Mon. Sep 23rd, 2019

মাদবর

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে, ইসলামকে জানি নিজের ভাষায়

কথা বলার আদব

কথা বলার আদব


মহিলা মজলিসে অনেক কথাই হয় এবং বেশী কথা হয়। অথচ সব কথা তোমার স্বার্থে নয়।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “বান্দা নির্বিচারে এমনও কথা বলে, যার দরুন সে পূর্বে ও পশ্চিমে বরাবর স্থান দোযখে পিছলে যায়।”(বুখারী ৬৪৭৭, মুসলিম ২৯৮৮, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

তিনি বলেন, “মানুষ এমনও কথা বলে, যাতে সে কোন ক্ষতি আছে বলে মনেই করে না; অথচ তার দরুন সে ৭০ বছরের পথ জাহান্নামে অধঃপতিত হয়।”

(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকেম, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫৪০ নং)

তিনি আরো বলেন, “মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির এমনও কথা বলে, যার মঙ্গলের কথা সে ধারণাই করতে পারে না; অথচ আল্লাহ তার দরুন কিয়ামত দিবস অবধি তার জন্য সন্তুষ্টি লিপিবদ্ধ করেন। আবার মানুষ আল্লাহর অসন্তুষ্টির এমনও কথা বলে যার অমঙ্গলের কথা সে ধারণাই করতে পারে না; অথচ আল্লাহ তার দরুন কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তার অসন্তুষ্টি লিপিবদ্ধ করেন।” (মালেক, আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম সিলসিলাহ সহীহাহ ৮৮৮ নং)

সত্য কথা এই যে, মহিলারা কথা খুব বেশি বলে। মেয়েদের একটি স্বভাব, তারা কথা না বলে থাকতে পারে না।

একজন জ্ঞানীকে জিজ্ঞাসা করা হল, এ কথা কি ঠিক যে, পুরুষরা অন্যান্য মহিলাদের তুলনায় গপে মহিলাদেরকে বেশি অপছন্দ করে? জবাবে তিনি বললেন,

‘অন্যান্য? অন্যান্য মহিলা আবার কারা?’ অর্থাৎ, সব মহিলারাই কথা বেশী বলে।

অনেকে বলেছেন, ‘মহিলাদের দাড়ি নেই। কারণ, তা কামাবার সময় চুপ থাকতে পারবে না বলে।’ ‘স্ত্রীলোকের সর্বাঙ্গের মধ্যে জিভটাই সবশেষে মরে।’

জ্ঞানীরা আযাব হয় অবুঝকে বুঝাতে গিয়ে, অভিজ্ঞের আযাব হয় অনভিজ্ঞের নেতৃত্ব করে, আলেমের আযাব হয় হাজেলের কাছে ইলম প্রচার করতে গিয়ে, মহিলার আযাব হয় তাকে কথা বলতে নিষেধ করলে এবং পুরুষের আযাব হয় মহিলাদের নেতৃত্ব করে।

বাসে-ট্রেনেও লক্ষ্য করবে, ক্ষণিকের জন্য বসে থাকা অবস্থাতেও মহিলাদের গল্প বেশ জমে ওঠে। ‘কোথায় বাড়ি? কোথায় বিয়ে হয়েছে? ছেলে-মেয়ে কয়টা?

পাচ বছর বিয়ে হয়েছে, মাত্র দু’টো ছেলে কেন? স্বামী কি করে?’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

বখাটে বোনটি আমার! জিহ্বা দেখতে ছোট ও নরম, কিন্তু তার আঘাত বড় শক্ত। লৌহ-তরবারি অপেক্ষা বাক-তরবারির ধার অধিক বেশী। এ জন্যই বোবার কোন শত্রু নেই।

পা পিছলে গেলে মানুষ মরে না, কিন্তু মুখ পিছলে গেলে অনেকে মারা যায়।

সাবধান! তুমি তোমার জিভ দিয়ে নিজের গর্দান কেটে ফেলো না।

অধিকাংশ রোগ নির্ণয় করা হয় জিভ দ্বারা। আর অধিকাংশ ঝামেলা বাঁধে লম্বা ভিজ দ্বারা।

