Mon. Sep 23rd, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

সৎ কাজে স্বামীর সহায়িকা হও

সৎ কাজে স্বামীর সহায়িকা হও


‘আদর্শ রমণী’ সকল ফরয, সুন্নত, নফল ও বৈধ কাজে স্বামীর সহযোগিতা করে।

তাতেই তো তাঁর ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ও ‘সহধর্মিণী’ নামে সার্থক। এমন স্ত্রী স্বামীর জন্য একটি বেহেশ্তী উপহার। পার্থিব সমস্ত রকমের সম্পদ চাইতে সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ।

সওবান (রাঃ) বলেন, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ করার ছিল, তা অবতীর্ণ করা হল।

আমরা যদি জানতাম, কোন সম্পদ সর্বশ্রেষ্ঠ, তাহলে আমরা গ্রহন ও অর্জন করতাম। তিনি বললেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হল, যিকরকারী জিহ্বা, শুকরকারী হৃদয় এবং ঈমান ও আখেরাতের কাজে সহায়িকা স্ত্রি”।(ইবনে মাজাহ)

তিনি বলেন, “আল্লাহ সেই পুরুষকে রহম করুণ, যে রাত্রে উঠে নামায পড়ে এবং তাঁর স্ত্রীকে (নামাযের জন্য) জাগায়। সে জাগতে অস্বীকার করলে তাঁর মুখে পানির ছিটা মারে।”(আবূ দাউদ, নাসাঈ)

এমন স্বামী-স্ত্রী যারা সৎকাজে পরস্পর সহযোগি এবং কষ্টে পরস্পর সহানুভূতিশীল। যারা একে অপরকে নামাযের সময় ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়।

না, সে সময় তাঁর ঘুমের ডিস্টার্ব হবে, এ কথা ভেবো না। আর সেও যদি উঠে গিয়ে মায়া করে তোমাকে না উঠিয়ে নামায নষ্ট করে দেয়, তাহলে সেটা তোমার প্রতি আসল মায়া ভেবো না। ফরয নষ্ট করে আরাম, কিসের আরাম? দোযখের আগুনকে ভয় না করে যে মায়া প্রদর্শন করা হয়, কিসের সে মায়া?

বোনটি আমার! আদর্শ স্ত্রীর কথা শোন। বিবাহের পর স্বামী নামায পড়ে না। কত বড় মুসীবত? (এক ফতোয়া মতে) যে স্বামী নামায পড়ে না, তাঁর দেহ স্পর্শ বৈধ নয়।

প্রেমময়ী সে কথা বলবে আর কাকে? কেদে কেদে বলতে লাগল আল্লাহকে। স্বামীর বিছানার পাশে তাহাজ্জুদ পড়ে তাঁর হিদায়াতের জন্য দুআ করতে লাগল। প্রায় প্রত্যহ ঐ দুআ ও কান্না শুনে স্বামীর মনের গভীরে তাক্বওয়ার আলো বিচ্ছুরিত হল হল এবং সেও ফরয সহ তাহাজ্জুদের নামায পড়তে তওফীক লাভ করল।

আর সেই সাথে তাদের দাম্পত্যে অনাবিল সুখের জোয়ার এল।

এক নামাযী বন্ধু স্বীকার করেন যে, আযান হলে তাঁর স্ত্রী আর তাকে ঘরে বসতে দেয় না; মসজিদে যেতে তাকীদ ও বাধ্য করে!

অনেকের স্ত্রী স্বামীকে লিখতে ও পড়তে বারবার তাকীদ করে। ব্যবসায় গেলে অসিয়ত করে বলে, ‘আল্লাহকে ভয় করবেন, হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকবেন।

কারণ, আমরা না খেয়ে ক্ষুধায় ধৈর্য ধরতে পারব; কিন্তু (হারাম খেয়ে) জাহান্নামে ধৈর্য ধরতে পারব না!

