শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

মিথ্যা গর্ব


মহিলা মহলে ভুয়ো গর্ব করা হয়, কেউ গর্ব করে স্বামী নিয়ে, কেউ ছেলে-মেয়ে নিয়ে, কেউ শ্বশুর-শাশুড়ী নিয়ে, কেউ ভাশুর বা দেওর নিয়ে, কেউ ‘মাসীর মায়ের বকুল ফুলের বোনপো-বয়ের বোনঝি জামাই’ নিয়ে, আবার কেউ ‘বাশ তলাতে বিয়ল গাই, সেই সম্পর্কে মামাতো ভাই’ নিয়ে।

অলংকার নিয়ে গর্ব, লেবাস-পোশাক নিয়ে গর্ব, বাড়ি-জমি নিয়ে গর্ব করে মহিলা। “বড়লোকের কথা শুধু টাকা আর কড়ি, গরীবের কথা শুধু ছুচ আর দড়ি, মেয়ে লোকের কথা শুধু শাড়ি আর চুড়ি।’

অনেকে ‘ফেন দিয়ে ভাত খায় গল্পে মারে দই, মেটে হুকায় তামাক খায় গুড়গুড়িটা কই’ বলে। কথায় কথায় গর্ব এ ফুটানি করে এবং নিজেকে শিক্ষিতা প্রকাশ করার জন্য বাংলার সাথে খাপছাড়া ইংরেজী বলার কষ্টচেষ্টা করে। তাদের অবস্থায়, ‘কবি কবি ভাব, কিন্তু ছন্দের অভাব’ থাকে।

যা নেই তা নিয়ে মিথ্যা ও ভুয়ো গর্ব প্রকাশ হারাম। মহানবী (সাঃ) বললেন, “যা দেওয়া হয়নি তা নিয়ে পরিতৃপ্তি প্রকাশ কারী মিথ্যা দুই বস্ত্র পরিধানকারীর ন্যায়।”(বুখারী ও মুসলিম)

অনেকে বংশ নিয়ে গর্ব করে। অথচ তা জাহেলী যুগের কর্ম। মহানবী (সাঃ) বলেন,

“আমার উম্মতের মাঝে চারটি কাজ হল জাহেলিয়াতের প্রথা, যা তারা ত্যাগ করবে না; বংশ নিয়ে গর্ব করা, (কারো) বংশ-সূত্রে খোটা দেওয়া, তারা (ও নক্ষত্রের) মাধ্যমে বৃষ্টির আশা করা এবং (মুর্দার জন্য) মাতম করা।”

তিনি আরো বলেন, “মাতমকারিণী মহিলা যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করে মারা যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে গলিত (উত্তপ্ত) তামার পায়জামা (শেলোয়ার) ও চুলকানিদার (অথবা দোযখের আগুনের তৈরী) কামীস পরা অবস্থায় পুনরুখিত করা হবে।” (মুসলিম ৯৩৪, ইবনে মাজাহ ১৫৮১ নং)

Close Menu