Mon. Sep 23rd, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

স্বামীর যথার্থ কদর করঃ মূল্যায়ন কর

অধ্যায়ঃ স্বামীর যথার্থ কদর করঃ মূল্যায়ন কর

স্বামী তোমার কে?

স্বামী তোমার সিজদাযোগ্য মান্যবর। সেই হিসাবে তোমার নিকট তার ময়ল্যায়ন হওয়া উচিত।

কিন্তু অনেক হতভাগিনী আছে, যারা তাদের স্বামীর স্বামীত্বেকে না মেনে নিজেদের ‘আমিত্ব’কে মেনে থাকে। স্বামীর কথা নেয় না, তাকে পরোয়া করে না, তার কথার কোন দাম দেয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে তার উল্টা চলে। সোজা চলতে বললে, টেরা চলে! ‘ছুটছ কেন’ বললে শুয়ে পড়ে। হাসতে মানা করলে কাঁদতে লাগে। কোন কিছুতে বাধা দিলে ঘুরিয়ে নাক দেখায়। স্বামীর কথাকে সহজ ভাবে গ্রহন করে না।

এটি যেন তাদের প্রকৃতি। টেরামি যেন তাদের জাত-স্বভাব। তাই মহানবী (সাঃ) বলেছেন,

“তোমরা নারীদের জন্য হিতাকাঙ্ক্ষী হও। কারণ, নারী জাতি পাঁজরের বাঁকা হাড় হতে সৃষ্টি। (সুতরাং তাদের প্রকৃতিই বাঁকা ও টেরা।) অতএব তুমি সোজা করতে গেলে হয়তো তা ভেঙ্গেই ফেলবে (তালাক দেবে)। আর নিজের অবস্থায় উপেক্ষা করলে তা বাঁকা থেকেই যাবে। অতএব তাদের জন্য মঙ্গল কামী হও।”(বুখারী,মুসলিম,মিশকাত ৩২৩৮ নং)

টেরা ব্যবহার নারীর জাত-স্বভাব। স্বামীর মনের বিপরীত চলা স্ত্রীর সহজাত অভ্যাস। তবে আল্লাহ যাকে রহম করেন, সে কথা ভিন্ন।

গর্ভে সন্তান এলে, স্বামী বলে,ছেলে হবে।

স্ত্রী বলে, মেয়ে হবে।

স্বামী বলে ছেলেকে আরবী পড়াব। (কারণ, সেনিজে আলেম।)

স্ত্রী বলে, ছেলেকে ইংরেজী পড়াব।(যেহেতু তার সাত গুষ্ঠি ইংরেজী শিক্ষিত।)

স্বামী বলে, পঞ্চাশ।

স্ত্রী বলে, পাঁচশ’।

স্বামী বলে, পশ্চিমে।

স্ত্রি বলে, পূর্বে।

স্বামী বলে, কলকাতা।

স্ত্রী বলে, দিল্লী।

স্বামী বলে, সাদা।

স্ত্রী বলে, কালো।

‘সকল পীড়ার ঔষধের সার সুরা, সুরপায়ী কয় রে,

যে যাহার বশ গায় তার যশ শুনে মূঢ় বশ রে।’

রক্তের গ্রুপ এক হলেও মনের গ্রুপ এক হয় না। এক মানুষের মন অপর মানুষের মনের সাথে মিলে না। স্ত্রীর মনের সাথে মন মিলবে না, তা অস্বাভাবিক নয়।

‘বিচিত্র বোধের এ ভুবন;

লক্ষ কোটি মন

একই বিশ্ব লক্ষকোটি করে জানে

রূপে রসে নানা অনুমানে।

লক্ষকোটি কেন্দ্র তারা জগতের;

সংখ্যাহীন স্বতন্ত্র পথের

জীবন যাত্রার যাত্রী,

দিন রাত্রি

নিজের স্বাতন্ত্র্যরক্ষা-কাজে

একান্ত রয়েছে বিশ্ব-মাঝে।’

গান্ধী বলেছে, ‘আপোসের মতভেদ থাকতে পারে। তা বলে তা শত্রুতার পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া উচিত নয়। নচেৎ আমার স্ত্রী আমার সবচেয়ে বর শত্রুরূপে পরিগণিত হত।’