পক্ষান্তরে অল্প কথা বলা জ্ঞানীর লক্ষণ। চুপ থাকলে আহমককেও জ্ঞানী মনে হয়।

আর জেনে রেখো, যার মুখে জ্ঞানের লাগাম আছে, লোকে তাকেই নেতা নির্বাচন করে।

শেখ সা’দী বলেন, ‘কথা বলতে পারার জন্য মানুষ জন্ত-জানোয়ার থেকেও শ্রেষ্ঠ।

কিন্তু মানুষ যদি কথা ঠিক না বলে, তাহলে সে জানোয়ার থেকে নিকৃষ্ট নয় কি?’

তা বলে হক বলতে চুপ থাকলে হবে না, নোংরা কাজ হতে দেখে বাধা না দিয়ে চুপ থাকলে চলবে না।

নীরব প্রতিবাদও ফলপ্রসূ । কিছু নীরবতা আছে, যা কথা বলার চেয়েও অধিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়াশীল। নীরবতা মঙ্গল না করতে পারে, কিন্তু ক্ষতি করে না।

যে বেশী কথা বলে, তার ভুল বেশী হয়। যার ভুল বেশী হয়, তার লজ্জা কমে যায়। যার লজ্জা কমে যায়, তার সংযম কমে যায়। আর যায় সংযম কমে যায়, তার হৃদয় মারা যায়।

যে বেশি কথা বলে, সাধারণতঃ সে বেশী মিথ্যা বলে। যেমন যে নিজের গল্প ও বরাই বেশী করে, সেও বেশি মিথ্যা বলে।

আল্লাহ আমাদের দেহে একটি মাত্র জিভ এবং দু-দু’টো কান দিয়েছেন। যাতে আমরা কম করে বলি এবং বেশী করে শুনি। শোনাতে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, আর কথা বলাতে অনুতাপ সৃষ্টি হয়।

জ্ঞানবী বোনটি আমার! যা তুমি দেখাও, তার চেয়ে বেশী তোমার থাকা উচিত। যা তুমি জান, তার তুলনায় কম কথা বলা উচিত। যা জানো তার সবটা বলা জরুরি নয়; কিন্তু যা বল তার সবটা জানা জরুরী।

বুদ্ধিমতী বোনটি আমার! মানুষের জ্ঞান বাড়লে কথা কমে যায়। ও কথা অবশ্যই ভুল্বে না।

ন্যায় বা হক কথা হলেও সব কথা সব সময় বলা চলে না। বললে বিপদ হয়, শাস্তি পেতে হয়, ক্ষতি হয় দ্বিগুণ। যেমন কোন যুবক-যুবতীকে স্বচক্ষে উপরি-উপরি ব্যভিচারে আলিপ্ত দেখলেও সে কথা কাজী বা অন্য কারো কাছে বলা চলে না। ৪ সাক্ষী উপস্থিত করে তবেই বলতে হয়। নচেৎ অপবাদের চাবুক খেতে হয়।

‘স্পষ্ট কথায় কষ্ট নেই, কথাটাও ঠিকই। কিন্তু সর্বত্র স্পষ্ট কথা বলাও জ্ঞানীর কাজ নয়, আহমকের কাজ। আর কিছু কথা আছে, যা স্পষ্ট করে বললে অশ্লীল হয়ে যায়।

কারো কাছে সরল হওয়া ভালো, কিন্তু তাই বলে সব কথা সবার কাছে বলা ভালো নয়।

মহিলা মজলিসে কিছু কথা ফিসফিসিয়ে বলা হয়। গোপন কথাআর কি হবে?

একদা এক ব্যক্তি আব্দুল বিন মারওয়ানের এসে গোপনে কিছু বলতে চাইল। তিনি বললেন, ‘তুমি আমার প্রশংশা করবে না। কারণ আমি নিজের ব্যাপারে খুভ ভালো জানি। মিথ্যা বলবে না। কারণ মিথ্যুকের কোন রায় নেই। আর আমার কাছে কারো গীবত করে না। লোকটি বলল, তাহলে আমাকে চলে যেতে অনুমতি দত্ন, হে আমীরুল মু’মিনীন!’

