শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

আদর্শ রমণী

বন্ধুত্ব ও সখিত্ব

যৌবনে পদার্পণরতা বোনটি আমার! তুমি হয়তো মাদ্রাসা, স্কুল বা কলেজের ছাত্রী।

যদি তা গার্লস হয়, তাহলে তো ভালই। অন্যথা যদি মিশ্র- শিক্ষা- প্রতিষ্ঠান হয়,

তাহলেই তোমার পর্দা ও নারীর মর্যাদা রক্ষা করা সুকঠিন। ইসলামে এমন প্রতিষ্ঠানও বৈধ নয়। বৈধ নয় এমন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহন করা। বাকী যদি তুমি বাধ্যই হও,

তাহলে আল্লাহ তোমার হিসাব গ্রহন কারী।

ছাত্র – জীবন হোক যে কোন জীবন, সব জীবনেই মানুষের প্রয়োজন পড়ে বন্ধুত্বের।

এমন বন্ধু, যার কাছে মনের কথা বলা যায়, সময়ে সুপরামর্শ নেওয়া যায় এবং আপদে – বিপদে সহযোগিতা লাভ হয়।

মহিলার জীবনে ৩ ধরণের সহচর প্রয়োজন; সখী, স্বামী ও বই।যার প্রকৃত সখী আছে, (ক্রটি দেখার জন্য) তার কোন দর্পণের প্রয়োজন নেই।

সবার সঙ্গে ভদ্র আচরণ কর। কিন্তু অন্তরঙ্গ সখী কর মাত্র কয়েক জন কে ।

৪টি জিনিস ভালবাসা সৃষ্টি করে থাকে; হাসি মুখে সাক্ষাৎ, উপকার সাধন, সহমত অবলম্বন এবং কপটতা বর্জন। যদি তুমি এ কাজগুলি করতে পার, তাহলেই সখিত্ব বজায় থাকবে, নচেৎ না। যেহেতু মিত্র লাভ অতি সুলভ, কিন্তু মৈত্রী রক্ষা করাই কঠিন।

সখী অনুসন্ধানকারিণী বোনটি আমার! তোমার চেয়ে যে নিচে, তার সাহচর্য গ্রহন করো না। কারণ, হয়তো তুমি তার মূর্খতায় কষ্ট পাবে এবং তোমার চেয়ে যে উচ্চে, তারও সাহচর্য গ্রহন করো না। কারণ, সম্ভবতঃ সে তোমার প্রতি গর্ব ও অহংকার প্রকাশ করবে। তুমি যেমন, ঠিক তেমন সমমানের সখী, সঙ্গিনী ও জীবন সঙ্গী গ্রহন করো, তাতে তোমার মন ব্যথিত হবে না।

মনের মত সঙ্গিনীর সাথে কথা বলে যতটা আনন্দ পাবে, ততটা আর অন্য কোন কাজে পাবে না।

আর কপট সখী ছায়ার মত। সে রোদের সময় সাথে থাকে। আর মেঘের সময় অদৃশ্য হয়ে যায়।

আত্বা বিন আবু রাবাহ এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, আমি ত্রিশ বছর ধরে একটি বন্ধুর খোঁজে আছি, কিন্তু আজও তার সন্ধান মেলেনি। তিনি তাকে বললেন, ‘সম্ভবতঃ তুমি এমন বন্ধুর খোঁজে আছ, যার কাছে কিছু পেতে চাও? তুমি যদি এমন বন্ধু খোঁজ করতে, যাকে কিছু দিতে চাও, তাহলে অনেক বন্ধুই পেতে।’

আর সাবধান! বন্ধু বন্ধুর উপকার যতখানি করতে পারে, ক্ষতিও করতে পারে ততখানি।

যেহেতু বন্ধু অপেক্ষা শত্রুকে পাহারা দেওয়া সহজ। শত্রু প্রকাশ্য হলে তার দ্বারা যত ক্ষতি হয়, বন্ধু শত্রু হলে ফল হয় আরো মারাক্তক।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমার বনশুকে মধ্যম ভাবে ভালবাস ( অর্থাৎ, তার ভালবাসাতে তুমি অতিরঞ্জন করো না)। কারণ, একদিন সে তোমার শত্রুতে পরিণত হতে পারে। আর তোমার শত্রুকে তুমি মধ্যম ভাবে শত্রু ভেবো। ( অর্থাৎ, তাকে শত্রু ভাবাতে বাড়াবাড়ি করো না।) কারণ, একদিন সে তোমার বন্ধুতে পরিণত হতে পারে।”

( সুতরাং তখন তোমাকে লজ্জায় পড়তে হবে।) ( তিরমিযী ১৯৯৭, সহীহুল জামে’ ১৭৮ নং)

আর খারাপ মেয়ে থেকে শত যোজন দূরে থাক। কারণ, খারাপকে সখীরূপে বরণ করার মানে তুমিও খারাপ। মানুষের পরিচয় জানতে তার বন্ধুদের পরিচয় দেখা হয়।

কারণ, সাধারণতঃ বন্ধু বন্ধুর অনুকরণ করে থাকে।

জ্ঞানী মেয়েদের সংসর্গ গ্রহন কর। কারণ, তাতে হৃদয় আবাদ হয়।

আর বল, ‘দুর্জনেরে পরিহারি, দূরে থেকে সালাম করি।’

‘উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে,

তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে।,

আমার মনে হয় না যে, তুমি উত্তম এবং তুমি তোমার সখীকে সৎপথে ফিরিয়ে আনতে পারবে। পারলে তো খুব ভাল কথা। অন্যথা যদি আকর্ষণ করার জায়গায় আকৃষ্ট হয়ে বস, তাহলেই তোমার উচিত, সে সাহচর্য বর্জন করা।

উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) বলেন, নির্জনতায় মন্দ সাথী থেকে নিরাপত্তা আছে।

জ্ঞানীগণ বলেন, ‘খারাপ লোকের সাথে বসো না; যদিও তুমি ভাল লোক। কারণ,

শারাব খানায় নামায পড়লেও লোকে তোমাকে শারাবী বলেই জানবে।’

খারাপ মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব ক’রে নিজের পজিশন নষ্ট করো না। কথায় বলে, ‘সৎ সঙ্গে

স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। কন্টকের বনে গেলে কাটা ফোটে পায়।’

খবরদার তুমি সেই মেয়ের মত হয়ো না, যার অবস্থা বলে,

‘এক হাতে মোর কোরআন শরীফ

মদের গ্লাস অন্য হাতে,

পুণ্য-পাপের সৎ – অসতের

দোস্তি সমান আমার সাথে।’

সখিত্বের সফরে মুসাফির বোনটি আমার! সখিত্ব করার পর তোমার সখী হল তিনজন; তোমার সখী, তোমার সখীর সখী এবং শত্রুর শত্রু। তোমার সখী তোমার বন্ধু। কিন্তু তার ভাই বা স্বামী তোমার কেউ নয়। তাদের সান্নিধ্যে আসা থেকে দূরে থেকো।

আর আধুনিকাদের ছেলে বন্ধু গ্রহন করার কথা বলছ? একজন যুবতীর সাথে একজন যুবকের কি নিষ্কাম বন্ধুত্ব সম্ভব বোনটি? যারা সম্ভব বলে, তারা কি মিথ্যাবাদী অথবা ফিরিশ্তা নয়? একজন মহিলার জন্য তার স্বামী ছাড়া কি অন্য কোন পুরুষ প্রকৃত বন্ধু হতে পারে? আল্লাহ ঐ শিক্ষিত ও শিক্ষিতাদের সুমতি দিন। আমীন।

Close Menu