শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

ঈর্ষা থেকে দূরে থাকো


মহিলা প্রকৃতিগতভাবে ঈর্ষাময়ী। সে চায় স্বামীর মনের একচ্ছত্র অধিকার। এ অধিকারে অংশ দিতে চায় না কাউকে। সে চায় এই স্বামীর এ প্রথম ও শেষ স্ত্রী হোক।

সে চায় না যে, তাঁর স্বামী অন্য মহিলার প্রশংসা পর্যন্ত করুক। এমনকি সে অপর মহিলাকে স্বপ্নে দেখুক, তাও চায় না।

ডেনফোর পোষ্ট বলেন, বিবাহের পর কয়েক বছর আমাদের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখেই কাটছিল। হঠাৎ একদিন সকালে লক্ষ্য করলাম, সে রাগান্বিত অবস্থায় কাঁদছে।

আমি তাকে সস্নেহে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কি হল তোমার? কাঁদছ কেন?’ কিন্তু প্রথমতঃ সে জবাব দিতেই চাইল না। অতঃপর সে আমার দিকে লাল চোখে তাকিয়ে বলল, ‘এবার যদি স্বপ্নে আমি তোমাকে অন্য মেয়েকে চুমা দিতে দেখি, তাহলে আজীবন তোমার সাথে কথাই বলব না!’

কিন্তু এ হল ঈর্ষার অতিরঞ্জন। এতে দাম্পত্য জীবন তিক্ত হয়ে ওঠে। স্বামীর প্রতি সন্দেহ হয়। ভাবে, তাঁর অজান্তে তাঁর স্বামী হয়তো তাঁর খিয়ানত করছে, হয়তো বা অন্য মহিলা তাঁর মনের কোণে বাসা বেঁধেছে। হয়তো বা সে দ্বিতীয় বিবাহ করতে যাচ্ছে।

আব্দুল্লাহ বিন জা’ফর বিন আবী তালেব তাঁর কন্যাকে উপদেশে বলেছিলেন, সতীনের ঈর্ষা থেকে দূরে থেকো, কারণ তা হল তালাকের চাবিকাঠি, বেশী কথা কাটা থেকে দূরে থেকো, কারণ তা স্বামীর মনে ঘৃণা সৃষ্টি করে। সুরমা ব্যবহার করো, কারণ তা সবচেয়ে বেশী সুন্দর প্রসাধন। আর (আতর না পেলে) পানি হল সবচেয়ে উত্তম সুগন্ধি।

অবশ্য এ ঈর্ষা না থাকাও ভাল নয়। সুতরাং যখনই দেখবে, তোমার বোন বা অন্য কোন মহিলা স্বামীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, তখনই কৌশলের সাথে উভয়কে সতর্ক করবে। আল্লাহর ভয় দেখিয়ে উভয়কে নসীহত করবে।

যদি তোমার স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেই থাকে, তাহলে তা অন্যায় নয়। তাতে তুমি স্বামীর সাথে ঝামেলা বাধাতে পারো না। তুমি সমান অধিকার দাবী করতে পার, শরয়ী সমতা চাইতে পারো। সতীনের প্রতি হিংসা করতে পারো না। খামাখা তাঁর বদনাম ও গীবত করতে পারো না। বরং আদর্শ রমণী হিসাবে তুমি তাঁর সাথে বোন সমতুল্য ব্যবহার করতে পারো।

হয়তো বা সতীনের সংসারে তোমরা উভয়ে সুয়ো রানী; যদি তোমরা উভয়ে ইসলামী শরীয়তের অনুসারী হও। নচেৎ তোমার মধ্যে যদি অতিরিক্ত ঈর্ষা থাকে, তাহলে জেনে রেখো সয়ো রাণীর জন্য ‘সোনা-দানা দুধের বাটি, দুয়ো মেগের ওচলা মাটি!’