তার মানে স্ত্রী কাছের বলে তার সাথে যত মতভেদ হয়, অন্য কারো সাথে ততটা হয় না।

স্বেচ্ছাচারিণী বোনটি আমার! তুমি স্বামীর মতে মত দাও। ‘পতির পায়ে থাকে মতি, তবেই তাকে বলি সতী।’’অবলা সরলা’ বলে লোকে তোমাকে জানে। তুমি পানির মত সরল হও।

স্বামী তোমার পাত্র হোক। পাত্র যদি গোল হয়, তুমিও গোল হয়ে যাও, চৌকর হলে, তুমিও চৌকর হয়ে যাও, বরং হতে বাধ্য তুমি। তুমি বরফ হয়ে জমে পাত্রের বাইরে থেকে যেয়ো না। আগুনের তাপে গলে অথবা সাপের মত ম’লে সোজা হওয়ার আগে, তুমি যদি তোমার মনকে পরিবর্তন করতে পার, তাহলেই তুমি আদর্শ মেয়ে।

লোকে কথায় বলে, ‘আপরুচি খাওন ও পররুচি পরন।’তুমি সেই রুচি গ্রহন কর। যে কাপড় স্বামী কিনে এনে দেবে, তাই পছন্দ করো। সেই তো দেখবে।

নিজের পছন্দ মত শাড়ী-কাপড় কিনতে হাট-বাজার যাওয়া আদর্শ মেয়ের গুণ নয়। বহু মহিলা আছে, যারা স্বামীর পছন্দকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজে ‘মোড়ল বিবি’ সেজে বাজারে যায়। গাড়িতে স্বামীর কোলে ছেলে দিয়ে হাজারী সঙের বাজারী বিবি একাকিনী বাজার করে! এরা হতভাগিনী বৈ কি?

যদি স্বামী বলে, আমি তোমার যা লাগবে কিনে এনে দেব। তাহলে স্ত্রী বলে, ‘তোমার চোখ আছে নাকি? তুমি জিনিস পছন্দ করতে জান না। তুমি শাড়ি কিনতে গিয়ে চট কিনে নিয়ে আস!’

পক্ষান্তরে যে স্ত্রী স্বামীর মনের অনুকূল আচরণ করে, সে শ্রেষ্ঠ স্ত্রী।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী হল সে, যার দিকে তার স্বামী তাকালে তাকে খোশ ক’রে দেয়, যাকে কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং সে তার নিজের ব্যাপারে এবং স্বামীর মালের ব্যাপারে কোন অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।”( আহমাদ, নাসাঈ)

তিনি আরো বলেন, “তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী সে, যে প্রেমময়ী, অধিক সন্তান দাত্রী, যে (স্বামীর) সহমত অবলম্বন করে, (স্বামিকে বিপদে-শোকে) সান্ত্বনা দেয় এবং আল্লাহর ভয় রাখে।”( বাইহাক্বী)

স্বামীর কদর না করা, তার মূল্যায়ন না করা স্ত্রীর যেন জাত-স্বভাব। বিশেষ ক’রে চল্লিশ পার হলে মহিলার মন যেন স্বামীর প্রতি বিতৃষ্ণায় ভরে ওঠে। স্বামীর ওজন থাকে না তার কাছে। হয়তো বা স্বামিকে তার নিকট খোশামদি করতে হয় বলে, স্বামী হিরো হলেও জিরো ভাবে সে।

স্বামীঃ দেখ কি সুন্দর বাড়ি করেছি!

স্ত্রীঃ আমার ফুফাতো দোলাভায়ের বাড়ি আরো সুন্দর।

স্বামীঃ আমি আজ একটি বাঘ মেরেছি!

স্ত্রীঃ আমার ভাই এক বাড়িতে মারে!

স্বামিঃ প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হয়ে পুরস্কার পেয়েছি!

স্ত্রীঃ আমার আব্বা পেয়েছিল ডবল স্কলারশিপ!

একটি গল্প শুনে থাকবে তুমিও। এক বড় পীর সাহেব ছিল। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে বড় বলে মানত না। নিজের কোন কারামতের কথা বললেই সে অন্য পীরের বুজুর্গি বর্ণনা করত। একদিন কোথাও দূরে থেকে দেখল, এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিংয়ে এক পীর সাহেব উড়ে যাচ্ছে। ফিরে এসে বাড়িতে স্বামীর কাছে কি আস্ফালন। ঐ হল পীর। আসল পীর, কামেল পির। এক দালান থেকে অন্য দালানে পাখীর মত ঊড়ে গেল!

