Thu. Nov 14th, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

স্ত্রীর ভুল ও স্বামীর রাগ

স্ত্রীর ভুল ও স্বামীর রাগ
ভুল থেকে শিক্ষাগ্রহন কারী অভিজ্ঞগণ বলেন,
ভুল ক’রে স্বীকার না করা দ্বিতীয় ভুল।
সবচেয়ে বড় ভুল এই যে, ভুল করেও মনে করা যে, আমি ভুল করিনি।
ভুল করা বসা এক অভিজ্ঞতা, কিন্তু দ্বিতীয় বার করা আহমকী।
যদি ভুল করে ফেল, তবে তা সংশোধনের জন্য বিলম্ব ও লজ্জাবোধ করোনা না।
ভুল –ভ্রান্তি নিয়েই জীবন। অতএব সেই ভুলকে জন্য প্রাধান্য দিয়ে বাকী জীবনে অশান্তি ডেকে আনার কোন যুক্তি নেই।আমাদের সমস্যার উত্তর পাওয়া এতো কঠিন, এতে অবাক হওয়ার কিছু আছে?
একটা অঙ্কের সমাধান কি সম্ভব, যদি আগেই ভেবে নিই দুই আর দুয়ে পাঁচ হয়? তবুও এমন ঢেক লোক আছে যারা আর দুয়ে পাঁচ বা পাঁচশো হয় ভেবে নিজের আর অন্যের জীবন কে অতিষ্ঠ করে তোলে।

‘আপস মানব, তালগাছটি আমার। নারকেল গাছ ভাগে না পড়লে বিচার মানি না।’
বললে নিস্পত্তি সম্ভব কিভাবে?
ভুল হয়ে গেলে ভুলের মোকাবিলা করার শ্রেষ্ঠ উপায় হল, দ্রুত ভুল স্বীকার করা, ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করা, ভুলের পুনরাবৃত্তি না করা, ভুলের জন্য কাউকে দোষ না দেওয়া বা অজুহাত সৃষ্টি না করা।

মোটের উপর কথা, জ্ঞানিগণ বলেন, স্বামীর কাছে হয়ে গেলে তুমি তিনটি জিনিস করতে পারঃ
(ক) ভুলকে অগ্রাহ্য করতে পার।
(খ) ভুল অস্বীকার করতে পার।
(গ) ভুল মেনে নিয়ে তা থেকে শিক্ষা নিতে পার।

তৃতীয় বিকল্পটি অনুসরণ করার জন্য সাহস দরকার। এর মধ্যে ঝুঁকি আছে, কিন্তু এটি সুফল প্রদও। যদি তুমি সমর্থন করবে এবং শেষ পর্যন্ত সেই দুর্বলতা গুলোই বড় হয়ে তোমার সমস্ত জীবন কে প্রভাবিত করবে।এই দুর্বলতা গুলোকে শুধরাবার আর কোন সুযোগ থাকবে না। আর তারই ফলশ্রুতিতে সারা জীবন তিক্ত ও বিষময় হয়ে উঠবে। ভুল স্বীকার ক’রে ক্ষমা চাইলে ঐ ‘ভুল’ ‘ফুল’ হয়ে ফুটে উঠবে।
মানুষ ভালো-মন্দের পুতুল, ভুল তাঁর প্রকৃতিগত স্বভাব। কিছু কিছু ভুল আছে, যা প্রতিটি রক্ত- মাংসের মানুষই ক’রে থাকে। ভুল হতে পারে স্বামীর। ভুল হতে পারে স্ত্রীর। আমাদের আদি পিতার ভুলের জন্য আমরা বেহেশ্ত থেকে এ দুনিয়ায় আসতে বাধ্য হয়েছি। মানুষ মাত্রই ছোট-বড় ভুল ক’রে থাকে। মানুষ হয়ে ভুল করা আশ্চর্যের কিছু নয়; বরং মানুষ হয়ে ভুল না করাটাই বড় আশ্চর্যের বিষয়।
পাপীদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে পাপ থেকে তওবা করে। তেমনি ভুলকারীদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে ভুল ক’রে স্বীকার করে।
মমতাময়ী আদর্শ বোনটি আমার! যে স্ত্রী ভুল ক’রে ভুল স্বীকার ক’রে স্বামীর কাছে ক্ষমা প্রার্থিনী হয়, সে বড় আদর্শ স্ত্রী।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের স্ত্রীর’ জান্নাতী হবে, যে অধিক প্রণয়িণী, সন্তান দাত্রী, বার-বার ভুল করে বার-বার স্বামীর নিকট আত্মসম্পূর্ণ কারিনী, যার স্বামী রাগ করলে সে তাঁর নিকট এসে তাঁর হাতে হাতে রেখে বলে, আপনি রাজি (ঠান্ডা) না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাবই না।”(সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮৭ নং)

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.