।

উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,

আল্লাহর রাসুল (মুহাম্মাদ) বলেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি। যথা- আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা, সলাত আদায় করা, যাকাত আদায় করা, হজব্রত সম্পাদন করা এবং রমজানের সিয়ামব্রত পালন করা (রোজা রাখা)।

প্রথম স্তম্ভ: সাক্ষ্য ও বিশ্বাস

শাহাদাহ্‌ ও ঈমান

কালেমা শাহাদাত বলতে মূলত: এখানে বুঝানো হয়েছে কালেমায়ে শাহাদাত মুখে বলা (সাক্ষ্য দেওয়া) ও অন্তরে বিশ্বাস করা (বিশ্বাস)৷ এই বিশ্বাসকে বলা হয় “ঈমান”৷

কালেমা শাহাদত হলো

اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَه’ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه’ وَرَسُوْلُه’
উচ্চারণ: “আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।”
অনুবাদ: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই । আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বান্দা এবং তার প্রেরিত রাসূল।”

ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ:

  • ফজরের নামাজ
  • যোহরের নামাজ
  • আসরের নামাজ
  • মাগরিবের নামাজ
  • এশার নামাজ

তৃৃতীয় স্তম্ভ: সাওম

রোযা বা রোজা (ফার্সি روزہ রুজ়ে), সাওম (আরবি صوم স্বাউম্‌), বা সিয়াম ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়। সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,পাপাচার, কামাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোযা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, (فرض ফ়ার্দ্ব্‌) যার অর্থ অবশ্য পালনীয়।

প্রকারভেদ

রোজা পাঁচ প্রকার।

ফরজ রোজা: যা আবার চার প্রকার-
রমজান মাসের রোজা।
কোন কারণ বশত রমজানের রোজা ভঙ্গ হয়ে গেলে তার কাযা আদায়ে রোজা।
শরিয়তে স্বীকৃত কারণ ব্যতীত রমজানের রোজা ছেড়ে দিলে কাফ্ফারা হিসেবে ৬০টি রোজা রাখা।
রোজার মান্নত করলে তা আদায় করা।
ওয়াজিব রোজা: নফল রোজা রেখে ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা ওয়াজিব।
সুন্নত রোজা: মহরম মাসের নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখা।
মোস্তাহাব রোজা: প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, এবং ১৫ তারিখে, প্রতি সাপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারে, কোন কোন ইমামের মতে শাওয়াল মাসে পৃথক পৃথক প্রতি সপ্তাহে দুটো করে ছয়টি রোজা রাখা মোস্তাহাব। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এক সাথে হোক কিংবা পৃথক পৃথক হোক শাওয়ালের ছয়টি রোজা মুস্তাহাব।
নফল রোজা: মোস্তাহাব আর নফল খুব কাছাকাছির ইবাদত। সহজ অর্থে নফল হলো যা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত নয় এমন ইবাদত পূণ্যের নিয়তে করা। রোজার ক্ষেত্রেও তাই।

চতুর্থ স্তম্ভ: যাকাত

যাকাত (আরবি: زكاة‎‎ zakāt, “যা পরিশুদ্ধ করে”, আরও আরবি: زكاة ألمال‎‎, “সম্পদের যাকাত”) হলো ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে, গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়।

সাধারণত নির্ধারিত সীমার অধিক সম্পত্তি হিজরি ১ বছর ধরে থাকলে মোট সম্পত্তির ২.৫ শতাংশ (২.৫%) বা ১/৪০ অংশ বিতরণ করতে হয়। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ্জ্ব এবং যাকাত শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষ যে, তা সম্পদশালীদের জন্য ফরয বা আবশ্যিক হয়। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন এ “যাকাত” শব্দের উল্লেখ এসেছে ৩২ বার।

নামাজের পরে সবচেয়ে বেশি বার এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চম স্তম্ভ: হজ্জ্ব

হজ্ব বা হজ্জ বা হজ (আরবি: حج‎‎) ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা।

এটি ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ্জ্ব সম্পাদন করা ফরজ বা আবশ্যিক।

আরবি জিলহজ্জ্ব মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ্জ্বের জন্য নির্ধরিত সময়। হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের মক্কা নগরী এবং সন্নিহিত মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক।

ষষ্ঠ স্তম্ভ

জিহাদকে অনেক সময় ইসলামের ষষ্ঠ স্তম্ভ হিসাবে গণ্য করা হয়। ২০১৫ সালে বিতর্কিত ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এবদো একটি খবর প্রকাশ করে যে, সুইজারল্যান্ডের এক মুসলিম গবেষক তারিক রামাদান “জিহাদ”কে ইসলামের ষষ্ঠ স্তম্ভ হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও ইসলামের কোনো শাখাতেই ষষ্ঠ স্তম্ভ হিসাবে এর কোনো স্বীকৃৃতি নেই।

জিহাদকে শুধুমাত্র ইসলামের একটি আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত হিসাবে গণ্য করা হয়।

Leave a Reply