স্বামী বলল, ‘তাহলে যাকে উড়তে দেখেছ, তাকে কামেল পীর বলে মান?’

স্ত্রী বলল, ‘আরে তাতে কোন সন্দেহ আছে নাকি?’

স্বামী বলল, ‘তাহলে তুমি তোমার স্বামীর বুজুর্গি মানতে চাও না কেন?’

স্ত্রী বলল, ‘তুমি কি ঐভাবে উড়তে পার নাকি?’

স্বামী বল, ‘ক্ষেপী! ও তো আমিই ছিলাম। আমাকেই তুমি উড়তে দেখেছ। এবার তুমি মানবে তো, আমি কামেল পীর?’

স্ত্রী হতভম্ভ হয়ে ভাবল,’অ–! সেই জন্য টেরা-বেকা উড়ছিলে!’

কথায় বলে, ‘পীর মানে না গায়ে, পীর মানে না মায়ে। পীর মানে না গরুতে, পীর মানে না জরুতে।’(জরু মানে স্ত্রী) স্বামী যত বড়ই পন্ডিত হোক, স্ত্রীর কাছে সে কিছুই নয়। আসলে মানুষ যার কাছে কিছু চায়, তার কাছে ছোট হতে হয়। এক সময়কার খোশামুদির চাওয়ার কারণে সে সব সময়কার জন্য ছোট হয়ে যায় হতভাগিনীর কাছে। পক্ষান্তরে স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণ করার মত মর্দানি নেই যে মরদের, সে মরদই নয় মহিলাদের কাছে।

অনেক স্বামী অবশ্য সেই মর্যাদা চেয়ে প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু তাতে আর মজা আছে? যেচে মান আর কেঁদে সোহাগের কি মূল্য আছে? স্বামীর কদর যদি স্ত্রী না বুঝে, তাহলে স্বামীর চাওয়া খিদমতে স্ব স্বাদ থাকে না, যেমন যে ছেলে আদর পায় না, ফলে কেঁদে আদর ও সোহাগ নেয়, সে আদর ও সহাগে সে তৃপ্তি থাকে না। অযাচিত ভাবে যে জিনিস পাওয়া যায়, সে জিনিসের স্বাদই আলাদা।

স্বামী হল মাথা, স্ত্রী হল ছাতা। উভয়কেই উভয়ের কদর করা উচিত।

“ছাতা বলে, ‘ধিক ধিক মাথা মহাশয়,

এ অন্যায়-অবিচার আমারে না সয়।

তুমি যাবে হাটে বাটে দিব্য অকাতরে,

রৌদ্র – বৃষ্টি যত কিছু সব আমা’পরে।

তুমি যদি ছাতা হতে কি করিতে দাদা?

মাথা কয়, ‘বুঝিতাম মাথার মর্যাদা।

বুঝিতাম, যার গুণে পরিপূর্ণ ধরা,

মোর একমাত্র গুণ তারে রক্ষা করা।”

অনেক মহিলা মৌখিক ভাবে স্বামীর প্রশংসা করে, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার অবাধ্যতা করে।

আর মুখের প্রশংসা কোন কাজের নয়। যেহেতু ঈমানের মত ভালবাসা তিনটি কর্মের সমষ্টির নাম; হৃদয়ে বিশ্বাস, মুখে স্বীকার এবং কাজে পরিণত করা।

স্ত্রী স্বামীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও যদি সে স্বামীর কথা না মানে, তাহলে কি সে তার ভাত পাবে? হয়তো বা কোন চাপের ফলে পেতেও পারে, কিন্তু যে হৃদয় –পাতে নেই, সে ভাতের পাতে থেকে আর কত সুখ পাবে?

আমাদের দেশে কুরআন মানার যে পদ্ধতি আছে, মেয়েদের কাছে স্বামী মানার্ও সেই পদ্ধতি পরিলক্ষিত হয়। কুরআন কে লোকে ব্যবহার করে কুরআনখানি করা ও তাবীয লেখার জন্য। অনেকে না বুঝে তেলায়ত করে ও রেশমী কাপড় দিয়ে সুন্দর ক’রে বেঁধে উঁচু তাকে তুলে রাখে। আমল করার জন্য কুরআন কয়জন লোক গ্রহন করে?