একজন ডাক্তার সাহেব স্বীকার করেন যে, তাঁর দাড়ি রাখার ব্যাপারে তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট থেকে বড় অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

পক্ষান্তরে আর এক যুবক স্বীকার করে যে, বিবাহের পর তাঁর স্ত্রী তাকে দাড়ি চাছতে বাধ্য করেছে!

পতিপ্রাণা বোনটি আমার! অধিকাংশ পুরুষের জীবনে বৃহৎ উন্নতি অথবা অবনতির পিছনে বৈধ অথবা অবৈধ ভাবে একজন নারীর হাত থাকে। তুমি স্বামীর উন্নতির সহায়িকা হও। ধার্মিক স্বামীর ধর্ম-পালনে সহযোগিতা কর।

স্বামী তাহাজ্জুদ পড়তে চায়, সুতরাং শোবার সময় স্ত্রী রাত করে না। সে নফল রোযা রাখতে চায়, সুতরাং ভোর-বেলায় উঠে সেহরী তৈরী করতে হলেও পুণ্যময়ী স্ত্রী কুণ্ঠিতা হয় না। অনুরূপ যে কোনও ধর্মকর্মে তাঁর সহযোগিতার প্রয়োজন হলে, সে তাতে আলস্য প্রদর্শন করে না। সে নিজের বেহেশ্ত ঠিক রেখে স্বামীর বেহেশ্ত ঠিক রাখতে আনুপ্রাণিতা হয়।

ধর্ম ও আখেরাতের ব্যাপারে আদর্শ স্ত্রীর আজব সহমত দেখঃ

মদীনায় এক এতীমের বাগান ছিল। ওর সাথে অন্য এক ব্যক্তির বাগানও লাগালাগি ছিল। খেজুর গাছ গুলি এমন ভাবে লাগ্লাগি ছিল যে, ঝড়-বৃষ্টিতে খেজুর নীচে পড়ে গেলে পরস্পরের খেজুর পৃথক করা কঠিন হয়ে যেত। বুঝা যেত না কার গাছের পড়ে যাওয়া খেজুর।

অনাথ বালকটি চিন্তা করল আমার বাগানটা পৃথক করে নিলে ভাল হয়। যাতে প্রত্যকের মালিকানা-স্বত্ব পরিস্কার হয়ে যাবে এবং পরস্পরে কোনো ঝগড়া-ঝঞ্চাটও সৃষ্টি হবে না। সুতরাং সেই এতীম বাচ্ছা একটা দেওয়াল দিতে আরম্ভ করল। যখন সে দেওয়াল দিতে শুরু করল, তখন তাঁর প্রতিবেশীর একটা খেজুর গাছ মাঝখানে পড়ে গেল। দেওয়াল তখনই সোজা হবে, যখন সে ঐ গাছটি পেতে পারবে।

ছেলেটি প্রতিবেশীর কাছে গেল। বলল, ‘আপনার বাগানে অনেক গুলি খেজুর গাছ আছে। আমি দেওয়াল তৈরী করতে চলেছি। কিন্তু একটি গাছ আপনার মালিকাধীন এ পথে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। আপনি ঐ গাছটি আমাকে দিয়ে দিন, যাতে আমার দেওয়াল সোজা উঠতে দাড়িয়েছে’। আপনি ঐ গাছটি আমাকে দিয়ে দিন, যাতে আমার দেওয়াল সোজা উঠতে পারে’। প্রতিবেশী লোকটি অস্বীকার করে দিল। ছেলেটি বলল, ‘আচ্ছা আপনি আমার কাছ থেকে ওর মূল্য নিয়ে নিন। যাতে আমি দেওয়াল সোজা করতে পারব’। সে বলল,’আমি ওটা বিক্রয় করতেও রাজী নই’।

