Thu. Nov 14th, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

সূধারণা – কুধারণা

সুধারণা – কুধারণা


মানুষের সাথে সুধারণা রাখ, কুধারণা রেখো না। মহান প্রতিপালক বলেন,

হে বিশ্বাসিগণ! তোমার বহুবিধ ধারণা হতে দূরে থাক; কারণ কোন কোন ধারণা পাপ। আর তোমরা অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। (হুজুরাত ১২)

মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমরা (কু)ধারনা হতে দূরে থাক। কারণ, ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।”(বুখারী, মুসলিম)

খবরদার! এক পক্ষের কথা শুনে অপর পক্ষকে খারাপ মনে করো না। উভয় পক্ষের কথা শুনে তবেই কারো প্রতি সঠিক ধারণা নিয়ে এসো।

আর জেনে রেখো যে, অনেক সময় সুধারণা বিপদের কারণ হয়। রাতের আবছা অন্ধকারে রাস্তায় সাপকে রশি মনে করে পা দিলে বিপদ হয়। নিজের মেয়েকে কোন বেগানা ছেলের সাথে ছেড়ে দিয়ে সুধারণা করলে বিপদ হতে পারে।

কারো সম্বন্ধে কোন খবর যাচাই করে বিশ্বাস কর; বিশেষ করে সে খবর যদি কোন মন্দ লোক আনয়ন করে। তোমার প্রতিপালক বলেন,

হে বিশ্বাসিগণ! যদি কোন পাপাচারী তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে; যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়কে আঘাত না কর এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।

(সূরা হুজরাত-আয়াত ৬)

যা শুনবে তাই বলো না, গুজবে থেকো না। ‘কে বলেছে হুই, তো মস্ত মোটা রুই’

মনে করো না। ‘বিয়ায হারাম হ্যায়’ শুনে ‘পিয়ায হারাম হ্যায়’ কথা প্রচার করো না। তোমার প্রতিপালক বলেন,

যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।

(সূরা বনী-ইস্রাঈল-আয়াত ৩৬)

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য হারাম করেছেন,(ঘৃণিত করেছেন এবং আমি নিষিদ্ধ করছি)তিনটি কর্মঃ জনরবে থাকা, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ অপচয় করা।”(বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত ৪৯১৫ নং)

তিনি বলেন, “মানুষের মিথ্যা ও পাপের জন্য এতটুকুর যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।” (সহীহুল জামে ৪৩৫৬, ৪৩৫৮ নং)

অনুরূপভাবে ভিক্তি ও সূত্রহীন সন্দিগ্ধ কথা প্রচার করো না। ‘ওরা নাকি বলেছে, ওরা মনে করে, ধারণা করে, ইত্যাদি বলে বর্ণনা করা অশান্তি ডেকে আনার একটি পথ। বলা বাহুল্য, একমাত্র সুনিশ্চিত সত্য কথা ব্যতিত ধারণার বশবর্তী হয়ে কোন কথা বা ঘটনা বর্ণনা ও প্রচার করা বৈধ নয়। এ ব্যাপারে প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “ওরা মনে করে’ (এই বলে কোন কথা প্রচার করা) মানুষের কত নিকৃষ্ট অসীলা!” (সহীহুল জামে, ২৮৪৩ নং)

কোন বংশ, দল, গ্রাম বা দেশের একটি বা কিছু লোক কোন দোষ করলে নির্বিচারে তাদের সবাইকে দোষ দিও না। কোন গ্রামের ২/১ টি লোক চোর হলে সেই গ্রামকে ‘চোরগ্রাম’ বলা বৈধ নয়। আর জেনে রেখো যে, প্রত্যেক গ্রামেই ছোট-বড় চোর থেকে থাকতে পারে। যেমন ভালো ঘরে খারাপ লোক থাকতে পারে, তেমনি খারাপ ঘরে ভাল লোক থাকাও অস্বাভাবিক নয়। বাপ খারাপ হলে বেটার বা বেটা খারাপ হলে বাপের খারাপ হওয়া জরুরী নয়। নবীদের ভিতরেই এ কথার প্রমাণ পাবে।

সুতরাং একজনের দোষ দেখে গোটা পরিবার, বংশ বা গ্রামের দোষ দিও না। নচেৎ লাঞ্ছিতা ও লজ্জিতা হবে। মহানবী (সাঃ) বলেন, “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় মিথ্যা অপবাদদাতা সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি (ব্যঙ্গ-কাব্যে) কোন ব্যক্তির দোষ বর্ণনা করতে গিয়ে তার গোটা গোত্রের দোষ বর্ণনা করে এবং সেই ব্যক্তি, যে নিজের পিতাকে অস্বীকার করে মাকে ব্যভিচারিণী বানায়!” (ইবনে মাজাহ)

সতর্ক থেকো বোনটি! কিছু মহিলা আছে সাংবাদিক। কেউ কেউ বিবিসি লন্ডন!

তারা কত খবর এনে তোমার কাছে বলবে, কত প্রতিবেদন পেশ করবে। কিন্তু সব কথা বিশ্বাস করে নিজেকে সমস্যায় ফেলো না। যেমন কতক মহিলা আছে আস্ত শয়তান। তারা নানা সমস্যায় তোমার আকীদা নষ্ট করবে, পীর-ঘর, ঠাকুর-ঘর ও মাযারে নিয়ে যেতে চেষ্টা করবে। সুতরাং সাবধান!

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.