তোমরা তিনজনেই যদি শরীয়তের বাইরে চলতে চাও, কৌশল, বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও ইনসাফ প্রয়োগ না কর, তাহলেই নানা সমস্যা দেখা দেবে সংসারে; বিশেষ করে যদি দুই সতীনের একই বাড়ীতে বাস কর তাহলে।

নিম তেঁতো নিষিন্দি তেঁতো, তেঁতো মাকাল ফল, তাহার অধিক তেঁতো দু’ সতীনের ঘড়’। উপরন্ত সতীন যদি তোমার আত্মীয় কেউ হয়, তাহলে আরো বড় বিপত্তি। অভিজ্ঞরা বলেছেন, ‘নিম তেঁতো নিষিন্দি তেঁতো, তেঁতো মাকাল ফল, তাহার অধিক তেঁতো বোন সতীনের ঘর’। যদিও ইসলামে আপন বোন সতীন হওয়া বৈধ নয়।

আর তখন দেখতে পাবে, ‘একবরে ভাতারের মাগ চিংড়ি মাছের খোসা, দোজবরে ভাতারের মাগ নিত্যি করেন গোসা।’ ‘একবরের স্ত্রী হেলা-দোলা, দোজবরের স্ত্রী গলার মালা।’

আর সতীন তখন সতীনের বাটিতে গু গুলে খাবে। একে অপরের ছোট করবে এবং লড়ায়ের মাধ্যমে স্বামীর মনকে এককভাবে জয় করতে চাইবে। আর তখনই সৃষ্টি হবে ছোটলোকের পরিবেশ। যে পরিবেশ থেকে পানাহ চাওয়া দরকার তোমার, তোমার সতীনের এবং তোমার স্বামীরও।

স্বামী কোন রাত্রে দেরী করে বাড়ি ফিরলে, চট করে সন্দেহের বেড়াজালে জড়িয়ে যেয়ো না। বরং সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখ। জেনে রেখো, চট-জলদিতে কোন সিন্ধান্ত গ্রহন করলে পরবর্তীতে লাঞ্চিত হতে হবে।

কোন মহিলার সাথে তোমার স্বামীর কর্মগত যোগাযোগ থাকলে, কোন মহিলা তাঁর প্রশংসা করলে বা তাকে কোন ভালবাসার চিঠি বা উপহার দিলে, শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখে নিজেদের জীবন তিক্ত করো না। জ্ঞানী চালাক মেয়ের মত স্বমির গতিবিধি লক্ষ্য কর।

ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা কর। সত্যিই কোন বিষয় তোমাকে সন্ধিগ্ধ করলে উপদেশ ও বুঝাপড়ার মাধ্যমে পরিস্থিতির সামাল দাও।

অন্যথা কেবল একতরফা যোগাযোগের কথা শুনেই অগ্নিশর্মা হয়ে গিয়ে শান্তির সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করা ‘আদর্শ রমনি’র কাজ নয়।

স্বামীর মুখে দ্বিতীয় বিবাহের নাম শুনলেই তেতে উঠো না। হাসিমুখে শুনে নাও।

হয়তো বা সে তোমার সাথে মজাক করে বিবাহের কথা বলে। তাহলে নদী আসার আগে কাপড় তুলে লাভ কি? নদী আসুক, নদীতে নামার আগে কাপড় তুলো।

নচেৎ কেবল বিয়ের নাম শুনেই তুমি তাঁর প্রতি বিশ্বাস ভেঙ্গে দিলে সেই জ্বালাতে তুমিই একা পুড়ে মরবে। অবশ্য তাতে তোমার স্বামীও শান্তি পাবে না। কি দরকার? আগামী কাল দুপুরের সূর্যের তাপ আজ মধ্য রাতে ভোগ করে রাতের মাধুর্য উপভোগ করা হতে বঞ্চিত হবে কেন?

