Mon. Sep 23rd, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

ছলা-কলা থেকে দূরে থাক

ছলা-কলা থেকে দূরে থাক


ছলা-কলা-কৌশলে স্বামীকে ধোঁকায় ফেলে বোকা বানিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে নেওয়া আদর্শ মহিলার কাজ নয়। যেমন নানা কথা ও উদাহরণ পেশ করে নিজের নামে ঘড় বা জমি লিখিয়ে নেওয়া। অথচ মহান আল্লাহ তাঁর সঠিক ভাগ সুনিশ্চিত রেখেছেন।

গোপনে গোপনে ছেলে-মেয়েদেরকে মেলা-খেলা বা অবৈধ কোন জায়গা পাঠিয়ে তাদের চরিত্র নষ্ট করা।

বাড়ির কোন জিনিস ক্ষতি করে বাঁধা – ছাদা কথা দিয়ে স্বামীকে সন্তুষ্ট করা।

প্রেমের অতিরিক্ত অভিনয় করার মাধ্যমে উপপতির আসন সৃষ্টি করা।

সংসারের অন্যান্য সমস্যার ব্যাপারে হককে বাতিল ও বাতিল কে হক রূপে শোভন করে স্বামীর মনকে অন্যের প্রতি ক্ষেপিয়ে তোলা।

পর্দার ব্যাপারে স্বামীকে ধোকা দেওয়া। অর্থাৎ, স্বামীর সামনে পর্দাবিবি সাজা এবং সে কর্মস্থলে চলে গেলে যাকে তাকে দেখা দেওয়া, ঘরে ভরা ইত্যাদি।

স্বামীর টাকা রাখার জায়গা থেকে ‘ঘরের কাছে মরাই (পেয়ে) গুটি গুটি সরাই’ নীতি অবলম্বন করা।

আমাদের মহানবী (সাঃ) বলেন, “ধোঁকাবাজি, ফেরেববাজি ও খেয়ানতের স্থান জাহান্নামে। আর যে ব্যক্তি আমাদের কে ধোঁকা দেবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”(ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামে’)

মহিলাদের ছলা-কলাকে কুরআনের বিশাল বলা হয়েছে। বিশেষ করে সতীর বেশে অসতীর কুকৌশলকে। অনেক পুরুষ তাতে ধোঁকা খায়।

বনী ইসারঈলের এক সুন্দরী অন্যাসক্ত ছিল। স্বামীর সন্দেহ হলেও স্ত্রী পাত্তা দিল না।

শহরের বাইরে এক পাহাড় ছিল। সেখানে তারা সত্য-মিথ্যা যাচাই-এর জন্য কসম খেত এবং যে মিথ্যা কসম খেত, সে ধ্বংস হত। একদা স্বামী বলল, ‘তোমাকে আমার সন্দেহ হয়।’ স্ত্রী বলল, ‘আমার জীবনে তুমি ছাড়া আমাত গায়ে কেউ হাত দেয়নি, আর তুমি আমাকে খামাখা সিন্দেহ করছ’। স্বামী বলল, ‘তাহলে পাহাড়ের নিকট এ কথার উপর কসম খেতে হবে’।

মেয়েটি পড়ল চিন্তায়। উপপতি এলে তাঁর কাছে ঘটনা খুলে বলল এবং এক কৌশলের কথাও তাকে জানিয়ে রাখল। পরদিন স্বামী-স্ত্রী বের হল শহরের বাইরে কসম খেতে। পথে বের হতেই স্ত্রী ছল করে চলতে অক্ষমতা প্রকাশ করল। স্ত্রী স্বামীকে গাধ ভাড়া করতে পরামর্ষ দিল। পরিশেষে উপপতি ভাড়া করা গাধাতে চড়ে সেই পাহাড়ের ধারে যেতে যেতে ইচ্ছা করেই স্ত্রী পড়তে গেল। সাথে সাথে গাধা-ওয়ালাও তাঁর স্বামী তাকে ঢোঁড়ে বসিয়ে দিল। অতঃপর যথা সময়ে সেখানে পৌঁছে সে কসম খেয়ে বলল, ‘আল্লাহর কসম! তুমি আর এই গাধ-ওয়ালা ছাড়া র কেউ আমার গায়ে হাত দেয়নি’। সে কসমে সত্যবাদিনী ছিল, কিন্তু সে ছিল আসলে ছলনাময়ী।(তফসীর আল-বাহরুল মুহীত্ব ইত্যাদি)

এ গল্প লেখার উদ্দেশ্য হল, ছলনাময়ী মহিলার একটি উদাহরণ পেশ করা। যেমন আরো একটি উদাহরণ হল কুরআনে বর্ণিত যুলাইখার কাহিনী। তুমি বল, আঊযু বিল্লাহ!

আমি এমন হতে পারি না।

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.