ছেলেটি সোজা রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হলো। আবেদন করল, ‘যে আল্লাহর রসূল! অমুক লোকের বাগানের লাগালাগি আমার বাগান আছে। আমি দুই বাগানের মধ্যখানে দেওয়াল তৈরী করতে চাচ্ছি। কিন্তু দেওয়ালটি ততক্ষণ পর্যন্ত সোজা হবে না, যতক্ষণ রাস্তায় অবস্তিত ওর একটি খেজুর গাছ আমার মালিকানায় না আসবে। আমি ঐ গাছের মালিককে অনুরোধ করেছি বিক্রয় করার জন্য। নানা রকম অনুনয়-বিনয়ও করেছি। কিন্তু সে কোন মোতেই রাজী হয়নি। হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার তরফ থেকে ওর কাছে সুপারিস করে দিন, যাতে সে গাছটি আমাকে দেয়’। নবী (সাঃ) বললেন, ‘ঐ লোকটিকে ডেকে নিসে এস’।

ছেলেটি ঐ লোকটির কাছে গেল। বলল, ‘আল্লাহর রসূল (সাঃ) আপনাকে ডাকছেন’।

লোকটি মসজিদে নববীতে এল। রসূল (সাঃ) তাঁর দিকে চেয়ে দেখলেন এবং বললেন, “তোমার গাছটি এই এতীম ছেলেটাকে দিয়ে দাও”। লোকটি বলল, ‘আমি তো এ গাছ দেব না’। নবী (সাঃ) পুনরায় বললেন, “নিজের এক ভাইকে গাছটি দিয়ে দাও”। লোকটি বলল, ‘না, আমি দেব না’। নবী (সাঃ) আবারো বললেন, “তোমার ভাইটিকে গাছটি দিয়ে দাও; আমি ওর বিনিয়মে জান্নাতে গাছ দেবার যামিন হচ্ছি”।

এত বড় একটি ভাল প্রস্তাব শোনার পরেও সে বলল, ‘না, আমি খেজুর গাছ দেব না’। এক্ষণে আল্লাহর রসূল (সাঃ) নীরব হয়ে গেলেন। এর থেকে তিনি আর বেশী কি বলতে পারেন? উপস্থিত সাহাবীবৃন্দ নীরবে সমস্ত কথাবার্তা শুনছিলেন। উপস্থিত সাহাবীবৃন্দর মধ্যে বিখ্যাত সাহাবী আবু-দাহদাহ (রাঃ) ও বিদ্যমান ছিলেন। মদীনায় তাঁর একটি সুন্দর বাগান ছিল। যতে ছয়শত খেজুর ছিল এবং উৎকৃষ্ট ফলের জন্য বাগানটি প্রসিদ্ধ ছিল। উন্নত মানের খেজুর সুবাদে বাজারে তাঁর চাহিদাও ছিল অত্যধিক। মদীনায় বড় বড় ব্যবসায়িক ঐকান্তিক আশা পোষণ করত, যদি তাদের ঐ রকম একটা বাগান হতো! আবু দাহদাহ (রাঃ) ঐ বাগানের মধ্যখানে একটি সুন্দর বাড়ি নির্মাণ করে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি সহ তিনি সেখানে স্বাছন্দ্যে বসবাস করতেন। মিষ্টি পানির কূপ ওর গুরুত্ব আরো বৃদ্ধ করে দিয়েছিল।

আবু দাহদাহ (রাঃ) যখন রসূল (সাঃ)- এর ঐ আকর্ষণীয় প্রস্তাব শুনলেন, তখন তিনি মনে মনে বললেন, এই দুনিয়া কত তুচ্ছ? আজ না হয়, কাল মরতেই হবে।

অতঃপর চিরস্থায়ী সুখ কিম্বা দুঃখের জীবন। অতঃপর যদি পরকালের জীবনে জান্নাতে একটা খেজুর বৃক্ষ আমি পেয়ে যাই, তাহলে কতই না সুন্দর হয়। অগ্রসর হয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি সে শুভসংবাদ দিয়েছেন, তা কি শুধু ঐ ব্যক্তির জন্যই? আম যদি খরীদ করে ঐ ছেলেটাকে দিয়ে দিই, তাহলে আমি জান্নাতে খেজুর গাছ পাব কি?’ নবী (সাঃ) উত্তরে বললেন, “হ্যাঁ! তোমার জন্যও আমি খেজুর গাছের যামিন থাকছি”।

