Mon. Sep 23rd, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

চরিত্র সুন্দর কর

চরিত্র সুন্দর কর
মহানবী (সাঃ) বলেন, “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম বান্দা হল সেই যার চরিত্র সুন্দর।”( ত্বাবারানী, সহীহুল জামে ১৭৯ নং) তিনি বলেন, “তুমি সুন্দর চরিত্র ও দীর্ঘ নীরবতা অবলম্বন কর। সেই সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার প্রাণ আছে, সারা সৃষ্টি উক্ত দুই ( অলংকারের) মত অন্য কিছু দিয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত হতে পারে না।”( সহীহুল জামে ৪০৪৮ নং) তিনি বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। তিনি সুউচ্চ চরিত্রকে ভালবাসেন এবং ঘৃণা করেন নোংরা চরিত্রকে।”(সহীহুল জামে ১৭৪৩ নং) তিনি আরো বলেন, “মানুষকে সুন্দর চরিত্রের চাইতে শ্রেষ্ঠ (সম্পদ) অন্য কিছু দান করা হয়নি।”( ত্বাবারানী, সহীহুল জামে ১৯৭৭ নং) আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেছেন, “ অন্যায়ের স্বপক্ষে থেকে যে ব্যক্তি তর্ক পরিহার করে তাঁর জন্য জান্নাতের পার্শ্বদেশে এক গৃহ নির্মাণ করা হয়। ন্যায়ের স্বপক্ষে থেকেও যে ব্যক্তি তর্ক পরিহার করে তাঁর জন্য জান্নাতের মধ্যস্থলে এক গৃহ নির্মাণ করা হয়। আর যে ব্যক্তি তাঁর চরিত্রকে সুন্দর করে তাঁর জন্য জান্নাতের উপরিভাগে এক গৃহ নির্মাণ করা হয়।”(আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, বাইওহাকী, সহীহ তারগীব ১৩৩ নং) মহানবী (সাঃ) বলেন, “কিয়ামতের দিন মীযানে (আমল ওজন করার দাঁড়িপাল্লায়) সচ্চরিত্রতার চেয়ে অধিক ভারী আমল আর অন্য কিছু হবে না। আর আল্লাহ অবশ্যই অশ্লীলভাষী চোয়াড়কে ঘৃণা করেন।”(তিরমিযী ২০০৩, ইবনে হিব্বান ৫৬৬৪, আবু দাঊদ ৪৭৯৯ নং) তিরমিযীর এক বর্ণনায় এই শব্দগুলিও সংযোজিত রয়েছে, “আর অবশ্যই সচ্চরিত্রবান ব্যক্তি তাঁর সুন্দর চরিত্রের বলে (নফল) নামাযী ও রোযাদারের মর্যাদায় পৌঁছে থাকে।” আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম এবং অবস্থান আমার নিকটতম ব্যক্তিদের কিছু সেই লোক হবে। যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রে শ্রেষ্ঠতম। আর তোমাদের মধ্যে আমার নিকট ঘৃণাতম এবং অবস্থানে আমার থেকে দূরতম হবে তারা; যারা অনর্থক অত্যাধিক আবোল-তাবোল বলে ও বাজে বকে এমন বখাটে লোক; যারা গর্বভরে এবং আলস্যভরে বা কায়দা করে টেনে-টেনে কথা বলে।”(আহমদ ৪/১৯৩, ইবনে হিব্বান, ত্বাবারানীর কাবীর, বাইওহাকীর শুআবুল ঈমান, সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৯১ নং) চরিত্র সুন্দর ও ভালো ব্যবহারের একটি নমুনা বর্ণনা করে মহানবী (সাঃ) বলেন, “তুমি খবরদার কাউকে গালি দিও না। যে কোনও ভালো কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করো না। তোমার ভায়ের সাথে খুশীভরা চেহারা নিয়ে কথা বল, এটিও একটি ভালো কাজ। তোমার লুঙ্গি পায়ের রলার অর্ধাংশে উঠিয়ে পর।