Mon. Sep 23rd, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

সময় কে কাজে লাগাও

সময় কে কাজে লাগাও।


আরবীতে একটি কথা আছে,

সময় হল তরবারির নত। তুমি তাকে কাটতে না পারলে, সে তোমাকে কেটে ফেলবে।

সময় অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু এ মূল্য থেকে টাকা-পয়সার মুল্যের পার্থক্য আছে। টাকা-পয়সা সঞ্চয় করা যায়, ধার দেওয়া যায় এবং প্রয়োজনে ধার নেওয়া যায় ও ক্রয় করা যায়। কিন্তু সময় ধার দেওয়া যায় না, ধার নেওয়া যায় না এবং ক্রয় করাও যায় না।

তোমার সংসারে যদি সময় থাকে এবং সে সময় কাটতে না চায়, তাহলে জীবন একঘেয়ে হয়ে ওঠে। আর তার জন্যই প্রয়োজন পড়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার। মনকে ফ্রি ও ফ্রেস করার মত কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করার। কিন্তু তুমি মুসলিম মহিলা। কোন এমন স্থানে বেড়াতে যাওয়া বা এমন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করা তোমার জন্য বৈধ নয়, যাতে তোমার পরোয়ারদেগার সন্তুষ্ট নন।

এমন কিছু শোনা, যাতে আল্লাহর যিকর নেই অথবা তা অসার ও অশ্লীল, তার মাধ্যমে সময় কাটানো আদর্শ রমণীর আচরণ নয়।

এমন মজলিসে বসে সময় অতিবাহিত করা, যাতে আল্লাহর যিকর নেই, আদর্শ মহিলার পরিচয় নয়।

এমন অবৈধ খেলা (যেমন কিরাম, তাস, লুডু ইত্যাদি) খেলে সময় পাশ করা, যাতে অযথা সময় নষ্ট হয়, মুসলিম মহিলার আদর্শ নয়।

সুতরাং তুমি এমন জিনিস দেখ, শোন ও কর, যাতে তোমার দ্বীন-দুনিয়ার উপকার লাভ হয়। এমনকি কাজের ব্যস্ততার সময়েও কিচেনে টেপ রেখে ভাল কথা শুনতে পার। মহিলার সমাগম হলে ঐ বক্তৃতার ক্যাসেট লাগিয়ে সেই মজলিসকে আল্লাহর যিকরের মজলিস বানাতে পার।

যেহেতু উপদেশ মু’মিনদেরকে উপকৃত করে।(সূরা-যারিয়াত-আয়াত ৫৫)

সেই সাথে ‘ইলম শিক্ষা ফরয’-এর দায়িত্বও পালন হবে এবং দাওয়াতের কাজেও সহযোগিতা লাভ হবে।

আদর্শ বোনটি আমার! তুমি হবে আতর-ওয়ালার মত। যার কাছে আতর কিনা যায় অথবা উপহার পাওয়া যায়। তা না হলেও এমনিতেই তোমার নিকট থেকে অন্য মহিলারা বিনামূল্যে আতরের সুগন্ধ পায়।

উপরন্ত মানুষকে বাঁচতে হলে একটা নেশা নিয়ে বাঁচতে হয়। তাতে সময় কাটে ভাল এবং জীবন- যাত্রায় বিরক্তি অনুভূত হয় না। ভাল বই পড়া ও কিছু লেখার নেশা রাখতে পার। এতে তোমার একাকিত্ব দূর হবে; যদি তুমি একাকিনী হও। কোন দুঃখ থাকলে, তাও ভুলতে পারবে। এর মাধ্যমে মনের ভার হাল্কা হবে। দুঃখের কথা অপরকে বললে যেমন হাল্কা হয়ে যায়, তেমনি লিখে ফেললেও অনেকটা তাই হয়। পরীক্ষা প্রার্থনীয়।

সংসারের সকল জিনিস পারিপাট্যের সাথে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখ। তাতে অনেক সময় বাঁচবে এবং কোন জিনিস খোঁজাখুঁজির পিছনে অযথা সময় ব্যয় হবে না।

নিয়মানুবর্তিতা আরো দশটা কাজ বেশী করার পথ দেখিয়ে দেয়। সময়ে খাওয়া, সময়ে শোওয়া, সময়ে জাগার অভ্যাস কর। সংসারে অশান্তি আসবে না।

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.