অনুরূপ বহু মহিলার কাছে স্বামী বড় শ্রদ্ধার পাত্র। এমন কি শ্রদ্ধার আতিশয্যে তারা স্বামীর নাম পর্যন্ত মুখে নেয় না।

একদিন হাস্পাতালে ছিলাম। দুই মহিলাতে ডাক্তারের কাছে নাম লিখাচ্ছে। ডাক্তার একজনের স্বামীর নাম জিজ্ঞাসা করলে, সে অপরকে গা ঠেলে বলছে, ‘নামটা তুমি বলে দাও তো।’

অথচ সেও তার স্বামীর আসল নাম জানে না, বলতেও পারছে না। ঠেলাঠেলি দেখে ডাক্তার বিরক্ত হলে পরিশেষে ডাক নাম লিখিয়েই প্রেসক্রিপশন তৈরী হল!

অনুরূপ এক মহিলা নামায পড়ে সালাম ফিরার সময় বলত, ‘আসা-সালামু আলাইকুম অ-খোকনের বাপ। আসা-সালামু আলাইকুম অ-খোকনের বাপ।’ এক মহিলা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘সালাম তো এ রকম নয়। তুমি এভাবে সালাম ফিরছ কেন? উত্তরে সে মহিলা বলল, ‘শেষটা আমাদের খোকনের বাপের নাম নয়? তাতেই তো ঐরুপ বলি!

বলা বাহুল্য, ঐ স্বামী- পূজারিণী মহিলার স্বামীর নাম ছিল, রহমতুল্লাহ। সেই নাম মুখে নিতে নেই মনে ক’রে নামাযের সালামের শব্দও সে পরিবর্তন ক’রে ফেলেছে!

হায়রে স্বামীর পবিত্রতা! তার নামও মুখে নেওয়া বেআদবী!

কিন্তু এ মহিলা কি স্বামীকে কার্যক্ষেত্রে অনুরূপ মানে? তা মনে হয় না।

অঙ্কে সম্মুখে স্বামীর শ্রদ্ধা করে, পশ্চাতে তার মানে নাক সিটকায়। সামনে প্রশংসা করে, পিছনে বদনাম করে। সে মেয়েও মুনাফিকী গুণের। পিছনের শ্রদ্ধাই প্রকৃত শ্রদ্ধা। পিছনে যদি কেউ বলে,’মওলানা আব্দুল হামীদ এ কথা লিখেছেন’ তাহলে জানতে হবে, সেই আসলেয়ামাকে আন্তরিক শ্রদ্ধা করে। কিন্তু যদি বলে, ‘হামীদ মৈলবী এ কথা লিখেছে’ তাহলে সে আসলে আমাকে শ্রদ্ধা করে না।

আমার সামনে আমাকে ভয় ক’রে অথবা মৌখিক শ্রদ্ধা করে।

তুমি যাকে শ্রদ্ধা করবে, তাকে উভয়ভাবে করো।

পতিপ্রাণা আনন্দময়ী বোনটি আমার! তুমি একটি পুস্প। পুস্প নিজের জন্য ফোটে না। তুমি তোমার জীবন – পুস্পকে তোমার স্বামীর জন্য প্রস্ফুটিত কর।

তাতে বড় আনন্দ আছে বোনটি আমার!

“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি—
এ জীবন – মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পরের কারণে মরণেও সুখ,
‘সুখ সুখ’ করি কেঁদো না আর,
যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার।”

তুমি বিশাল, তুমিই আদর্শ, যদি তুমি তোমার স্বামীর জন্য নিজের স্বার্থ বিলিয়ে দিতে পার।

মনে ক’রে দেখ, ভালবাসার চিঠিতে তুমি কি লিখে থাক।

‘প্রাণ যদি চাহ বিন্ধু দিতে পারি আমি,
তার চেয়ে বড় কিবা দিতে পারি স্বামী?’
আমি বলছি না যে, তুমি স্বামীর জন্য প্রাণ দাও। বরং তার জন্য তুমি তোমার মন দাও। তোমার প্রেম দাও।