মঙ্গল রয়েছে ৩ টি কর্মেঃ কথায়, দৃষ্টিতে ও নীরবতায়। কিন্তু আল্লাহর যিকর ছাড়া প্রত্যেক কথা বৃথা, উপদেশ গ্রহন ব্যতীত দৃষ্টি-বিবেচনা বৃথা এবং কোন সুচিন্তা ব্যতীত নীরবতা বৃথা।

কথা হল ওষুধের মত। পরিমাণ মত ব্যবহার করলে তুমি উপকৃত হবে, বেশী ব্যবহার করলে ধ্বংস হবে।

আর সতর্ক হও! অসভ্যের সাথে কথা বলার মানেই হল, নিজের সম্ভ্রম নষ্ট করা।

ছোটলোকদের কথায় জবাব দিও না’ নচেৎ তোমার মান মাঠে-ঘাঠে যাবে।

পরীলে ভেড়ার শৃঙ্গে ভাঙ্গে হীরার ধার।

বিষ্ঠায় ঢেলা মারলে নিজের গায়ে ছিটকে পড়ে। (নিজেকেই গন্ধ লাগে)

আর ভজাভজি করতে যেয়ো না। কারণ, ‘ছেদো কথা মাথার জটা, খুলতে গেলেই লাগে জটা।’ তার চেয়ে সহ্য করে নাও বোনটি আমার!

কত শেওড়া গাছের পেত্মী তোমার বাড়িতে এসে কত রকম পচা কথা বলবে, তুমি তাদেরকে পাত্তা দিও না। তবে এমন কথাও বলো না, যাতে সে তোমার মাথায় সওয়ার হয়ে বসে।

শত সাবধান থেকো কুটনী জাতের মেয়ে থেকে! যারা ভালো লোকের ঘরেও পাপ ঢুকিয়ে দেয়। ‘সাপের বাসায় ভেকেরে নাচায়, কেমন কুটিনী সে বা?’

আর শাড়ী-সর্বস্ব নারী হয়ো না তুমি। মজলিসে তোমার পৃথক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাক। তুমি যে আদর্শ মহিল, তা তোমার কথা বার্তায় ফুটে উঠুক। আতর-ওয়ালার কাছে বসলে অনুরূপ খোশব-ওয়ালার মত । আর খবরদার! কামারের মত হয়ো না, যার কাছে বসলে কাপড় পুড়ার ভয় থাকে অথবা ধোঁয়াতে দম বন্ধ হতে চায়।

কোন কোন মজলিসে হাদীস-কুরআন, আলেমা-উলামা, দাড়ি ও পর্দা নিয়ে ব্যঙ্গ- বিদ্রূপ হয়। পারলে তার প্রতিবাদ করো। না পারলে সে মজলিস ত্যাগ করো।

মহান আল্লাহ বলেন,

তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে স্প্রে পড়, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না।(সূরা আনাআম-আয়াত ৬৮)

তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াত প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত না হয় তোমরা তাদের সাথে বসো না; নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ কপট ও অবিশ্বাসী সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন। (সূরা নিসা-আয়াত ১৪০১)

আদর্শ বোনটি আমার! তোমার বাড়িতে মহিলাদের মজলিসকে আল্লাহর যিকরের মজলিস করে গড়ে তোলো। নচেৎ জেনে রেখো, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “যে সম্প্রদায় এমন মজলিস থেকে উঠে যায়, যেখানে তারা আল্লাহর যিকর করে না, আসলে তারা মৃত গাধার মত কোন জিনিস থেকে উঠে যায়। আর (এর জন্য) আল্লাহর তরফ থেকে তাদের উপর পরিতাপ আসবে।”(আবূ দাঊদ ৪৮৫৫ নং)

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.