বলবে, তবেই সে করবে না।

আমি বলি, বাজে কথা। সত্যি সে বিয়ে করলে, তোমাকে না জানিয়েই করবে।

আর তুমি বাধাও দিতে পারবে না। তাহলে বৃথা অশান্তি কেন?

আর তুমি বাধাও দিতে পারবে না। তাহলে বৃথা অশান্তি কেন?

তাঁর চেয়ে চেষ্টা করে খোজ নিয়ে দেখ, কেন সে বিয়ে করতে চাচ্ছে? তোমার দোষে নয় তো? হয়তো বা তুমি তাঁর চোখে তৃপ্তি দিতে পার না। হয়তো তুমি তাঁর যৌনক্ষুধা মিটাতে সক্ষম নও। হয়তো বা তোমার কোন ক্রটি আছে। তাহলে সেই ক্রটি দূর করার চেষ্টা করো। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণের চাহিদা তুমিই পূরণ করে দাও। তুমিই স্বামীর রোমান্টিক মনের খালি কোণকে পরিপূর্ণ করে দাও। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত প্রেমের অভিনয় কর। অতিরিক্ত সাজ-সজ্জা করে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ কর। হয়তো বা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর আশা মাঝেই মিটে যাবে।

আর কারণ যদি উপযুক্ত হয়, তাহলে বলার কিছু নেই। আল্লাহ তাঁর জন্য যা হালাল করেছেন, তা তুমি হারাম করতে যাবে কেন? সে বিয়ে করলে তুমি তালাক নেবে কেন?

বিষ খাবে বা গলায় দড়ি নেবে কেন? নাকি পাপে তোমার ভয় নেই?

হয়তো বা স্বামী ব্যভিচার করলে, তুমি চুপ থাকবে। পাপ-কাপ ও মান গোপন রেখে সংসার করবে, কিন্তু বৈধভাবে বিয়ে করলে জীবনে আগুন লাগিয়ে দেবে? কেন এ হিংসা? যদি আল্লাহর ভয় ও তাঁর শরীয়তে পূর্ণ ঈমান থাকে, তাহলে তোমার মধ্যে এ অবৈধ প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত নয়।

বিবাহের পর তুমি তোমার স্বামীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে কেন? শাস্তি দিলে তুমিও শাস্তি পাবে। তোমার এক বোনের তালাক চাইলে, তুমি অন্যায় করবে। তোমার নবী (সাঃ) বলেন, “কোন মহিলা তাঁর বোনের (সতীনের) তালাক চাইবে না; যাতে সে তাঁর পাত্রে যা আছে তা ঢেলে ফেলে দেয়। (এবং একাই স্বামি-প্রেমের অধিকারিণী হয়।”) (বুখারী, মুসলিম)

তুমি যদি শরীয়ত না মান, তাহলে ভিন্ন কথা। র তাহলে তুমি ‘আদর্শ রমণী’ হতেও পারলে না। আদর্শ রমণী ত্যাগ স্বীকার করে। আর সেই ত্যাগ হবে সতীনকে বোনের মত ভালবেসে।

তোমার অধিকার নষ্ট হলে তোমার স্বামীর ক্ষতি হবে। তুমি তোমার অধিকার ও ইনসাফ চাইতে পার। যদি সে তোমাদের মধ্যে একজনকে অপর জনের উপর প্রাধান্য দেয়, তাহলে কিয়ামতের দিন অর্ধেক ধড় ধসা অবস্থায় হাশর হবে।( আবূ দাঊদ, তিরমিযী)

বেহেশ্ত-কামী বোনটি আমার! পরকালে বেহেশ্তে তুমি তোমার একাধিক সতীনদের কোন প্রকার হিংসা করবে না। ইহকালের সংসারেও তাদের প্রতি কোন হিংসা না করে তোমার সংসারকে বেহেশ্তী সংসার করে গড়ে তোল। তবেই না তুমি ‘আদর্শ সহধর্মিণী’।

Close Menu