‘নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,

তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল।

গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধপান,
কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান।
বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত,
স্বর্ণ করে নিজ রুপে অপরে শোভিত।
শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে,
সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।’

না। আমি বলছি না যে, ধূপের মত তুমি নিজেকে জ্বালিয়ে অপরকে সুগন্ধ দাও অথবা মোম্বাতির মত নিজেকে পুড়িয়ে অপরকে আলো দাও। বরং বলছি যে, তুমি নিজেকে বঞ্চিত না ক’রে অধিকার আদায় কর। সুখ দেওয়ার বিনিময়ে সুখ গ্রহন কর।

তোমার অধিকারের কথা বলছ? শুধু অধিকার ফলিয়ে প্রেম পাওয়া যায় না, টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে, অথবা শক্তির ভয় দেখিয়ে ভালবাসা পাওয়া যায় না।

‘ভয়ে প্রাণ যে করিবে দান প্রেম সে তো সঁপিবে না,
টাকা দিয়ে শুধু মাথা কেনা যায়, হৃদয় যায় না কেনা।’

টাকা না থাকার ফলে ভালবাসা চলে যায়। কিন্তু তাকা দিয়ে ভালবাসা কিনতে পাওয়া যায় না। পণ দিয়ে, টাকা দিয়ে জামাই পাওয়া যায়, কিন্তু মেয়ের জন্য ভালবাসা পাওয়া যায় না।

স্বামীর মন জয় করে, যোগ-যাদু ক’রে নয়; কারণ তা শির্ক। বরং তাকে তার প্রেম-জালে আবদ্ধ করে, কিন্তু তাকে ভেড়া বানাবার চেষ্টা করে না। কারণ জ্ঞানী মেয়েরা পছন্দ করে না যে, তার স্বামী ভেরা হয়ে যাক। তার কোন ওজন ও ধার-ভার না থাক। যে স্বামী উঠতে বললে ওঠে, বসতে বললে বসে এবং অনেক ক্ষেত্রে মেয়লি কাজ-কর্ম খুশীর সাথে করে, তাকে অনেক মহিলারাই পছন্দ করে না।

যদিও তার অসচেতন স্ত্রী মনে করে যে, সে মনের মত স্বামী ও হাতে চাঁদ পেয়েছে।

নিছক মেয়েলি কাজ যদি স্বামী করে দেয়, তাহলে তাতে গর্বের কিছু নেই। তুমি বরং তার নিকট থেকে এই খিদমত পাওয়ার দাবী রাখবে না, নচেৎ অন্যের স্বামীর তা করা শুনে তোমার মনে ব্যথা পাবে। স্বামীর যে কাজ তোমাকে করতে হয়, সেই কাজ যদি সে নিজে ক’রে নিয়ে তোমার সহযোগিতা করে, তাহলে সেটাই অনেক।

মহানবী (সাঃ) এইরূপ ক’রে তার স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন।

এর মানে এই নয় যে, তিনি স্ত্রীদের থালা-বাটি ধুয়ে দিতেন, বা বাটনা বেঁটে দিতেন, বা কাপড় ধুয়ে দিতেন। বরং তিনি নিজের জুতা ও কাপড় সিলাই করতেন, ছাগলের দুধ দোয়াতেন এবং নিজের খিদমত নিজে করতেন। (শামায়েল তিরমিযী, মিশকাত) আর এ কথাও বিদিত যে, তাঁর বাড়ীতে একাধিক সেবক ও সেবিকা ছিল।

হ্যাঁ তুমি অসুস্থ হলে সে কথা আলাদা। বাধ্য হয়ে পুরুষকে তাও করতে হবে এবং স্ত্রীর সহযোগিতা করার জন্য সে সওয়াবও পাবে। খরচেও সওয়াব পাবে। মহানবী (সাঃ) বলেন, “কোন ব্যক্তি যখন তাঁর পরিবারের উপর খরচ করে এবং এতে সওয়াবের আশা রাখে, তখন ঐ খরচ তাঁর জন্য সদকার সমতুল্য হয়।”(বুখারী নং ৫৫, মুসলিম নং ১০০২)

