মুত্তাকী কাকে বলে?

মুত্তাকী কাকে বলে?

মুত্তাকী হতে হলে এই চারটা গুণ লাগবে। দিলে আল্লাহর খাশিয়াত (ভয়) থাকা আর ওটার প্রভাবে হাফীয হওয়া।

মুত্তাকীর চারটি গুন

  • আল্লাহর বিধানকে খেয়াল করে চলা।
  • বেদআত থেকে বেঁচে সুন্নাত মোতাবেক চলা।
  • গুনাহ হলে তওবা করা।
  • আল্লাহর দরবারে আল্লাহমুখি দিল নিয়ে হাযির হওয়া।

এই চারটা বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে মুত্তাকী বলা হবে।

ওই মুত্তাকী মুসলমানদেরকেই বলা হবে অদূরে বেহেশতের উপস্থিতির কথা। সেখানে নিশ্চিন্তে প্রবেশ করতে বলা হবে তাদেরকে। সেখান থেকে কেউ তাদের বের করবে না।

আল্লাহ্‌ তা’আলার বাণী

ادْخُلُوْهَا بِسَلٰمٍ ؕ ذٰلِكَ یَوْمُ الْخُلُوْدِ

(তরজমা) তোমরা সেখানে শান্তিতে প্রবেশ কর এবং এটিই চিরকালের আবাসস্থলে প্রবেশের দিন।(১)

জান্নাতে যারা যাবে চিরকাল থাকবে। সেখান থেকে কেউ তাদের বের করবে না।

মানুষের মনের চাওয়াও এক সময় শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহর নিআমতের শেষ নেই। একথাই বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে আরো বেশি থাকবে’।  তাকওয়ার এই সিফাতগুলো অবলম্বন করে আল্লাহ তাআলা আমাদের পূর্ণ মুত্তাকী হওয়ার তাওফীক দান করুন। (২)

মুত্তাকী সম্পর্কে কুরআনে ৫টি আয়াত রয়েছে

১. আল ফুরক্বান আয়াতঃ ৭৪

এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর। (Al-Furqaan: 74)

২. আল ফুরকান, আয়াত ১৫

বলুন এটা উত্তম, না চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার সুসংবাদ দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে? সেটা হবে তাদের প্রতিদান ও প্রত্যাবর্তন স্থান। (Al-Furqaan: 15)

৩. আত-তওবাহ, আয়াত ১২৩

হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন। (At-Tawba: 123)

৪. আত-তওবাহ, আয়াত ৩৬

নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন। (At-Tawba: 36)

৫. আল আরাফ, আয়াত ১২৮

মূসা বললেন তার কওমকে, সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে। (Al-A’raaf: 128)

তথ্যসূত্র

  • ১. সূরা ক্বাফ (৫০) : ৩৪
  • ২. অনুলিখনঃ শরীফ মুহাম্মদ

মুত্তাকী কাকে বলে? সংক্ষিপ্ত শেষ

Home | Facebook | Twitter | Youtube

Leave a Reply