শুরু করছি আল্লাহ্‌র নামে যিনি পরম করুনাময় অতি দয়ালু, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল

হিংসা বর্জন কর


কোন মানুষই হিংসামুক্ত নয়। উদার মানুষ তা গোপন রাখে, আর অনুদার প্রকাশ করে থাকে। তুমি কি নিজেকে হিংসামুক্ত মনে কর?

লোকে যদি পিছন থেকে তোমাকে লাথি মারে, তাহলে জানবে যে, তুমি তাদের সামনে আছ। তোমার প্রতি হিংসা করা হচ্ছে।

মানুষ যত বড় হতে থাকে, তার সাথে সাথে তার দায়িত্বশীলতা ও মসীবত তত বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর সফলতা একটি অপরাধ, যা মানুষ ভালো মনে করে অর্জন করে থাকে, যা সমশ্রেণীর সহকর্মীরা ক্ষমা করে না।

মানুষ অনেক সময় তোমার দোষ দেখে রোষ করবে না, কিন্তু তোমার গুণ দেখে রোষে ফেটে পড়বে!

শয়তান জিনরা চুরি করে ঊর্ধ্ব জগতের কোন খবর শুনতে গেলে তাদেরকে তারকা ছুঁড়ে মারা হয়। কিন্তু তুমি যখন বর হয়ে তারকা হবে, তখন বড় বড় শয়তান তোমাকে আঘাত করবে।

পক্ষান্তরে হিংসুকের মনে কোন শান্তি নেই, কোন স্বস্তি নেই।হিংসুকের শাস্তির জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তোমার খুশীর সময় মনে মনে বড্ড কষ্ট পায়। উসমান বিন আফফান (রাঃ) বলেন, তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তোমার প্রতি হিংসুক তোমার সুখ ও মঙ্গল দেখে খামাখা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়।

হিংসুক অপরের হৃষ্টপুষ্ট দেহ দেখে নিজের দেহকে ক্ষীণ করে।

হিংসা একটি এমন ব্যাধি, যার মাঝে ন্যায়পরায়ণতা আছে; এ ব্যাধি হিংসিতের যত ক্ষতি না করে, তার তুলনায় বেশী ক্ষতি করে হিংসুকের।

ফকীহ আবুল লাইস সামারকান্দী বলেন, হিংসুকের হিংসা হিংসিতের কাছে পৌছনোর পূর্বে হিংসুকের কাছে ৫টি শাস্তি এসে পৌঁছে;

(১) সে সতত দুশ্চিন্তা ও অন্তরজ্বালায় দগ্ধ হয়,

(২) এমন মসীবত আসে যাতে তার কোন সওয়াব হয় না,

(৩) লোকমাঝে তার এমন বদনাম হয় যার পর সে প্রশংসিত হয় না,

(৪) আল্লাহর নিকট ক্রোধভাজন হয় এবং

(৫) তাওফীকের দরজা তার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হিংসুকদের অবস্থা বাক্সে আবদ্ধ অনেক কাঁকড়ার মত। যাদের একজন ওপর দিয়ে উঠে পালাতে চাইলে নিচে থেকে অন্যজন তার পা ধরে টেনে নিচে নামিয়ে দেয়। ফলে কেউই উঠে পালাতে পারে না। হিংসুকরা নিজেরাও বেশিদূর যেতে পারে না, আর অপরকেও যেতে দেয় না।

আত্মীয়-স্বজনের হিংসার জ্বালা অধিক বেশী। ‘আন সতীনে নাড়ে চাড়ে, বোন সতীনে পুড়িয়ে মারে।’বোনে-বোনে, জায়ে-জায়ে, সতীনে-সতীনে, ভাবী-ননদে হিংসার আগুন দ্বিগুণ হয়ে জ্বলে ওঠে।

আর সে ক্ষেত্রে ভরা সংসারে ‘আপনার ছেলেটি খায় এতটি, বেড়ায় যেন ঠাকুরটি।

পরের ছেলেটা খায় এতটা, বেড়ায় যেন বাদরটা।’

তুমি অপরের মুখ দেখেই বুঝতে পারবে, ‘হিংসে হাসি চিমসে বাকা, কাল কুটকুট গরল মাখা।’

হিংসুকের হিংসায় ধৈর্য ধর বোনটি আমার! হিংসুক নিজেই ধ্বংস হবে। আর হ্যাঁ, তুমিও কারো প্রতি হিংসা করবে না। তোমার হৃদয় হবে প্রশস্ত। তুমি যে আদর্শ রমণী।

Close Menu