তিনি আরো বলেন, “আল্লাহর পথে ব্যয়িত তোমার একটি দীনার, দাসমুক্তকরণে ব্যয়িত তোমার অপর একটি দীনার, নিঃস্ব ব্যক্তিকে দানকৃত তোমার আরো একটি দীনার এবং তোমার পরিবারের উপর খরচকৃত অপর আরো একটি দীনার; উক্ত দীনার গুলোর মধ্যে সওয়াবের দিক দিয়ে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দীনার হল সেটাই, যেটা তুমি তোমার পরিবারের উপর খরচ করে থাকে।”(মুসলিম ৯৯৫ নং)

স্বাধীন-চেতার বোনটি আমার! তোমার ব্যক্তি-স্বাধীনতার কথা বলছ? জ্ঞানী মেয়ে কোন দিন চায় না যে, কোন স্বাধীনতায় তাঁর স্বামী তাকে বাধা না দেক। কারণ, তাতে পাপ ইচ্ছাও থাকতে পারে। হাদীসের ভাষায় ‘দাইয়ূস’ হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়ে দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষবেশিনী বা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং দাইয়ূস (মেড়া) পুরুষ; (যে তাঁর স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা সেয় না।) (আহমাদ,নাসাঈ, সহীহুল জামে’ ৩০৭১ নং)

তুমি সতী নারী হও। তোমার স্বামী তোমার নজরে পাহাড় তুল্য বড় হোক।

‘সতী নারীর পতি যেন পর্বতের চূড়া,
অসতীর পতি যেন ভাঙ্গা নায়েব গুঁড়া।’

পতি পর্বত হলে তাতে তোমার গর্ব নয় কি? রাজ্য চালায় রাজা, রাজা চালায় রানী। দাম্পত্যের এ বিশাল রাজ্য। এ রাজ্যের রানী হলে তুমি।রানী হয়ে তুমি তোমার মর্যাদা নিয়ে গর্ব কর।

পক্ষান্তরে নিজেই রাজা হতে চেয়ো না। বউ মোড়ল হলে এবং খুঁটি না থাকলে ঘর আপনিই পড়ে। অবশ্য যার স্বামী দুর্বল, সাধারণতঃ তাঁর স্ত্রী সবল হয়। স্বামী মিনমিনে হলে বউ জ্বলজ্বলে মোড়ল হয়ে সংসার করে। আর তখন ‘মিনসের কোলে ছেলে দিয়ে, মাগী যায় লড়ায়ে ধেয়ে।’ কোলের ছেলে গাড়িতে স্বামীকে দিয়ে নিজে একা মার্কেট করে!

আর যার স্ত্রী মোড়ল, তাঁর জীবন বেকার। সে না পুরুষ, না স্ত্রী। সে কিছুই নয়।

‘নারী যার স্বতন্তরা, সেজন জীয়ন্তে মরা।’

পরন্ত স্ত্রী হল স্বামীর ছায়া। স্ত্রীর উচিত, স্বামীর অনুসরণ করা; স্বামীকে দাস বানানো উচিত নয়।

স্ত্রীর কাছে স্বামী হল এমন আদুরে শিশুর মত, যার মনের বিরুদ্ধে কিছু করলে কাঁদতে শুরু করে। এই জন্য স্ত্রীর উচিত, যথাসাধ্য স্বামীর মন, ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা রক্ষা ক’রে চলা।

মহিলার উচিত, তাঁর স্বামীকে বন্ধুর মত ভালবাসা এবং শত্রুর মত ভয় করা।

মোড়ল মনের প্রগতিবাদিনী বোনটি আমার! স্বাধীন হতে চেয়ো না। স্বাধীনতা পুণ্যময়ী স্ত্রীকেও নষ্ট করে ফেলে। তা ছেড়ে ডিম ঘোলা হয়ে যায়।

পূর্ণ স্বাধীনতায় বিনাশ থাকে। শৃঙ্খলতার নাম পরাধীনতা নয়। একটি ছেলে ঘুড়ি উড়াবার সময় তাঁর বাবাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কিসের জোরে ঘুড়িটা ওপরে উঠছে।’

বলল, ‘সুতোর জোরে।’ বলল, ‘সুতোটা তো ওকে নিচের দিকে টেনে রেখেছে?’