তা যদি অস্বীকার কর, তাহলে গাঁট পর্যন্ত নামিয়ে পর। আর সাবধান! লুঙ্গি গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে পরো না। কারণ তা অহংকারের আলামত। পরন্ত আল্লাহ অবশ্যই অহংকার পছন্দ করেন না। যদি কোন লোক তোমাকে গালি দেয় এবং এমন দোষ ধরে তোমাকে লজ্জা দেয়, যা তোমার মধ্যে আছে বলে সে জানে, তাহলে তুমি তাকে এমন দোষ ধরে লজ্জা দিও না, যা তাঁর মধ্যে আছে বলে তুমি জান। তাঁর বোঝা সেই বহন করুক।”(আবূ দাঊদ, সহীহুল জামে’ ৭৩০৯ নং) উক্ত হাদীস অনুসারে মহিলাকে বলা হবে, “তুমি খবরদার কাউকে গালি দিও না। যে কোনও ভালো কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করো না। তোমার স্বামী ও বোনের সাথে খুশীভরা চেহারা নিয়ে কথা বল, এটিও একটি ভালো কাজ। তোমার নিম্মাংশের কাপড় গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে পর; যাতে পায়ের পাতা ঢাকা যায়। কারণ তা পর্দার আলামত। যদি কোন মহিলা বা পুরুষ তোমাকে গালি দেয় এবং এমন দোষ ধরে তোমাকে লজ্জা দেয়, যা তোমার মধ্যে আছে সে জানে, তাহলে তুমি তাকে এমন দোষ ধরে লজ্জা দিও না, যা তাঁর মধ্যে আছে বলে তুমি জান। তাঁর বোঝা সেই বহন করুক।” মহানবী (সাঃ) আরো বলেন, “আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি তারা, তোমাদের মধ্যে যাদের চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। যারা অমায়িক (সহজ-সরল), যারা সম্প্রীতির বন্ধনে সহজে আবদ্ধ হয়। আর তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যক্তি তারা, যারা চুগলখোরি করে, বন্ধুদের সাথে বিচ্ছিন্নতা ঘটায় এবং নির্দোষ লোকেদের মাঝে দোষ খুজে বেড়ায়।”(ত্বাবারানী) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি সে, যে সবচেয়ে বেশী পরহেযগার। আর সবচেয়ে উচ্চ বংশীয় লোক সে, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।”(আল-আদাবুল মুফরাদ) মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, তাঁর মৃত্যু যেন আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখা অবস্থায় আসে এবং লোকেদের সঙ্গে সেই রকম ব্যবহার করে, যে রকম ব্যবহার সে নিজের জন্য পছন্দ করে।”( নাসাঈ, ইবনে মাজাহ) ‘নিজ প্রতি ব্যবহার আশা কর যে প্রকার, করহ পরের প্রতি সেই ব্যবহার।’ আমাদের গ্রাম-বাংলাতে অল্প শিক্ষিত লোকেদের নিকট থেকে দু-চারটি ইংরেজী প্রবাদ শোনা যায়, নিশ্চয় তুমিও তা শুনে থাকবেঃ- Money loss is nothing loss, Health loss is something loss, But character loss is everything loss. যার অর্থ হয়, ‘যদি ধন নাশ হয় তায় কিবা আসে যায়, যদি স্বাস্থ্য নাশ হয় তবে কিছু হয় ক্ষয়, হইলে চরিত্র নাশ সর্বনাশ হয়।’ সোনামণি চরিত্রবতী বোনটি আমার! ধন-মাল দিয়ে সকল মানুষের মন সন্তুষ্ট করতে পারবে না, কুলাতেও পারবে না। কিন্তু তোমার সুন্দর চরিত্র দ্বারা তা পারবে। তুমি তোমার সুমধুর ব্যবহার দিয়ে তোমার স্বামী, আত্মিয়-স্বজন ছাড়া সকল মহিলার মন জয় করতে পারবে। সুতরাং তাদের কারো সাথে সাক্ষাৎ করলে হাসি মুখে করো, কথা বললে মিষ্টি ভাষায় বলো, কেউ কথা বললে ধ্যান দিয়ে শুনো, অঙ্গীকার করলে যথারূপে পালন করো, মূর্খদের সাথে মজাক করো না, হক ও সত্য যে গ্রহন করে না তাঁর মজলিসে বসো না, বেআদবের সাথে ওঠাবসা করো না, যে কথা ও কাজে অপমানিত হতে হয়, সে কথা ও কাজে থেকো না। কিন্তু পরপুরুষের সাথে কথা বললে বিনম্র ও মোহিনী সুরে বলো না; বরং স্বাভাবিক সুরে বলো। যেহেতু মানুষ ও তাঁর প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা পরহেজগার হও, তাহলে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে এমন ভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা স্বাভাবিক ভাবে কথা বল।( সুরা-আহযাব-আয়াত ৩২) সুন্দর চরিত্র তোমার সবচেয়ে মূল্যবান অলঙ্কার ও অমূল্য সম্পদ। মৃত্যুর পড়ে যার জন্য মানুষ মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকে, তা হচ্ছে তাঁর সুন্দর ব্যবহার। মুচকি হাসি বিদ্যুৎ অপেক্ষা খরচে কম, কিন্তু চমকে অনেক বেশী। আর বেগানা পুরুষের সাথে তোমার এই হাসিই হল ফাঁসি। সুতরাং সেই ফাঁস তোমার স্বামীর গলে পরিয়ে দাও। তোমার স্বামী রাগীবাবু হলেও তাকে কাবু করতে পারবে। যেহেতু হাসমুখ ব্যক্তির প্রতি দীর্ঘক্ষণ রাগান্বিত থাকা যায় না। তুমি যতই শিক্ষিতা হও, যত বড়ই হও, তোমার মধ্যে গাম্ভীর্য মানায় না। কারণ, তোমার স্বামী যা চায়, তা কবির ভাষায় শোনো, ‘আমি চাই শিশু হেন উলঙ্গ পরাণ, মুখে মাখা সরলতা কয় না সাজানো কথা জানে না যোগাতে মন করি নানা ভান। প্রাণ খোলা, মন খোলা আপনি আপনা ভোলা তাঁর স্নেহে-প্রীতি সবি হৃদয়ের টান। আমি চাই স্বরগের উলঙ্গ পরাণ।।’ শিশুদের আছে পৃথক ৭টি বৈশিষ্ট্য; তাদের রুযী-রুটির জন্য কোন চিন্তাই থাকে না, অসুস্থ্য হলে তকদীরে অসন্তুষ্ট হয় না, তাদের হৃদয়ে কারো প্রতি কোন প্রকার হিংসা থাকে না, তাদের মনের বিরোধীর সাথে অতি সত্বর সন্ধি করে ফেলে, তারা এক সাথে খেতে ভালবাসে, তুচ্ছ কিছুর ভয় দেখালে সত্বর ভয় পায় এবং দুঃখ পেলে খুব তাড়াতাড়ি তাদের চোখে পানি আসে। প্রথমটি ও শেষের দু’টি তোমার মধ্যে হয়তো বা আছে। বাকী চারটি বৈশিষ্ট্যও তোমার মাঝে থাকা দরকার। ভদ্র মহিলা সুশীলা বোনটি আমার! তোমার চরিত্রকে সুন্দর করতে নিম্মের উপদেশ গুলি গ্রহন করঃ- ১। কারো প্রতি সন্দেহ বা কুধারণা করবে না। ২। গুজবে থাওবে না। ৩। রটনা ও গুজবে কান দিবে না। ৪। তর্ক করবে না। বিশেষ করে অজ্ঞ ও মূর্খ মেয়েদের সাথে তর্কে লিপ্ত হবে না। ৫। আবেগাপ্লুত হবে না। ৬। ন্যায়পরায়ণ হবে। ৭। মিতভাষিণী হবে। ৮। মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করবে। ৯। রাগ ও ক্রোধ সংবরণ করবে। ১০। মাৎসর্য – পরশ্রীকাতরতা – হিংসা-ঈর্ষা বর্জন করবে। ১১। সর্বস্তরের মানুষের সাথে সর্বদা সত্য কথা বলবে। ১২। স্বামী, এগানা পুরুষ ও সর্বপ্রকার মুসলিম মহিলার সাথে সালাম বিনিময় করবে। ১৩। নিজেকে নিজে সম্মান দেবে। অর্থাৎ নিজের সম্মান নিজে রক্ষা করবে। আত্মমর্যাদা বিস্মৃত হবে না। ১৪। