শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল
অধ্যায়ঃ শরয়ী বিবাহ

অধায়


স্বামী পছন্দ করার ভিত্তি

অধ্যায়


পয়গাম

বর্তমানের অনেক যুবতী ফিল্ম দেখে বিয়ের পূর্বে প্রেম ক’রে মনে মনে স্থির ক’রে রাখে অথবা নায়কের সাথে চুক্তি ক’রে রাখে যে, অমুক ফিল্মের নায়ক-নায়িকাকে মত পালিয়ে গিয়ে ‘লাভ-ম্যারেজ’ করবে।

অবশ্য এই পরিস্থিতি তখনই সৃষ্টি হয়, যখন সেই নায়ক-নায়িকার বিবাহে কোন এক পক্ষ অথবা উভয় পক্ষ রাজী না থাকে অথবা ব্যভিচারের ফলে নায়িকা গর্ভবতী হয়ে যায়। তখন লাঞ্চনা ঢাকার জন্য চোরের মত পলায়ন ছাড়া অন্য পথ থাকে না। তখন তাদের লজ্জা থাকে না, বাপ-মায়ের অনুমতির তোয়াক্কা থাকে না, কারো মান – মর্যাদার খেয়াল থাকে না। কারো প্রতি নিমক হালালীর অনুভূতি জাগে না।

অবশ্য তাগূতী আইন তাদের সাথ দেয় বলে এতটা করতে পারে। নচেৎ সে বিবাহে কোন সখ-আহ্লাদ থাকে না, কোন ধুমধাম ও আড়ম্বনা থাকে না, ভাল সাজ-পোশাক থাকে না, কোন উপহার – উপঢৌকন থাকে না, বাসর করার মত কোন ভাল কক্ষ থাকে না, হয়তো বা বাসর-শয্যার জন্য কোন শয্যাও থাকে না। জীবনের প্রথম মধুর রাতের সে আনন্দ ও পুলক থাকে না। যেহেতু সেটা তাদের প্রথম রাত নয় তো।

বলবে, ‘কিন্তু কিছু না থাকলে মনের মত রসের নাগর তো থাকে।’

কে বলল তোমাকে, সে রসের নাগর, না নিরস নাগর? সুখের সাগর, নাকি দুখের সাগর?

দু’দিনকার লুকোচুরি প্রেমে তাকে পরিক্ষা করে নিতে পেরেছ? তোমার মনের মত না হয়ে সে তো তোমার ধারণা মত ‘চয়েস’ হতে পারে। আর তাতে কি রসের কোন গ্যারান্টি আছে?

তোমার সাথে যার শরয়ী বিবাহ হবে, তার মধ্যে কি ঐ রস নেই? দুনিয়াতে সেই কি একমেবাদ্বিতীয়ম? তার কি কন নযীর নেই? এটি ভুল ধারণা তোমার।

দুনিয়াতে প্রত্যেক স্বামী তার স্ত্রীকে ভালবাসে। এটা নয় যে, প্রেম ক’রে বিয়ে করলেই ভালবাসাটা বেশী হবে।

তুমি হয় তো বলবে, ‘মা-বাপের কথা মত বিয়ে করলে আমার প্রেমকে বলিদান দিতে হবে।’

আমাই বলব, ‘এমন প্রেমের পাঁঠা আগে থেকে পেলে রেখো না, তাহলেই বলি দিতে হবে না।’

বলি বাহুল্য, তোমার বুকে যদি ঈমান ও আলহর ভয় থকে, তাহলে বোঁটি আমার! ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বিবাহ ছাড়া অন্য বিজাতীয় প্রথায় বিবাহের কথা মনে কল্পনাও করো না। কোর্টসিপ প্রথা বৈধ নয় কোন মুসলিম ছেলে-মেয়ের জন্য।

উপরন্ত ইউরোপের এ প্রথা যে একটি অভিশপ্ত প্রহ, ত তাদের জারজ সন্তান ও তলাকের পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝতে পারা যায়।

Close Menu