এক্ষণে আবু দাহদাহ (রাঃ) চিন্তা করতে লাগলেন, এমন কি জিনিস আছে যার বিনিময়ে ঐ গাছটি খরীদ করে ছেলেটাকে দান করে দেব? ইত্যবসরে হঠাৎ একটা অভনব সিদ্ধান্ত তাঁর তাঁর মনে উদয় হলো। তিনি ঐ লোকটির সঙ্গে কথোপকথন শুরু করলেন। বললেন, ‘তুমি তো আমার বাগান সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছো। যাতে ছয়শত খেজুর গাছ আছে। সেখানে বসবাস উপযোগী ঘর ও কূপ আছে’। লোকটি বলল, ‘মদীনার কে এমন লোক আছে যে ঐ বাগান চিনে না বা জানে না?’ আবূ দাহদাহ (রাঃ) বললেন, ‘তাহলে তুমি এক কাজ কর। ঐ একটি গাছের বিনিময়ে তুমি আমার সম্পূর্ণ বাগান নিয়ে নাও’।

এ কথা শুনে লোকটির আস্থা বা বিশ্বাস হচ্ছিল না। সে আবূ দাহদাহ (রাঃ) এর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল। সেই সঙ্গে উপস্থিত জনগণের প্রতিও দৃষ্টিপাত করল এবং বলল, আপনারা সবাই শুঞ্ছেন তো আবূ দাহদাহ যা কিছু বলছেন? আবু দাহদাহ (রাঃ) নিজের বাক্যটি পুনরায় উচ্চারণ করলেন এবং উপস্থিত জনগণকে সাক্ষী করে নিলেন। সুতরাং একটি খেজুর গাছের বিনিময়ে তিনি সম্পূর্ণ বাগান, ঘর ও কূপ ঐ লোকটিকে প্রদান করে দিলেন। এক্ষণে তিনি যখন ঐ গাছটির মালিক হয়ে গেলেন, তখন এতীম ছেলেটাকে বললেন, ‘আজ থেকে ঐ গাছটি তোমার হয়ে গেল। আমি তোমাকে উপহার স্বরূপ দিয়ে দিলাম। এবারে তুমি তোমার দেওয়াল সোজা করে তৈরী কর’।

আর কোন বাঁধা থাকল না। এর পর তিনি রসূল (সাঃ)এর দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি কি এখন জান্নাতে খেজুর গাছের অধিকারী হয়ে গেছি!’ উত্তরে তিনি বললেন, “আবূ দাহদাহ জন্য জান্নাতে কত বিশাল খেজুর গাছ (ও খেজুর) রয়েছে!” (আহমাদ ৩/১৪৬, হাকেম ৩/২০)

