শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

ভারসাম্য বজায় রাখ


আয় বুঝে ব্যয় কর। তুমি খড়-কুটা দিয়ে রাধতে পারবে না, গ্যাসের বা কারেন্টের চুলা চাও, হাতে কাপড় ধুতে পারবে না, ওয়াশিং-মেশিন চাও, কিন্তু এ সামর্থ্য তোমার স্বামীর আছে তো?

তুমি শহরের মেয়ে, গেয়ো পরিবেশে এসে তোমার শহরের চাল-চলন খাপ খাবে না।

সুতরাং এ পরিবেশে তুমি নিজেকে খাপ খাইয়ে নাও। এখন আর আলু পচা, পিঁয়াজ পচা শুকে নাক সিটকে লাভ নেই। বিয়ের আগে ভাবা দরকার ছিল, বিয়ের পরে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

সংসারের হিসাব থাকে মহিলার কাছে। সংসারে কি লাগবে, কি নেই, কি দরকার, কি শেষ হয়ে গেছে, এ সবের হিসাব সময় হাতে রেখে জানিয়ে দিতে হবে। যাতে কেউ তোমাকে বলতে না পারে, ‘বুঝলাম তোমার গিন্নীপনা, তেল থাকে তো নুন থাকে না।’

হাল্কা কাজে যেমন উৎসাহ দেখাবে, ভারী কাজেও অনুরূপ। যাতে তোমার আলস্য ও চালাকি দেখে কাউ না বলে, ;অকেজো বউ লাউ কুটতে দড়।’

যে বউ গৃহকর্ম করতে বেশী পটু নয়, সে বউকে লাউ কোটার মত সহজ কাজ করতে বেশী ব্যস্ত দেখা যায়। চালাক বউ কঠিন কাজে পিছপা থেকে সহজ কাজে আগে আগে থাকে। আশা করি, তুমি সে বউ নও।

‘মিড়মিড়ে প্রদীপ আর লিড়বিড়ে বউ, নিয়েও কাজ ও সংসার করা বড় কঠিন।

সুতরাং কাজে চটপটে। তবে ছটফটে হবে না। কারণ, ছটগটে বা ধড়ফড়ে হলে “তাড়ার কাজে বারা’ হবে। হাত ফসকে গ্লাস-প্লেট ভাঙ্গবে। টাইট করতে গিয়ে পেঁচ কেটে যাবে। কাঁচ মুছতে গিয়ে ভেঙ্গে যাবে।

কাজের জন্য মন চাই। মন না থাকলে কাজে গা লাগে না। কাজ বলতে ওজর দেওয়া হয়। এই জন্য বলে, ‘কামচোরা বউ ভাসুর মানে বেশী।’

মনকে সতেজ রাখো, সজীবতা থাক তোমার দেহ-মনে। তোমাকে দেখে যেন কেউ না বলে, ‘জাড়ে বউ জাড়-কাতুরে বর্ষায় বউয়ের হাজা, কখনো দেখলাম না আমি রইল বউটি তাজা।’

ছেলে বা অন্য কোন বাহানায় দ্বীন-দুনিয়ার কাজে অবহেলা প্রদর্শন করো না। ‘পোর নামে পোয়াতি বাচে’ বলে সেই ছলনায় অন্যকে তথা নিজেকে ধোঁকা দেওয়া উচিত নয়। নানা মিথ্যা ওজর দিয়ে খামাখা শুয়ে থাকা দেখতে কেউই পছন্দ করে না। কাজ না থাকলে কুরআন পড়, বই পড়।

মহান আল্লাহ বলেন, “তুমি যখনই অবসর পাও, তখনই (আল্লাহর ইবাদতে) সচেষ্ট হও।

আর তোমার প্রতিপালকের প্রতিই মনোনিবেশ করো।” (সূরা-আলাম নাশরাহ-আয়াত ৭-৮)

শুয়ে থাকা অকর্মণ্য মানুষের পরিচয়। আর কুঁড়ের ঘরে দুঃখের অভাব থাকে না।

ঘুমের সময় ছাড়া অধিকাংশ সময় শুয়ে থাকাতে স্বাস্থ্য খারাপ হয়। তাতে দেহের মেধ বাড়ে এবং দায়াবেটিস রোগ হতে পারে।

শুয়ে সময় নষ্ট করে এমন এলো অলস মানুষকে কেউ পছন্দও করে না। স্বয়ং আলসেও পছন্দ করে না যে, তার বউ ঐভাবে শুয়ে থাকুক। তুমিও তোমার বউ-এর আলস্য-মাখা

শয়ন অবশ্যই পছন্দ করবে না।

আলসে মেয়ের মত কাজ পিছিয়ে রেখো না। গতকালের গোসলের শাড়ী যদি আজকেও অধোয়া ভিজে থাকে, তাহলে আর সবাই তো চালসে কানা নয়।

হ্যাঁ, আর কাজে দুর্বল হলে, মুখে যেন সবল হয়ো না। কাজের জন্য দু,টো কথা শুনতে হলে চুপ করে সহ্য করে নিও। কারণ, ‘কুঠে মুরগীর ঠোঁটে বল’ ও ‘কুড়ে পাটুনীর মুখে আটুনি’ হয়। তোমার যেন তা না হয়।

Close Menu