শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল
বইঃ আদর্শ রমণী

অধ্যায়ঃ বাইরে যাওয়ার আদব

বাইরে বের হওয়ার আগে শরয়ী পর্দা কর । কারণ মহান আল্লাহ বলেন, হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও বিশ্বাসীদের রমণীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের (মুখমণ্ডলের) উপর টেনে দেয় । এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে; ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না । আর আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ( সূরা আহযাব ৫৯ আয়াত )

আর তোমার নবী (সাঃ) বলেন, “রমণী গুপ্ত জিনিস; সুতরাং যখন সে ( বাড়ি হতে) বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় করে দেখায়।”(সহীহ তিরমিযী ৯৩৬নং) আতর বা সেন্ট ব্যবহার করবে না। কারণ মহানবী বলেন, “প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর মহিলা যদি (কোন প্রকার) সুগন্ধ ব্যবহার করে কোন (পুরুষদের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে তবে সে ব্যভিচারণী (বেশ্যা মেয়ে)।”( আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খযাইমাহ, হাকেম, সহীহুল জামে’ ৪৫৪০নং) মসজিদে গেলেও আতর লাগাতে পারো না । আবূ হুরাইরা (রাঃ) একদা চাশতের সময় মসজিদ থেকে বের হলেন । দেখলেন, একটি মহিলা মসজিদ প্রবেশে উদ্যত। তার দেহ বা লেবাস থেকে উৎকৃষ্ট সুগন্ধির সুবাস ছড়াচ্ছিল। আবূ হুরাইরা মহিলাটিকে উদ্দেসগে বললেন, “আলাইকি সালাম।” মহিলাটি সালামের উত্তর দিল! তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, “কোথায় যাবে তুমি?” সে বলল, “মসজিদে।”বললেন, ‘কি এমন সুন্দর সুগন্ধি মেখেছ তুমি?’বলল, ‘মসজিদের জন্য।’বললেন, ‘আল্লাহর কসম?’ বলল, ‘আল্লাহর কসম।’ পুনরায় বললেন, ‘আল্লাহর কসম?’ বলল, ‘আল্লাহর কসম।’তখন তিনি বললেন, ‘তবে শোন, আমাকে আমার প্রিয়তম আবুল কাসেম(রাঃ) বলেছেন যে, “সেই মহিলার কোন নামায কবুল হয় না, যে তার স্বামী ছাড়া অন্য কারোর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে; যতক্ষণ না সে নাপাকীর গোসল করার মত গোসল করে নেয়।” অতএব তুমি ফিরে যাও, গোসল করে সুগন্ধি ধুয়ে ফেল। তারপর ফিরে এসে নামায পড়ো।’ ( আবূ দাঊদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বাইহাকী,সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৩১ নং) মাথায় খোঁপা বাঁধবে না, যাতে বোরকার ভিতর থেকে চুল উঁচু হয়ে দেখা যায়। কারণ, মহানবী (সাঃ) বলেন, “দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নাম বাসী হবে যাদেরকে এখনো আমি দেখেনি। তন্মধ্যে প্রথম শ্রেণী হল সেই লোক,যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক;যার দ্বারা তারা লোকেদেরকে প্রহার করবে। আর দ্বিতিয় শ্রেণী হল সেই মহিলা দল, যারা কাপড় পরা সত্ত্বেও যেন উলঙ্গ থাকবে, (যারা পাতলা অথবা খোলা লেবাস পরিধান করবে।) এরা (পর পুরুষকে নিজের প্রতি) আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও (তার প্রতি) আকৃষ্ট হবে; তাদের মাথা হবে হিলে যাওয়া উটের কুজের মতো। তারা জান্নাত প্রবেশ করবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধ এত – এত দূরবর্তী স্থান হতে পাওয়া যাবে।” (মুসলিম ২১২৮ নং) সফরে একা যাবে না। সঙ্গে যাবে যে তোমার মাহরাম; অর্থাৎ, যার সাথে চিরতরের জন্য বিবাহ হারাম। দোলাভাই বা দেওরের সাথে নয়। সঙ্গে ছোট ছেলে বা মেয়ে থাকলেও না । অবশ্য বড় কোন আপন জন মহিলা থাকলে ভিন্ন কথা। মহা নবী (সাঃ) বলেন, “মাহরাম ছাড়া কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন না করে এবং মাহরাম ছাড়া যেন কোন মহিলা একাকিনী সফর না করে।” এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী (একাকিনী) হজ্জ করতে বের হয়েছে। আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য নাম লিখিয়ে ফেলেছি। (এখন আমি কি করতে পারি?)’ তিনি বললেন, “তুমি ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ কর।”( বুখারী ৩০০৬,মুসলিম ১৩৪১ নং) রাস্তার একধারে চল। মাঝ চলবে পুরুষরা । ( আবূ দাঊদ, বাইহাক্বী) এমন অলঙ্কার বা জুতা ব্যবহার ক’রে পথ চলবে না, যাতে কোন প্রকার শব্দ বা বাজনা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, তারা যেন এমন সজোরে পদক্ষেপ না করে যাতে তাদের গোপন আভরণ প্রকাশ পেয়ে যায়। (সূরা নূর ৩১ আয়াত) চক্ষু অবনত ক’রে রাস্তার উপর নজর রেখে চলবে। অর্থাৎ, পরপুরুষের দিকে তাকাতাকি করবে না। মহান আল্লাহ বলেন, বিশ্বাসী নারীদের কে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সনহযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে । (সূরা নূর ৩১ আয়াত) এমন ভঙ্গিমায় চলবে না, যাতে পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। লাস্যময়ী ভঙ্গিমা অথবা হিহি-ফিফি ক’রে কথা বলতে বলতে পথ চলবে না। যেহেতু তাতে তুমি ঐ আকর্ষণকারিণী মহিলাদের দলভুক্ত হয়ে যাবে।
Close Menu