বাবা সুতোটাকে ছিড়ে দিলে ঘুড়ি মাটিতে পড়ে গেল। বলল, ‘দেখ, সুতো ঘুড়িটাকে বাহ্যতঃ টেনে নামাচ্ছে বলে মনে হয়। কিন্তু আসলে সুতোর টানই তাকে উপরে উঠতে ও উড়তে সাহায্য করে।’ শৃঙ্খলাবোধও অনুরূপ।

বেত্রী হতে চেয়ো না বোনটি আমার! দেশের উন্নতি? কেন তোমার জায়গায় তোমার স্বামী বা আর কারো স্বামী হলে কি দেশের অবনতি হয়? পাইলট হয়ে কিসের গর্ব?

তুমি পাইলট না হলে কি প্লেন চলবে না? বাড়ি থেকে কলকাতা যাবে তোমাদের টাটাসোমো গাড়িতে। সঙ্গে আছে তোমার আব্বা, স্বামী ও ছেলে। তুমি গাড়ি চালালে অবশ্য তৃপ্তিময় গর্ব অনুভব হবে মনে। কিন্তু পথে কত রকম আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য ড্রাইভারের যে টেনশন থাকে, তা মাথায় নেওয়ার কি প্রয়োজন আছে তোমার? দ্রাইভিং-দায়িত্ব ওদের কাউকে দিয়ে তুমি সীট নিয়ে আরামসে বসে থাকলে কি তোমার মান ক্ষুণ্ন হয়ে যাবে?

তুমি স্বামীর অনুসরণ কর, স্বামীর মানে তোমার মান। তুমি হও তাঁর মা, যে হবে দেশের রাজা। যে রাজার বেহেশ্ত হবে তোমার পায়ের তলায়। একি কম গর্বের কথা।

চাআকরি করবে? অর্থ উপার্জন করবে? কর। কিন্তু তোমার দ্বীন, সতীত্ব ও নারীত্ব বজায় রেখে।

স্বাধীন মনের বোনটি আমার! টোটো কোম্পানি বা পাড়া-কুঁদুলি হয়ে, নিজে বাজার ক’রে, বাড়ির ছাদ বা দরজা-জানালা থেকে উঁকি-ঝুঁকি দিয়ে নিজেকে অপবাদে ফেলো না এবং স্বামীর মান নষ্ট করো না।

অনুরূপ তোমার প্রতি স্বামীর বিশ্বাস, ঔদাস্য ও ঈর্ষাহীনতার সুযোগ নিয়ে তুমি নিজের চরিত্র নষ্ট করো না। স্বামীর তোমার ব্যাপারে অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে পারে অথবা একেবারে উদাসীন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তুমি নিজে সতর্ক হয়ে চলবে। যাতে পূর্ণ স্বাধীনতায় তুমি তোমার জীবন নষ্ট না ক’রে বস।

ঐ শোনো স্ত্রী কে ইংরেজী শিখাবার জন্য প্রাইভেট মাষ্টার নিযুক্ত করেছিল। স্বামী- স্ত্রীর মাঝে ভালবাসার প্রস্ফুটিত পুস্প তাদের যৌবন –বাগে দোল খাচ্ছিল। কিন্তু নির্জনতার সুযোগ নিয়ে মাষ্টারের সঙ্গে রসালাপ জমে উঠল। স্বামীর প্রেমের চাইতে মাষ্টারের প্রেম বেশী মধুর লাগল তাকে। স্বামী উদাসীনই ছিল। একদিন পাখী নীড় ছেড়ে বিদায় নিল। পৌঁছে গেল রসিক নাগরের নীড়ে।

ঐ শোনো আলস্যবশে সঠিক সময়ে দোকান ক’রে দিতে পারবে না বলে, দোকানদারকে ঠিক করল, বাড়িতে মাল পৌঁছে দিয়ে যাবে। সঊদি আরবে টেলিফোন করলে দোকানদাররা বাড়ীতে মাল পৌঁছে দিয়ে আসে। স্ত্রী টেলফোন ক’রে দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে সেই ভাবেই মাল নিচ্ছিল। কিন্তু দোকানদারের সুমধুর ব্যবহার ও সস্তা রেটের সাথে মাঝে মাঝে উপহার সুমধুর প্রেম আকাঙ্ক্ষিণী স্ত্রীকে মুগ্ধ ও আকৃষ্ট করল। ফোনে প্রেমালাপ ও রসালাপ বেশ জমে উঠল।