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না। ১৫। কারো গীবত করবে না। চুগলী করবে না। ১৬। পরের কাছ থেকে শোনা খরব যাচায় করে দেখবে। ১৭। প্রেত্যেক বিষয় বুঝার পর মন্তব্য করবে। ১৮। এক পক্ষের কথা শুনে মন্তব্য বা বিচার করে অথবা রায় দিয়ে বসবে না। ১৯। হক কথা বলবে, তবে কৌশলের সাথে। ২০। মানুষের ভয়ে বা লজ্জায় হক বলা থেকে বিরত থাকবে না। ২১। রাগ ও অনন্দের সময় উচিত ও ন্যায কথা বলা। ২২। বিতর্কিত বিষয়, ব্যক্তিত্ব বা জামাআতের ব্যাপারে কড়া মন্তব্য করবে না। ২৩। নিজের ভুল স্বীকার করবে এবং অপরের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হবে। ২৪। যৌথ ভুলের ব্যাপারে নিজেকেই অধিক দোষারোপ করবে। ২৫। কারো ক্রটি দেখলে সরাসরি তাকে আঘাত করবে না। এ ব্যাপারে তাকে লোকালয়ে লজ্জিত করবে না। ২৬। কাউকে হিট মেরে কথা বলবে না। কাউকে ব্যঙ্গ ও কটাক্ষ করবে না। ২৭। নিজের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করবে। ২৮। নিজের উপর আস্থা রাখবে। সর্ববিষয়ে আশাবাদিনী হবে। ২৯। অপরের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য স্বীকার করবে। কাউকে তুচ্ছ ভাববে না। কোন মানুষকে মানুষ হিসাবে ঘৃণা করবে না। ৩০। উপকারীর কৃতজ্ঞ হবে। অনীক সুন্দরী মহিলা পাওয়া যায়, কিন্তু চরিত্রবতী মহিলা পাওয়া সুকঠিন। আয়নার পাড়া খসে পড়ার কারণে আয়নার মূল্য থাকে না। অবশ্য সে মূল্যবোধ ও মূল্যায়ন নেইও অনেক মানুষের ভিতরে। তাই ও বিবাহের সময় কনের চরিত্রের কথা আলোচ্য নাওয়। আলোচ্য হল পণের কথা; যা বর্তমান বিবাহের মূল স্তম্ভ! বউ কেমন হবে , না হবে, তাঁর দ্বীন ও চরিত্র কেমন হবে—সে তো গৌণ বিষয়। মুখ্য বিষয় হল, ‘কত কি দিতে অয়ারবে?’ আর বিড়ি-ফ্যাক্টরীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘বিড়ি বাধতে পারবে তো?’ কারণ টাকা না থাকলে চরিত্র নিয়ে কি হবে! ফাল্লাহুল মুস্তাআনা। সুচরিত্রের বোনটি আমার! কারো বাড়ি মেহমান গেলে, ‘মেহমান’ সেজে থেকো না। মেহেমানকে কাজে লাগানো মেজবানের উচিত নয়। সে তোমাকে কোন কাজ করতে আদেশ করবে না। কিন্তু তোমার উচিত, বৃষ্টির মত হওয়া। যেখানেই বর্ষিত হবে, উপকার দিবে। সে বাড়িতে যদি দেখ, তোমাদের রান্না-বান্না নিয়ে মহিলা পেরেশান আছে, কোলের ছেলে কাঁদছে, নানা ঝামেলায় আছে, আর তুমি ‘মেহমান’ বলে ঠ্যাংয়ের উপর ঠ্যাং চাপিয়ে বসে বসে দেখছ, এটা বিবেকও মানে না বোনটি! মনে কর তুমি মেহমান গেছ, খোশ গল্পে রত আছ বাড়ির গিন্নীর সাথে। ধান মেলা আছে আঙ্গিনায়। এমন সময় ঝমাঝম বৃষ্টি নামল। গিন্নী শশব্যস্ত হয়ে উঠে গেল ধান তুলতে। আর তুমি ভ্যালভ্যাল করে তাকিয়ে দেখতে লাগলে। এটা তোমার বিবেকে বাঁধা উচিত বোনটি! সৌজন্য ব্যবহার প্রদর্শন করে তুমিও যথাসাধ্য তাঁর সহযোগিতায় হাত লাগাও। তবেই না তুমি ‘আদর্শ মেহমান’।
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.