উপরোক্ত হাদীসের বর্ণনা কারী আনাস (রাঃ) বলছেন, নবী (সাঃ) কথাগুলো এক-দু’বার নয়, বরং আনন্দের সঙ্গে কয়েক বার উচ্ছারণ করলেন। আবু দাহদাহ (রাঃ) জান্নাতের শুভসংবাদ পাওয়ার পর সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। ইচ্ছা হলো, নিজের কাপড়-চোপড়, কিছু প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র তো বের করে নিই। সুতরাং তিনি বাগানের প্রবেশদ্বার প্রান্তে উপস্থিত হলেন। ভিতর থেকে ছেলে-মেয়েদের শব্দ শোনা গেল। স্ত্রী গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত। ছেলেরা খেলাধূলায় রত। মনে হলো, বাড়ীর অন্দরে গিয়ে স্ত্রীকে খবরটা শুনিয়ে দিই। কিন্তু দরজাতেই দাঁড়িয়ে গেলেন। সেখান থেকেই ডাকলেন, ‘উম্মে দাহদাহ!’ উম্মে দাহদাহ আশ্চর্য বোধ করলেন, কি ব্যাপার? আবু দাহদাহ ভিতরে প্রবেশ না করে দরজার বাইরে থেকেই কেন ডাকছেন? দ্বিতীয় বার আবার ডাকছেন, ‘উম্মে দাহদাহ!’ উত্তরে বললেন, ‘এই যে আমি উপস্থিত আছি আবু দাহদাহ!’ উত্তর শুনে বললেন, ‘ছেলে-মেয়েদেরকে সঙ্গে নিয়ে এই বাগান থেকে বের হয়ে এস! কারণ এই বাগানটি আমি বিক্রয় করে দিয়েছি’। উম্মে দাহদাহ বললেন, ‘বাগান বিক্রয় করে দিয়েছেন? কাকে এবং কত দামে বিক্রয় করেছেন?’ উত্তরে বললেন, ‘জান্নাতের একটা খেজুর গাছের বিনিময়ে এটাকে বিক্রয় করেছি’। উম্মে দাহদাহ বললেন, ‘আল্লাহু আকবর! আপনি বড় লাভদায়ক ব্যবসা করেছেন।

এখন এই বাগানে প্রবেশ না করাই উত্তম। বড় বড় লাভজনক ব্যবসা। জান্নাতে একটি গাছ; যার নীচে ঘোড়-সওয়ার ব্যক্তি সত্তর বছর চলতে থাকবে তবুও তাঁর ছায়া শেষ হবে না।

উম্মে দাহদাহ (রাঃ) ছেলেদের হাত ধরলেন। ওদের জামার পকেটগুলো খুঁজে দেখলেন। তাতে যা কিছু ছিল বের করে দিলেন। বললেন, এখন এটা মহান প্রতিপালকের হয়ে গেছে।

এ সব আমাদের আর নয়। অতঃপর শূণ্য হাতে বাগান থেকে বাইরে বের হয়ে এলেন। (সুনাহরে আওরাক্ব ২৩৬-২৪০ পৃষ্ঠা)

জানি না বোনটি! তুমি হলে তোমার স্বামীকে পাগল বলতে কি না? উত্তরে যই ‘না’ হয়, তাহলে তুমিও এজজন ‘আদর্শ স্ত্রী’।

স্বামী চাষী হলে, আদর্শ তাঁর চাষে যথাসাধ্য সহযোগিতা করে। বিচার পতি হলে ন্যায়-বিচারে, লেখক হলে লেখায়, নেতা হলে সততায়, পুলিশ হলে ইনসাফে, ব্যবসায়ী হলে ব্যবসায় সহযোগিতা করে। হারাম কামায়ে সতর্ক করে, দূদ-ঘুস থেকে দূরে থাকতে উব্ধুদ্ধ করে।

স্বামী ছাত্র হলে তাঁর পড়াশোনায় সহযোগিতা করে, ভাল নম্বর আনতে উৎসাহিত করে, নিজের যৌবনের আকর্ষণে তাঁর পড়াশোনার ক্ষতি করে না অথবা পড়া ছাড়তে বাধ্য করে না।

চাকুরি-জীবী হলে চাকুরীতে বাঁধা দেয় না, সে উদেশ্যে দূরে বা বিদেশে থাকলে নিজের প্রেম-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে তাকে কাছে ডেকে নেয় না।

স্বামী সামাজিক হলে স্ত্রীর কষ্ট বেশী হওয়ার কথা, সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আসা-যাওয়া ও রান্না-বান্না করে তাকে সহযোগিতা করতে হয়।

