Mon. Sep 23rd, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার কর

প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার কর।


প্রতিবেশী সৎ হওয়া তোমার সৌভাগ্য ও সুখের বিষয়। প্রতিবেশী খারাপ হলে তুমি এক হতভাগিনী।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “পুরষের জন্য সুখ ও সৌভাগ্যের বিষয় হল চারটি; সাধ্বী নারী, প্রশস্ত বাড়ি, সৎ প্রতিবেশী এবং সচল সওয়ারী (গাড়ি)। আর দুঃখ ও দুর্ভাগ্যের বিষয়ও চারটি; অসৎ প্রতিবেশী, অসতী স্ত্রী, অচল সওয়ারী (গাড়ি) এবং সংকীর্ণ বাড়ি। (সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮২ নং)

এই জন্য প্রতিবেশীর সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার গুরুত্ব এসেছে ইসলামে।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করা, এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার রাখায় দেশ আবাদ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়।” (আহমাদ, সহীহুল জামে ৩৭৬৭ নং)

তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম! সে (পূর্ণ) মু’মিন হতে পারে না। আল্লাহর কসম! সে মু;মিন হতে পারে না! আল্লাহর কসম! সে মু;মিন হতে পারে না!”

তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘সে কে হে আল্লাহর রসূল ?!’ তিনি উত্তরে বললেন, “ যে ব্যক্তির অনিষ্টকারিতা থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না।” (বুখারী ৬০১৬, মুসলিম ৪৬ নং, আহমদ ২/২৮৮

“সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ আছে! কোন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মু’মিন হতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার প্রতিবেশী অথবা(কোন) ভায়ের জন্য তাই পছন্দ করেছে যা সে নিজের জন্য করে ।”(মুসলিম ৪৫ নং)

“সে বেহেশ্ত প্রবেশ করবে না, যে ব্যক্তির অনিষ্টকারিতা থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না।”(মুসলিম)

“যে ব্যক্তি প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় সে অভিশপ্ত।”(সহীহ তারগীব ২৫৫৮ নং)

এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা বেশী বেশী (নফল) নামায পড়ে, রোযা রাখে ও দান খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীর কষ্ট দেয়।( তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?)’ তিনি বললেন, “সে দোযখ যাবে।”

লোকটি আবার বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা অল্প (নফল) নামায পড়ে, রোযা রাখে ও দান খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না।”

(তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?)’ তিনি বলছেন,সে বেহেশ্ত যাবে।”

(আহমাদ ২/৪৪০, ইবনে হিব্বান, হাকেম ৪/১৬৬, সহীহ তারগীব ২৫৬০ নং)

মহানবী (সাঃ) মহিলাদের কে বলেন, “হে মুসলিম মহিলাগন! তোমরা তোমাদের প্রতিবেশী মহিলাদের জন্য কিছু পাঠানোকে তুচ্ছ ভেবো না; যদিও বা তা ছাগলের খুরই হোক না কেন।”( আহমাদ, বুখারী, মুসলিম। সহীহুল জামে ৭৯৮৯ নং)

একদা মহানবী (সাঃ) আবূ যার্রকে বললেন, “হে আবূ যার্র! যখন তুমি (গোশ্ত বা অন্য কিছুর) ঝোল বানাবে, তখন তাতে পানি বেশী করে দিও। অতঃপর তুমি তোমার প্রতিবেশীদের কে উপঢৌকন দিও!” (মুসলিম ২৬২৫ নং)

আর প্রতিবেশী ক্ষুধায় কালাতিপাত করলে তার জন্য দায়ী হবে প্রতিবেশী।

জেনে শুনে নিবারণ না করলে মু’মিনের ঈমানের পরিচয় বিনাশপ্রাপ্ত হয়। “সে মু’মিন নয়, যে ভরপেট খায় অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী উপোস থাকে।”

(ত্বাবারানী, হাকেম, বাইহাকী, সহীহুল জামে ৫৩৮২ নং) “সে আমার প্রতি মু’মিন নয়, যে ভরপেট খেয়ে রাত্রি যাপন করে অথচ তার পাশে প্রতিবেশী ক্ষুধায় থাকে এবং সে তা জানে।”( বাযযার, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে ৫৫০৫ নং)

‘রাস্তার কথা জানার আগে সফরের সাথীর কথা জেনে নাও, বাড়ির কথা জানার আগে প্রতিবেশীর কথা জেনে নাও।’ কিন্তু আগে থেকেই যদি প্রতিবেশী খারাপ হয়, তাহলেই তোমাকে কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

‘প্রভু; যিনি পাপ দেখেন তিনি গোপন করেন। আর প্রতিবেশী না দেখলে হাল্লা করে প্রচার করে বেড়ায়’ (শেখ সা’দী)

‘যার গরু সে বলে বাঁঝা, পাড়া-পড়শী বলে সা-বিয়েন!’ ‘মায়ের পোড়ে না মাসীর পোড়ে, পাড়া-পড়শীর ধবলা ওড়ে।’

অতএব প্রতিবেশীকে মানিয়ে ও এড়িয়ে চল, নচেৎ তোমার সুখের সংসার দুখের সাগরে পরিণত হবে।

বিশেষ করে গেয়ো পরিবেশে ছেলে-মেয়ে নিয়ে, হাস-মুরগী-ছাগল নিয়ে, পানি নিকাশ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ থেকে শতক্রোশ দূরে থাকো। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ না মেনে চলা তার জন্য বড় দুঃখের বিষয়।

প্রতিবেশীর সাথে সদ্ভাব রাখ আল্লাহর ওয়াস্তে, পার্থিব কোন অবৈধ স্বার্থে ত নয়ই।

টিভি ইত্যাদি রঙ্গ-তামাশার আকর্ষণে ত অবশ্যই নয়। যিয়ারত কর, বেনামাযী হলে নসীহত কর। তবে টো-টো কোম্পানি হয়ো না।

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.