শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

স্বার্থত্যাগ কর


তুমি কি কোন স্বার্থবশে সংসার করছ?

নেবার বেলায় আছি, দেবার বেলায় নেই। জোজের আগে থাকি, রণের পিছনে।

নিতে পারি খেতে পারি দিতে পারি না, বলতে পারি কইতে পারি সইতে পারি না।’

‘মধু পান করতে পারি, মাছির কামড় সইতে নারি।’এমন নয় তো?

শুধু স্বামী-সুখ্ চাও, স্বামীর কোন কষ্ট বহন করতে চাও না। স্বামীকে চাও, স্বামীর আত্মীয়কে চাও না; এমনকি তার মা-বাপকেও না। এ তো বড় স্বার্থপরতা বোনটি আমার!

আদর্শ রমণীর ভাগে যা পড়ে। তাই সে বহন করে। লাভে লোহা বহায়, বিনা লাভে তুলাও বহায়। ভাগের ব্যবসায় লাভ-লোকসান সবই বইতে হবে। শুধু লাভ নেবে, আর লোকসান নেবে না-এমন ব্যবসা তো হারাম বোনটি আমার!

লায়লী প্রত্যহ বাটিতে মজনুকে ক্ষীর দিয়ে পাঠাত। পথিমধ্যে এক লোক ধোঁকা দিয়ে সেই ক্ষীর দাসীর হাত থেকে খেয়ে নিত। একদিন খালি বাটি দেখে বলল, আজ ক্ষীর কৈ? বলল, আজ লায়লী রক্ত চায়। বলল, রক্ত দেওয়ার মজনু অমুক গলিতে থাকে!

আশা করি, তুমি সেই ক্ষীরলোভী মজনু নও। দুধের মাছি নও।

তোমার মাঝে যে জিনিসের জন্য কেউ তোমাকে ভালবাসে, সেই জিনিস তোমার নিকট থেকে বিলিন হলে, সে তোমাকে ঘৃণা করবে। এটাই স্বার্থপরতা।

যার কাছে কিছু পাওয়ার আশা থাকে, মানুষ তাকে চটাতে চায় না। এও স্বার্থপরতা অথবা কৌশল।

আদম সন্তান তোমার কাছ থেকে ছাগল-গরু না নিয়ে উট দেবে না। খাসি যদি জানত যে, তাকে যবাইয়ের জন্য খাইয়ে মোটা করা হচ্ছে, তাহলে সে খেত না।

এটাই দুমিয়ার রীতি!

অনেকে সৃষ্টিকর্তার সাথেও স্বার্থপরতা প্রদর্শন করে। ঐ দেখ, নিজের বড় রোগ শুনে আমার এক বোন নামায পড়ছিল। রোগ ভাল হয়ে গেলে নামায ত্যাগ করে দিল।

আমার এক ভাই নাময পড়ছিল, দারিদ্র্য অভাবে আল্লাহ-মুখী ছিল। কিন্তু চাকুরী পাওয়ার পর নামায ছেড়ে দিল।

‘কি এক আশে পড়ছিল মানায, আশা পুরিল তার,

আরা রোযা নেই তাহার পরে নামায হইল ভার!’

স্বার্থপর লোকেরা স্বার্থ উদ্ধারের জন্য কাছে আসে, স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলে কেটে পড়ে।

এক বিছার ইচ্ছা হল নদীর ওপারে যাবে। কিছু উপায় না পেয়ে একটি ব্যাঙ্গের কাছে আবেদন জানাল। ব্যাঙ্গ তার দংশনের ভয় প্রকাশ করলে সে অভয় দিয়ে চুক্তি করল।

ওপার আসার একটু আগেই বিছা তাকে দংশন করে বসল।

এক শিয়ালের ইচ্ছা নালার ওপারে যাবে। একটি ছাগলকে দেখতে পেয়ে চুক্তি করল, ওপারে খুব ঘাস। চল ওপারে যাই। তুমি নালায় নেমে আমাকে আগে পার করে দাও, তারপর আমি তোমাকে টেনে তুলে নেব। শিয়াল তার পিঠে পা দিয়ে পার হয়ে গেল।

আর তাকে তোলার বদলে লাঠি মেরে আরো নিচে গেড়ে দিয়ে গেল।

নদীর এ পাড়ে ‘দাদা’ ওপারে ‘শালা’ বলার মত লোকের অভাব নেই সংসারে।

‘লাভ থাকলে নানা, না থাকলে কানা, বলার মত লোকও অনেক। কিন্তু এমন স্বার্থপর লোকেরা তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

একদা একটি কুকুর একটি হরিণকে ধরার জন্য ছুটছিল। হরিণটি কুকুরকে বলল, তুমি আমাকে ধরতে পারবে না এবং আমার সঙ্গে দৌড়েও পারবে না। কুকুর বলল, তা কেন? হরিণ বলল, কারণ আমি নিজের স্বার্থে দৌড়ি, আর তুমি দৌড় তোমার মনিবের স্বার্থে তাই।

স্বার্থপর লোকেরা দেয় না, কিন্তু পেতে চায়। স্বার্থপর লকেরা যদি দেয়, তাহলে যা দেয়, তার চেয়ে আশা করে বেশী। সুতরাং তুমি স্বার্থপর হয়ো না এবং স্বার্থপর থেকে সতর্ক থেকো।

Close Menu