শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

বিনয়াবনতা হও; অহংকার করো না


তুমি যদি ধনীকন্যা হও, অথবা উচ্চ শিক্ষিতা বা উচ্চ বংশের হও অথবা অপরূপা সুন্দরী হও, তাহলে খবরদার তাঁর জন্য আত্মপ্রশংসা ও গর্ব করো না।

যেহেতু গর্ব করলে খর্ব হয়। অহংকার মহিলাকে অলংকারহীনা করে।

বিশেষ করে বংশ নিয়ে গর্ব করা, আর তাঁর মানেই স্বামী বা অপর কারো বংশকে নীচ জানা জাহেলী মস্তিস্কপ্রসূত কর্ম। আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “আমার উম্মতের মাঝে চারটি কাজ হল জাহেলিয়াতের প্রথা, যা তারা ত্যাগ করবে না; বংশ নিয়ে গর্ব করা,(কারো) বংশ-সূত্রে খোঁটা দেওয়া, তারা (ও নক্ষত্রের) মাধ্যমে বৃষ্টির আশা করা এবং (মুর্দার জন্য) মাতম করা।”(মুসলিম ৯৩৪, ইবনে মাজাহ ১৫৮১ নং)

‘আমি কি নেড়ি-ভেড়া, আমার পাঁচখানা কাপড় ধোপার বাড়ি।’

বড়াই করে বাপ নিয়ে, ছেলে নিয়ে, ভাই নিয়ে, বুনাই নিয়ে; এমনকি ‘মামার ক্ষেতে বিয়াল গাই, সেই সম্পর্কে মামাতো ভাই’ নিয়েও!

আমার আব্বা ডাক্তার! আমার ভাই অফিসার! আমার ছেলের ভারি বুদ্ধি। এটা আমার আব্বার দেওয়া। আমাদের বাড়ি পাকা! আমরা গেঁয়ো নই! আপেল আমাদের ঘরে পড়ে বেড়ায়! এ তরকারী আমাদের গুরুতেও খায় না! ইত্যাদি।

আসলে বাবা চাকরি পেয়ে শহরে বাস করতে লেগে যেন জাতে উঠে গেছে, তাই এত অহংকার। বেগম চেনে না বেগুন। নিত্য চাষার ঝি, বেগুন খেতে দেখে বলে ইহা আবার কি? কুল বেঁচে বুড়ির চুল পাকল, আজ বলে কিসকা ফল? কি ছিনু কি হনু! অনেক সময় সাপের পা দেখে, দিনে দেখে তারা! আর এই বড়াই প্রকাশ করার মাধ্যমে নিজেকে বড় করে ছোট করে স্বামীকে, স্বামীর বাড়ির লোক ও আরো অনেককে। কিন্তু স্বামীর খেয়ে-পরে তাঁর প্রতি অহংকার কি সাজে?

অথচ মহান আল্লাহ বড়াই ও অহংকার পছন্দ করেন না।(সূরা নিসা-আয়াত ৩৬)

মহানবী (সাঃ) বলেন, “যার হৃদয়ে অণু পরিমাণও অহংকার থাকবে সে জান্নাতে যাবে না।” এক ব্যক্তি বলল, ‘লোকে তো পছন্দ করে যে, তাঁর পোশাক ও জুতা সুন্দর হোক

(তা হলে সে ব্যক্তির কি হবে?)’ নবী (সাঃ) বললেন, “অবশ্যই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। (সুতরাবগ সুন্দর জামা-পোশাক পরায় অহংকার নেই।)

অহংকার হল, হক (সত্য) প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ করার নাম।”(মুসলিম ৯১ নং, তিরমিযী, হাকেম ১/২৬)

আদর্শ মহিলার মাঝে অহংকার থাকবে না। সে হবে সকলের জন্য বিনয়াবনতা।

Close Menu