শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

স্বামীর সম্পদের হিফাযত কর।


স্বামী ঘরে থাক অথবা বিদেশে থাক, তাঁর সম্পদের যথার্থ হিফাযত কর। কারণ, তুমি তাঁর রাজ্যের রাণী। তুমিই তাঁর খাজাঞ্চী। তুমি সম্পদের অপচয় ঘটায়ো না, অপব্যয় করো না। কারণ, অপব্যয়ীরা শয়তানের ভাই।( সূরা বনী- ইস্রাঈল-আয়াত ২৭)

তাছাড়া স্বামীর ধন-মাল তোমার কাছে রাখা আমানত। এই আমানতের খিয়ানত বৈধ নয়।

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তাঁর দায়িত্ব-বিষয়ে (কিয়ামতে) কৈফিয়ত করা হবে। ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক তাঁর রাষ্ট্রের) একজন দায়িত্বশীল, সে তাঁর দায়িত্ব-সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তাঁর পরিবারে দায়িত্বশীল,

সে তাঁর দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। চাকর তাঁর মুনিবের অর্থের দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তাঁর দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে”।(বুখারী-মুসলিম)

এই মাল স্বামীর বিনা অনুমতিতে গোপনে নিজের মায়ের বাড়ির লোককে অথবা কোন সখীকে দিতে পার না। এমনকি গরীব-মিসকীন কে দানও করতে পারো না।

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রী যেন স্বামীর ঘরের কিছু খরচ না করে”। বলা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! খাবারও না?’ তিনি বললেন, “তা তো আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাল”। (তিরমিযী, সহীহ তারগীব ৯৩১ নং)

অবশ্য স্বামী যদি তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট খরচ না দেয়, তাহলে প্রয়োজন অনুসারে তাঁর অজান্তে নিয়ে ব্যয় করতে পারো। তবে অযথা হলে অবশ্যই হিসাব লাগবে তোমাকে। এখানে হিসাব থেকে ছলে-কৌশলে রেহাই পেয়ে গেলেও, হিসাবের দিন হিসাব থেকে রেহাই পাবে কিভাবে?

এর বিপরীত কিছু স্ত্রী স্বামীর ধন চেনে ভাল। ধন করার জন্য নিজের স্বাস্থ্য ও মান ক্ষয় করে। ভালো কাজে ব্যয় করতে স্বামীকে বাঁধা দান করে। স্বামীর কাছে কড়ায়-গন্ডায় হিসাব গ্রহন করে। অবশ্য এ ধনে তাঁর নিজস্ব অধিকার থাকলে বেশী করে। অথচ এমন স্ত্রীর উচিত, ধন বৃদ্ধি করার আগে মান বজায় রাখা। ব্যাংক-ব্যালেন্স করার আগে একটি পর্দা-বাড়ি করা।

জ্ঞানিগণ বলেন, দু’টি গুণ পুরুষের জন্য মন্দ, কিন্তু নারীর জন্য ভালো; ভীরুতা ও কৃপণতা। কারণ, নারীর মধ্যে ভীরুতা থাকলে প্রত্যেক বিপদে থেকে সতর্ক থাকবে এবং কৃপণতা থাকলে নিজের স্বামীর মালের যথার্থ হিফাযত করবে

Close Menu