শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

অদেখা জিনিসের উপর বিশ্বাস

অদেখা জিনিসের উপর বিশ্বাস

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা বলেনঃ
ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱلْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقْنَـٰهُمْ يُنفِقُونَ [সূরা আল বাক্বারাঃ ২/৩]
যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে [2/3]

ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱلْغَيْبِ – যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন।
হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ
সত্য বলে স্বীকার করা কে ঈমান বলে।
হযরত আব্বাস রাঃ ও এটাই মত দিয়েছেন।

হযরত রাবী বিন আনাস রাঃ বলেন যে,
অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করাকেই ঈমান হলা হয়।

ইমাম ইবনে জারির (রহ) বলেন যে,
এ সবের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই, ভাবার্থ এই যে; তাঁরা মুখের দ্বারা, অন্তর দ্বারা ও আমল দ্বারা অদৃশের উপর ঈমান আনে ও অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখে। (তাফসীর ইবনে কাছিরঃ ১ম খন্ডঃ পৃঃ ১৪৪-১৪৫)

ঈমান হলোঃ অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখা;

আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِٱلْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌۭ وَأَجْرٌۭ كَبِيرٌۭ
অর্থাৎঃ নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।[সূরা মুলকঃ ৬৭/১২]

আবুল আলিয়া (রঃ) বলেন যে,
এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আল্লাহর উপর, ফেরেশতাদের উপর, কিতাব সমূহের উপর, কিয়ামতের উপর, জান্নাতের উপর , জাহান্নামের উপর, আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের উপর, এবং মৃত্যুর পর পূনরুত্থানের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
কাতাদাহ দায়ামার (রহ) এর ও এটাই মত।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ),
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ), এবং আরও কয়েকজন সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণনা হয়েছে যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে ঐ সব গোপনীয় জিনিস যা দৃষ্টির অন্তরালে রয়েছে যেমন, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতা, ইত্যাদি।

وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقْنَـٰهُمْ يُنفِقُونَ
“এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে”

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ
তাঁরা ফরজ স্বলাত আদায় করে ও রুকু সিজদাহ, তিলাওয়াত, নম্রতা ও মনযোগ প্রতিষ্ঠিত করে।

ইমাম ইবনে কাছীর বলেন যেঃ
কুরআন কারীমের মধ্যে অধিকাংশ জায়গায় নামায ও মাল খরচ করার বর্ণনা মিলিতভাবে এসেছে। এজন্যে নামায হচ্ছে আল্লাহর হক এবং তাঁর ইবাদত-যা তাঁর একত্ববাদ, প্রশংসা, শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন, তাঁর উপর ভরসা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করার নাম।

খরচঃ
আর খরচ করা হচ্ছে সৃষ্ট জীবের প্রতি অনুগ্রহ করা। যার দ্বারা তাদের উপকার হয়। এর সবচেয়ে বেশি হকদার হচ্ছে তাঁর পরিবার-পরিজন, আত্বীয়-স্বজন ও দাস-দাসী। অতঃপর দুরের লোকজন এবং অপরিচিত ব্যাক্তিরা তাঁর হকদার।
সুতরাং অবশ্যকরনীয় সমস্ত ব্যয় ও ফরয যাকাত এর অন্তর্ভূক্ত।
[তাফসীর ইবনে কাছিরঃ ১ম খন্ড, পৃঃ ১৫০]

সূরা বাক্বারা তিন নাম্বার আয়াত থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, ঈমান আনার মানেই হলো অদেখা বিষয়গুলো যা আমরা দেখি না তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। যেমন আমরা ঈমানে মুজমাল পরেছিলাম ছোটবেলায়; তাঁর প্রত্যেকটি জিনিস-ই হলো অদেখা, যেটাকে আরবি ভাষায় “গায়েব” বলা হয়। গায়েবের উপর বিশ্বাস করার নামই হলো ঈমান। আর এই ঈমান/ বিশ্বাস যদি কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক না হয় তাহলে আমাদের জীবনের কোন আমলই কাজে আসবে না। তাই আমাদের প্রথম যেই কাজটি তা হলো কুরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী ঈমান আনা। আরও জানতে দেখুন ঈমান সম্পর্কে বিস্তারীত…

লিখেছেনঃ অন্তর বিন আইয়ূব মাদবর

Leave a Reply

Close Menu