শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

প্রত্যেক কাজে সওয়াবের আশা রাখ


কোন কাজ করলে তাতে তিন রকম সওয়াব ও প্রতিদান পেতে পার, ইহকালের প্রতিদান অথবা পরকালের প্রতিদান অথবা ইহ-পরকালের ডবল প্রতিদান। কাজ করার সময় তোমার যে নিয়ত থাকবে, সেই প্রতিদানই তুমি প্রাপ্ত হবে।

একান্নবর্তী সংসারের যে কাজ করতে হয়, তা যদি কর্তব্য হিসাবে পালন কর অথবা নাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে কর অথবা বদনাম থেকে বাঁচার কর, তাহলে দুনিয়াতে তুমি তাই পাবে।

পক্ষান্তরে যদি পরকালের সওয়াব হয়; তাহলে এ দুনিয়ায় না পেলেও, তোমার কাজের কেউ মূল্যায়ন না করলেও, কেউ নাম না করলেও, যথেষ্ট পারিস্রমিক না দিলেও, সাধ্যের বাইরের কর্তব্য চাপিয়ে দিলেও, অপরের কাজ করতে বাধ্য করলেও, নির্ধারিত সময়ের অধিক কাজে ব্যবহার করলেও, পরকালের তা বৃথা যায় না। আর সে নিয়ত না রাখলে, শুধু শুধু খেটে মরতে হয়, নামও হয় না, মূল্যও মিলে না এবং পরকালের প্রতিদান থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।

উদাহরণ স্বরূপ”–

বড় সংসার। অনেক রান্না করতে হত। ডবল রান্না করতে হয়। বাড়িতে কারো প্রেসার বা সুগার আছে তাদের রান্না আলাদাভাবে করতে হয়। স্কুল-অফিসের জন্য মাঠের জন্য পৃথক রান্না করতে হয়। তাতে তোমার কষ্ট হওয়ার কথা।

দিন-রাত মেহমান আসতেই থাকে, শ্বশুর বা শাশুড়ীকে সময়ে খাওয়ানো, ওষুধ খাওয়ানো, গোসল করানো, পেশাব-পায়খানা করানোতেও কম কষ্ট হওয়ার কথা নয়।

হয়তো বা বিরক্ত হবে, দুর্গন্ধে মন বিষিয়ে উঠবে, তাদের বিড়বিড়িনিতে জিবনের প্রতি ধিক্কার আসবে, তবুও ঐ সওয়াবের আশা রাখ, তাহলেই সব তুচ্ছ মনে হবে এবং সরল মনে সব সহ্য করে সমস্ত কর্তব্য যথার্থভাবে পালন করতে পারবে।

থালা-বাটি, হাড়িলা ধুতে হয়। সামর্থ্য থাকলে দাসী ব্যবহার কর; নচেৎ অই সওয়াবের নিয়ত রেখেই নিজের হাতে সব করে ফেলো।

সংসারের সমস্ত কাজ সামলে, ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনা করে বাকী থাকে স্বামীর স্প্বহসাল খিদমত। তাতেও গড়িমসি করো না। সওয়াবের আশা রেখো, প্রতিদান চেয়ো আল্লাহর কাছে। কষ্টে থাকা মেহনতী বোনটি আমার! আল্লাহ তোমাকে অদূরে ভবিষ্যতে দুনিয়াতে অথবা আখেরাতে বেহেশ্তে চিরসুখ দান করবেন।

সংসারের কাজের ব্যাপারে মনে রেখো, তোমার কাজ তোমাকেই করতে হবে, তোমার কাজ অন্য কেউ করে দেবে—এ আশা করো না। নচেৎ দুঃখ পাবে। একই সংসারে শাশুড়ীর আলস্য মানাবে, ননদের বসে থাকা চলবে; কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে তা মানাবে না, চলবে না। কারো যদি বিবেক না থাকে, তাহলে তোমার বিবেককে কামড় দিয়ে নিজের মনকে পীড়া দিও না। বরং তোমার কাজ তুমি করে ফেলো।

অবশ্য জায়ের প্রতি হিংসা স্বাভাবিক। সে রকম জা হলে সমিলে কাজ ভাগ করে নিও। বরং সওয়াবের আশা রেখে তুমিই বেশী করার চেষ্টা করো এবং শাশুড়ী যেহেতু মাতৃত্যল্য মুরব্বী ,

সেহেতু তাকে কোন কাজে হাত দিতে দিও না। তাহলে তুমিই হবে আদর্শ গৃহিণী।

আর নিজেকে ছোট মনে করো না বোনটি আমার! যদিও কেউ অনুভব না করে, তবুও মানুষ একে অন্যের চাকর। সকল কাজ তোমাকে করতে হয় বলে, নিজেকে দাসী মনে করো না। তোমার স্বামীও তোমার চাকর ও দাস। দেখ না কত কাজে সে তোমার চাকরি ও দাসত্ব করে।

জেনে রেখো, ইচ্ছা ভার বোঝা বোধ হয় না। সওয়াবের নিয়ত থাকলে সকল কাজ হাল্কা বোধ হবে। তাছাড়া উপায় কি বল?

‘জাল কহে, পঙ্ক আমি উঠাব না আর,

জেলে কহে, মাছ তবে পাওয়া হবে ভার।’

Close Menu