তাঁরপরে যা হল, তা আর লেখার প্রয়োজন পড়ে না।

সুবর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার হল। আর সুযোগ পেলে তো সাধুও চোর হয়ে যায়।

‘একে গিরি গোবর্ধন,

তাহে সুশোভিত বন,

তাহে আর চাদনিয়া রাতি।’

ঐ শোনো নতুন বিবাহ ক’রে বউ রেখে সঊদী আরব এল। বলে এল স্ত্রীকে এবং স্টুডিও – ওয়ালাকে এই যে, মাঝে মাঝে ছবি পাঠিয়ে আমার মনকে আনন্দিত করবে। তোমার বিরহে আমি তোমাকে দেখতে না পেয়ে একেবারে জীবন হারিয়ে ফেলব। তাই হল। প্রথম কয়েক মাস বেশ ছবি এল। বিভিন্ন পোশাক পড়ে বিভিন্ন চিত্তাকর্ষী ছবি।তা পেয়ে স্বামী বড় আনন্দিত ও প্রেম-পীড়িত ছিল। কিন্তু হঠাৎ ছবি আসা বন্ধ হয়ে গেল। ফোনে খবর নিয়ে জানা গেল, স্টুডিও-ওয়ালাও গায়েব।

কি হয়েছে তা আর খুলে বলার দরকার নেই।

বাড়ীতে রাজমিস্ত্রী লাগিয়ে মাষ্টার হাইস্কুল করতেন। একটি মাত্র মেয়ে ক্লাশ নাইনে পড়ে। মাষ্টার সপ্তাহান্তে বাড়ি আসেন। কোথায় হাইস্কুলের মাষ্টার আর কোথায় রাজমিস্ত্রি? কিন্তু কিভাবে স্ত্রীর মন মজে গেলে রাজনিস্ত্রীর ব্যবহারে! এক সপ্তাহে মাষ্টার এসে দেখলেন, ঘরে মেয়ে একা বসে আছে, তাঁর মা নেই। আর রাজমিস্ত্রীর কাজও বন্ধ আছে। স্ত্রী মাষ্টার কে ‘টা-টা’ দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ‘পীরিতে মজিল মন, কিবা হাড়ি কিবা ডোম।’

‘ঘুম না মানে ভাঙ্গা খাট, প্রেম না মানে নিচু জাত।’

আরো কত শুনবে। তুমি নিশ্চয় আমার থেকে বেশী শুনবে। আর যা গোপন আছে তা তো অনেক বেশী!

পেয়েছি মাল্লাশূন্য জীবনের তরী,
‘এস এস প্রাণনাথ আমি হে তোমারি।
হেসে হেসে ক’ব কথা হাতে হাত ধরি,
লইব কথার ছলে প্রাণ চুরি করি।’
এরা কি সেই মহিলা নয়, যাদের জন্য কবি বলেন।
‘এরা দেবী এরা লোভী
এরা চাহে সর্বজন প্রীতি—-’

আর এই শ্রেণীর স্বামীদের কোন দোষ নেই বলছ? তাদের কে কি কোন হিসাব লাগবে না বলছ?

হয়তো সে তোমার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখে। কিন্তু তুমি তাঁর বিশ্বাস ঘাতকতা করলে, তুমি তাকে কাঁদালে। হ্যাঁ, পুরুষের কান্না বিরল হলেও, সে যখন কাঁদে তখন রক্তের অশ্রু কাঁদে।

কথায় কথায় তুমি তাকে কষ্ট দাও। তোমার বেহেশ্তের বাগানকে তুমি নিজের হাতে ধ্বংস কর! জানো তোমার বেহেশ্তী সতীন তোমাকে কি বলে?

মহানবী (সাঃ) বলেন, “যখনই কোন স্ত্রী দুনিয়াতে তাঁর স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখনই তাঁর (বেহেশ্তী স্ত্রী) হুরগণ ঐ স্ত্রীকে অভিশাপ দিয়ে বলতে থাকে ‘ওকে কষ্ট দিস না, আল্লাহ তোকে ধ্বংস করুক! ও তো তোর নিকট ক’দিনকার মেহমান মাত্র। আদূর ভবিষ্যতে তোকে ছেড়ে ও আমাদের কাছে এসে যাবে।”( তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.