শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

লজ্জাশীলা হও।


তুমি হও লজ্জাবতী লতার মত লজ্জাশীলা বধু; চমক অধিক হোক।

লজ্জা মানুষের এক সম্পদ। তাই তো তা ঈমানের এক শাখা।

লজ্জা হল নারীর ভুষণ। লজ্জা না থাকলে নারী পোশগাকের ভিতরেও উলঙ্গ । তাই তো কুরাআনে বলা হয়েছে, “হে বনী আদম! (হে মানব জাতি) তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য পরিচ্ছেদ অবতীর্ণ করেছি। আর সংযমশীলতা পরিচ্ছদই সর্বোৎকৃষ্ট ।”( সুরা-আয়াত ২৬)

অল্পে তুষ্টি আমানতদারীর দলীল, আমানতদারী কৃতজ্ঞতার দলীল, কৃতজ্ঞতা বর্ধনশীলতার দলীল। ‘লজা নাই যার, রাজা মানে হার।’

স্ত্রীলোকের লজ্জাই আসল আবরণ ও আভরণ। লজ্জাশীলাকে বেশী সুন্দরী লাগে।

তবে তাঁর মানে দীঘল-ঘোমটা সেই নারী নয়, যার জন্য বলায়, ‘দুষ্ট লোকের মিষ্ট কথা দীঘল-ঘোমটা নারী, পানার নিচে শীতল জল তিনই মন্দকারী’।

লাজ-লজ্জা না থাকলে মহিলা অসতী হয়, ভ্রষ্টা ও কুলটা হয়। কোথায় বলে, ‘হাঁ ঢেমন! তোর লাজ কেমন? লাজ থাকলে আবার হয় ঢেমন?’

চক্ষুতে দর্শন করে যে লজ্জা হয়, তাকে বলে চক্ষুলজ্জা। চোখে দেখেও যাদের লজ্জা হয় না, তাদেরকে বলে, চশমাখোর (চোখখারী, চোখমুজো)। তাই সাধারণতঃ অন্ধের ঐ লজ্জা কম থাকে বা আদৌ থাকে না।

সংসার – সমাজে তুমি লজ্জাশীলা হও, স্বামীকে ছোট করার ব্যাপারে তুমি লজ্জাবতী হও, কাউকে আঘাত করার ব্যাপারে চোখমুজো বেহায়া ও নির্লজ্জ হয়ো না। যেমন কারো সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে লজ্জাহীনা হয়ো না এবং স্বামীর যৌন – সুখের ব্যাপারে তুমি লজ্জাবতী হয়ে যেয়ো না।

লজ্জাশীলা বোনটি আমার! তোমার লজ্জা কোথায়, যখন বেপর্দা হয়ে বাইরে যাও?

লজ্জা কোথায়, যখন টাইট-ফিট সংকীর্ণ পোশাক তথা পাতলা শাড়ী পরে অথবা মাথা-পেট-পিঠ বের করে বেগানা পুরুষদের সামনে ঘরে-বাইরে চলা-ফেরা কর?

লজ্জা কোথায়, যখন হাই-হিল বা পেন্সিল-হিল জুতো পরে বিনা দ্বিধায় পায়ের রলা বেরর করে চলা-ফেরা কর?

লজ্জা কোথায়, যখন সুগন্ধি ছড়িয়ে পায়ের নুপূর পরে ঝমক-ঝমক করে পর পুরুষদের সামনে চলা-ফেরা কর?

লজ্জা কোথায়, যখন পর-পুরুষদের পাশে বসে বাসে-ট্রেনে ভ্রমণ করে বেড়াও?

লজ্জা কোথায়, যখন ছেলে-মেয়ে ও বেগানা পুরুষদের সাথে একত্র বসে টিভি-ভিডিওতে অশ্লীল ছবি দর্শন কর?

তোমার লজ্জা কোথায়, যখন পর-পুরুষের সাথে প্রেমালাপ ও রসালাপ কর?

লোকে বলে, ‘হাঁ ঢেমন! তোর লাজ কেমন?’ আর তোমার অবস্থা বলে, ‘লাজ থাকলে আবার হই ঢেমন?’

আমাদের নবী (সাঃ) বলেন, “লজ্জা না থাকলে, তুমি যা খুশী করতে পার?”(বুখারী)

অর্থাৎ, লজ্জাহীনরাই কাউকে পরোয়া না ক’রে যা মন তাই করতে পারে।

ঈমানদার বোনটি আমার! ঈমান থাকলে লজ্জা থাকার কথা। আর লজ্জা না থাকলে তোমার ঈমানের অবস্থা বুঝতে পারছ তো?

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “অবশ্যই লজ্জাশীলতা ও ঈমান একই সূত্রে গাঁথা।

একটি চলে গেলে অপরটিও চলে যায়।”( হাকেম, মিশকাত ৫০৯৪, সহীহুল জামে ১৬০৩নং)

Close Menu