এ জীবন একটি যাত্রা, একটি সফর, একটি যুদ্ধ। এতে স্বামী – স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা একান্ত জরুরী। একজন সহযোগী ও সহকর্মী না হলে এ জীবনের কর্মক্ষেত্রে কালাতিপাত করা বড় সুকঠিন। সুতরাং তুমি তোমার স্বামীর সহযোগী হও। বাসর রাতেই সেই দৃঢ় সংকল্প গ্রহন কর।

বিবাহের রঙ্গে রাঙা আজ সব; রাঙা মন, রাঙা আভরণ,

বল নারী ‘এই রক্ত আলোকে আজ মম নব জাগরণ’।

পাপে নয় পতিপুণ্যে সুমতি

থাকে যেন হয়ো পতির সারথি

পতি যদি হয় অন্ধ হে সতী!

বেধোনা আবরণ;

অন্ধ পতিরে আঁখি দেয় যেন তোমার সত্য আচরণ”।

তবে কোন পাপ কাজে খবরদার স্বামীর সহযোগিতা করবে না। বরং অন্যায় কাজে বাঁধা দেবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করবে।

পক্ষান্তরে তুমি যদি কোন পাপকাজে স্বামীর বিরুদ্ধে অপরের সহযোগিতা কর, তাহলে নিশ্চয় তুমি ভাল মেয়ে নও। এমন কাজের জন্য আল-কুরআনে দুইজন মহিলার সমালোচনা করা হয়েছে। তারা হল নূহ ও লূত (আঃ) এর স্ত্রী। মহান আল্লাহ বলেন,

ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ كَفَرُوا اِمْرَأَةَ نُوحٍ وَاِمْرَأَةَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ

অর্থাৎ, আল্লাহ তা’আলা কাফেরদের জন্যে নূহ-পত্নী ও লূত-পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। তারা ছিল আমার দুই ধর্মপরায়ণ বান্দার গৃহে। অতঃপর তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার কবল থেকে রক্ষা করতে পারল না এবং তাদেরকে বলা হলঃ জাহান্নামীদের সাথে জাহান্নামে চলে যাও।(সূরা-তাহরীম-আয়াত ১০)

তাদের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা তাদের স্বামীদের উপর ঈমান আনেনি। তারা মুনাফিকী ও কপটতায় লিপ্ত ছিল এবং নিজেদের কাফের জাতির প্রতি তারা সমবেদনা পোষন করত। যেমন, নূহ (আঃ) এর স্ত্রী নূহ (আঃ) এর ব্যাপারে লোকদের কে বলে বেড়াতে যে, এ একজন পাগল। আর লূত (আঃ) এর স্ত্রী তাঁর গোত্রের লোকদের কে নিজ বাড়ীতে আগত অতিথির সংবাদ পৌঁছে দিত। কেউ কেউ বলেন, এরা উভয়েই তাদের জাতির লোকদের মাঝে নিজ নিজ স্বামীর চুগলি করে বেড়াত।

আর এ জন্যই কিছু স্ত্রীর জন্য বলা হয়েছে, তারা স্বামীর দুশমন স্বরূপ। মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِن تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থাৎ,

হে মুমিনগণ, তোমাদের কোন কোন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাক। যদি মার্জনা কর, উপেক্ষা কর, এবং ক্ষমা কর, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।(সূরা-তাগাবুন-আয়াত ১৪)

অন্য দিকে অন্যায়ে স্বামীর সহযোগিতা না করার জন্য প্রশংসা করা হয়েছে অন্য এক স্ত্রীর।

তিনি হলেন ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া। মহান আল্লাহ তাঁর সমন্ধে বলেন,

وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ آمَنُوا اِمْرَأَةَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

অর্থাৎ,

আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের জন্যে ফেরাউন-পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা! আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুস্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।

(সূরা-তাহরীম-আয়াত ১১)

বলা হয় যে,

ফিরাউন কমিনায় আসিয়ার হাত-পায়

ঠুকিল লোহার মেখ কত,

তবু সে আসিয়া নারী না ছাড়িল দ্বীনদারী

দ্বীনদারী চাই এই মত’।

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.